ইতিহাস কথা বলে
"পাকিস্তানী বাহিনীর আত্মসমর্পনের দিন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মেজর হায়দার।১৯৭৫ সালে এই জাতীয় বীরকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছিলো সেটা সবার জানা দরকার"
তার ডাক নাম মুকতু।(জন্মঃ১২ জানুয়ারি ১৯৪২-মৃত্যুঃ৭ নভেম্বর ১৯৭৫) জন্মগ্রহন করেন কলকাতার ভবানীপুরে।পূর্ব পূরুষের আদি নিবাস এপার বাংলার কিশোরগঞ্জে।
আসন্ন বিজয়ের মাস ডিসেম্বর।১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকি হানাদার বাহিনী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আত্মসমর্পন করেন।পাকিস্তানি বাহিনীকে আত্মসমর্পণের জন্য সাথে নিয়ে হাঁটছেন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিনিধি(নীচের ছবিতে) সর্ববামে গোল চিহ্নিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর হায়দার বীর উত্তম।
মেজর হায়দার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে মেজর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।তার ছোট বোন সিতারা বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে সেনাবাহিনীর Army Medical এ লেফটেন্যান্ট হিসাবে যোগদান করেন।দুই ভাইবোন একসাথে ছুটিতে বাড়ি গেলে আমাদের দেশে তখন স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।ভাইবোন এক সাথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতার জন্য গঠিত সেক্টরের ২নং সেক্টরে যোগদান করেন।মেজর হায়দার ছিলেন ২নং সেক্টরের সেকেন্ড ইন কমান্ড।ছোট বোন সিতারা বেগম ২নং সেক্টরের অধীনে ৪৮০ বেডের হাসপাতালে কমান্ডিং অফিসার হিসাবে ছিলেন।সেখানে মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও ভারতীয় বাহিনীর সদস্যরা চিকিৎসা সেবা নিতো।
১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বর সকাল বেলা মেজর হায়দার বেঙ্গল রেজিমেন্টের অফিসার্স মেসে নাস্তা করছিলেন।এমন সময় মেজর জলিল ও মেজর আসাদের নেতৃত্বে একদল উছৃঙ্খল সেনা সদস্য কিল ঘুষি লাথি মারতে মারতে দোতলা থেকে নীচে নামিয়ে এনে স্বাধীনতার এই অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা মেজর হায়দার বীর উত্তমকে গুলি করে হত্যা করে।এই হত্যাকান্ডটি জেনারেল জিয়ার নির্দেশে বা ইশারায় সংঘটিত হয়েছিল।ইতিহাসও তাই বলে।
স্বাধীনতার পর দু'জন মহিলা বীর প্রতীক খেতাবে ভূষিত হোন তার মধ্যে ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম একজন। স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে অসামান্য অবদান রাখার জন্য সিতারা বেগমকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করা হয়।মেজর হায়দারকে হত্যার পর সিতার বেগম বীর প্রতীকের সাথে উছৃঙ্খল ও অশোভন আচরন করা হয়।যার ফলে শোকে ক্ষোভে দুঃখে অপমানে চাকুরি ছেড়ে দিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।এদের সবথেকে ছোট ভাই এটিএম সফদারও (জিতু) ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা।
জিয়া এমন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের একজন মেজর হায়দার বীর উত্তমকে হত্যা করেই শুধু ক্ষান্ত হননি।পাকি বর্বর বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঐতিহাসিক জায়গাটির স্মৃতি চিহ্নটুকু মুছে ফেলবার উদ্দেশে ওখানে করলেন শিশু পার্ক।
(সৌজন্যেঃ মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর )

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা