শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

প্রধানমন্ত্রী আত্মীয় মানেই কি মারাত্মক দাপুটে!

 

কে এই মাসুদ আলম? খাড়াসারবাসীদের প্রশ্ন

মঞ্জুর মোর্শেদ : আশুগঞ্জ থানা এলাকায় অবস্থিত তালশহর এ আই উচ্চবিদ্যালয়। আশির দশকের কথা, তখন স্কুলের হেডমাস্টার ছিলেন মহান শিক্ষাগুরু সৈয়দ আহমেদ স্যার। তাঁর এক‌ই স্ত্রীর পেটে জন্ম নেয় ১৯জন মেধাবী সন্তান। পিতা সৈয়দ আহমেদ স্যার তাঁর সেই ১৯ জন সন্তানকেই সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতোন মানুষ তৈরি করেছেন যা সমাজের জন্য একটা বিরল দৃষ্টান্ত। তৎকালীন সময়ে মাসুদ আলম ছিলেন সেই স্কুলের ছাত্র

ছবি: তালশহর এ আই উচ্চবিদ্যালয়; (সংগৃহীত)

ছাত্রজীবনে মাসুদ আলম প্রধানশিক্ষক সৈয়দ আহমেদ স্যারের ছোট মেয়ের প্রেমে পরে সেআমলে এমন সব কান্ড করে বসে যা তৎকালীন সমাজের জন্য ছিলো মারাত্মক অপরাধ মূলক কাজ। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে মাসুদকে স্কুলের অভিভাবক ও স্কুলবোর্ড বিচার করে তার মাথা ল্যাড়া করে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়।
তারপর অবশ্য মাসুদকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি, আজ সে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দেশের মস্ত অফিসার।

তবে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, “মাসুদের স্বভাব বদলায় নাই!”

সেই মাসুদ ওই তালশহর এ আই উচ্চবিদ্যালয় থেকেই মেট্রিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নিয়ে পাস করে একে একে তার শিক্ষাগত যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে থাকে। এখন সেই মাসুদ এবং তার ভাই এদেশের মস্ত অফিসার, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী’র পাশে থাকেন তারা।

ছবি: (সংগৃহীত)

জানা গেছে, তাদের দাদার আমলে জমিজমা নিয়ে বিরোধে বিশাল রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। তার দাদাকে সেই সংঘর্ষে বিরোধীরা পরাজিত করে গ্ৰাম ছাড়া করলে পরে তার দাদা ‌রাজু ফকির পরিবার পরিজন নিয়ে কয়েক গ্ৰাম ছেড়ে দূরে অন্য গ্ৰামে গিয়ে নিজেদের নতুন বসতভিটা রচনা করেন।

এলাকাবাসীর বর্ননা মতে, বড়ো হয়ে মস্ত অফিসার হয়ে, ক্ষমতা কুক্ষিগত করে এই মাসুদ-রুবেল ভ্রাত্বৃদ্ধয় দাদার আমলের সেই সংঘর্ষের প্রতিশোধের আগুন বুকে নিয়ে ফিরে আসে বাপদাদাদের পুরোনো এলাকা খাড়াসার গ্ৰামে এবং আসার পর থেকেই শুরু করে দেয় বিভিন্ন রকমের ক্ষমতায় শো’ডাউন আর প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টা! তাদের আচার আচরণ ও প্রচারের মাধ্যমেই এলাকার লোকজন ক্রমশ‌ই জানতে পারে তাদের দুই ভাইয়ের বিশাল সরকারী চাকুরী আর সীমাহীন ক্ষমতার কথা। চোখের সামনে দেখে তাদের ইশারায় কিভাবে থানা পুলিশ, উপজেলা ইউএনও, চেয়ারম্যান মেম্বার থেকে শুরু করে অনেককেই ওঠাবসা করে, যার প্রধান কারণ ‘ভয়!’ তারা নিজেদের সরকারী চাকুরীগত ক্ষমতাকে ব্যক্তিগত কাজে যেভাবে অপব্যবহার করে মূলত সেসব দেখেই সবাই তাদেরকে ভয় পাওয়া শুরু করে! পাশাপাশি কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশাল বাগান বাড়ি বানিয়ে দাদার নামে নামকরণ করেন ‘রাজু কটেজ’।

এলাকাবাসীর অনেকেই জানতে চান, এতো টাকা আসে কোথা থেকে? তাহলে আয়ের উৎস কি?

দুই ভাইয়ের এন‌এস‌আই-এর চাকরির বেতনের টাকা দিয়েই কি এতো কোটি কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি ঘর বানানো সম্ভব হয়? তাদের বিশাল পুকুরে ভাসার জন্য ইঞ্জিন লাগানো দুই-দুইটা স্পিডবোড‌ও সান বাঁধানো ঘাটে বাঁধা থাকে! সে এক এলাহী কান্ড, যা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিকদের পক্ষেই কেবল সম্ভব হতে পারে কিন্তু তারা তো সরকারি চাকরিজীবী!

ছবি: (সংগৃহীত)

এলাকাবাসীদের মধ্যে একাধিক শিক্ষিত জনদের প্রশ্ন: সরকারী গাড়ি নিয়ে যখন তখন তারা এলাকায় চলে আসে, টহল মারে, হাঁটে মাঠে ঘোরে, আলোচনা সভা করে, থানায় যায়, উপজেলায় যায়, এতো গ্যাস/তেলের টাকা কোথা থেকে আসে? তাছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে এভাবে সরকারী গাড়ি নিয়ে এলাকায় ঘোরাঘুরি করাটা কি করে বৈধতা পায়? এলাকায় এসে যখনতখন পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছোঁড়েন, পিস্তল, গুলি কি সরকারী? নাকি নিজেদের কেনা? কিন্তু কিভাবে কেনেন? তাদের কি এসবের হিসাব দিতে হয় না? -সাংবাদিকদের মাধ্যমে তারা এমন আরোও বেশকিছু অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবরে।

‘কোমরে পিস্তল নিয়ে এলাকায় যায় মাসুদ, দাপুটে এন‌এসআই অফিসার দুই ভাই। পিস্তল দিয়ে পুকুরের মাছেরে গুলি করে, গাছেরে গুলি করে, বস্তায় বালি ভরে গুলি করে একটা হুলুস্থুল কারবার শুরু করে দিয়েছে তারা’, আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলেন এলাকার একজন বৃদ্ধ দোকানী।

অতঃপর এলাকাবাসী একসময় তাদের কাছ থেকে জানতে পারে যে আশুগঞ্জের তালশহর এ আই উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মেয়ের সাথে প্রেমে ব্যর্থ হ‌লেও মাসুদ ওরফে মাসুদ আলম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাতনীকে বিয়ে করেছেন এবং একারণেই এখন তারা বিশাল দাপুটে!!

ছবি:‌ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও লাল পোষাকে মাসুদ আলমের স্ত্রী ও কথিত প্রধানমন্ত্রী’র নাতনি; (সংগৃহীত)

তার হুমকিমূলক কথার সুবাদে এলাকার লোকজন আরও জানতে পারে যে এদেশে তাদের ক্ষমতা অসীম, তারা সারা দেশে যা চায় তাই হয়!! তার ভাই রুবেল আলম‌ও এন‌এস‌আই-এর মস্ত অফিসার, তারা দেশের প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রী আশেপাশে থাকেন, বডিগার্ডের চাকরী করেন, প্রধানমন্ত্রীর আত্মিয়-স্বজন, অত‌এব বাঁচতে হলে বাধ্যতামূলক ভাবে তাদেরকে কুর্নিশ করে চলতেই হবে সারা বাংলাদেশের মানুষের, নয়তো বিপদ আছে কপালে। দেশের যেকোনো থানায় ফোন দিয়ে বললেই পুলিশ যেকোনো লোককে ধরে নিয়ে যাবে, তাতে কোনো কারণ লাগবে না। আর পুলিশ তাদের হুকুমের গোলাম, তার প্রমাণ দেখাতে তারা লোকের সামনে পুলিশের সাথে চাকর-বাকরের মতো আচরণ করে, যা দেখে গ্ৰামের মানুষ তাদেরকে ভুতের মতো ভয় করে চলে।

এভাবেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাড়াসার থানা এলাকায় এই মাসুদ-রুবেল ভ্রাত্বৃদ্বয় মস্ত কর্মকর্তা হয়ে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাতনিকে বিয়ে করেছেন বলে কথায় কথায় দাপট দেখিয়ে, সবাইকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করতে করতে হঠাৎ একদিন এলাকার লোকজন জড়ো করে ঘোষণা করে যে এলাকার ঐতিহ্যবাহী খাড়াসার দীঘির নাম বদল করে তার নাম রাখা হবে ‘রাজদীঘি’।

ভিডিও: ১৮’শ শতাব্দি মুক্ত জলাভূমি ‘খাড়াসার বিল’; ১৯১৮ ‘খাড়াসার দীঘি’ নামকরণ হয়; এটি মোট ৩৪টি দাগে ৬৫০ শতাংশ জায়গার উপর (সংগৃহীত)

উল্লেখ্য, মাসুদ আলমের দাদার নাম ছিলো রাজু ফকির এবং যেহেতু এখন তারা মস্ত অফিসার, শেখ হাসিনার নাতনি জামাই, তাই তারা শেখ পরিবারের সদস্য হয়েছেন আর সেই সুবাদে দীঘির নামকরণ তার দাদার নামে হবে! -এহেন দাবিটি তারা সবাইকে জানায় কিন্তু তাদের এই দাবিকে অমূলক ও স্বৈরাচারী মনোভাব বলে মনে করে বাঁধ সাধে এলাকাবাসী। শুরু হয়ে যায় তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার! এলাকার একাধিক লোকদের আগেই প্রকাশ্যে বলেছেন যে তারা চাইলেই যেকোনো থানা থেকে যখনতখন গায়েবী মামলার আসামি বানাতে পারেন যেকোনো কাউকেই!

যেই কথা সেই কাজ, বিরোধীতার জের ধরে এলাকার একাধিক লোকজনদের সে বিভিন্ন জেলার অজানা মামলায় ফাঁসিয়েছেন‌ও বটে, নিরপরাধী লোকেরা কোটি টাকার‌ ক্ষয়ক্ষতি করেও রক্ষা পায়নি মাসুদ আলমের রাহুগ্ৰাস থেকে! মনে প্রচন্ড ক্ষোভ নিয়ে ভুক্তভোগীরা এসব কথা জানান প্রতিবেদক দলের সদস্যদের।

ভিডিও: ভুক্তভোগী আহসান উল্লাহর বক্তব্য; (সংগৃহীত)

ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর সদস্য আহসান উল্লাহ ও একাধিক লোকজনের মতে, এন‌এস‌আই মাসুদের অনুচিত দাবী ও কর্মকাণ্ডে প্রতিবাদ জানালে তাদের সাথে শুরু করে দেয় প্রকাশ্য দ্বন্দ থেকে শক্রতা, মামলা, হামলা, সামাজিক ভাবে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা, প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করাসহ বিভিন্ন উপায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে বলে তারা জানিয়েছেন।

“তবুও আমরা আমাদের এলাকার ঐতিস্য রক্ষা করেছি টাকা পয়সা হারিয়ে, মিথ্যা মামলার আসামি হয়ে, প্রশাসনিক হয়রানি সহ তার ও তার ভাড়াটিয়া লোকজনের বিভিন্ন পাঁয়তারা ও সন্ত্রাসী মূলক আচরণ সহ্য করেও। দীঘির নাম আমাদের ঐতিহ্যবাহী খাড়াসার দীঘিই আছে এখন‌ও আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা হামলা করেও তার দাদার নামে দীঘির নাম না রাখতে পেরে মাসুদ আলম বাধ্য হয়ে নিজেই দীঘির পুরোনো নামে নাম “খাড়াসার দীঘি”, রেখেই তার ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন আনুষ্ঠানিকভাবে।

ছবি: খাড়াসার দীঘির ভিত্তি প্রস্তর; (সংগৃহীত)

মাসুদ আলম এখানেই দমে যায় না বরং রাগে ক্ষোভে চৌগুণ ফুঁসে উঠে আরো মারাত্মক রুপ ধারণ করে। এরপর সে আরোও দাপুটে হয়ে খাড়াসার জামে মসজিদ উন্নয়নের কাজের হর্তাকর্তা হয়ে যান জোর খাটিয়ে। তার কারণে মসজিদ কমিটির লোকজন টাকা-পয়সা, কাজ-কর্ম কোন কিছুর হিসাব নিতে পারা তো দূরের কথা, দেখা-শুনাও করতে পারেন না মসজিদের কাজ আসলে কেমন কি হচ্ছে? এদিকে শুরু হয়ে যায় মসজিদের উন্নয়নের টাকা নিয়ে দুর্নীতি।

তাদের প্রশ্নঃ মসজিদের কাজের সার্বিক দায়িত্বে, তত্ত্বাবধায়ণ, লোকজন, ব্যাংক, টাকা, হিসাব নিকাশ এসব কিছুই একজন সরকারী চাকুরে এ‌ন‌এস‌আই মাসুদের একনায়কতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রনে চলবে, কেউ তার ভয়ে কোনো কথা বলতে পারবে না, কথায় কথায় পিস্তল দেখাবে, একজন সরকারী কর্মকর্তার জন্য এসব কাজ কি বৈধ না জায়েজ!?

মসজিদের উন্নয়নের কাজ সরেজমিনে দেখে ও এলাকাবাসীর কথা শুনে হতবাক হতে হয়েছেন বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদকরা মত প্রকাশ করেন

সরেজমিনে জানতে গেলে একজন মুসুল্লি প্রশ্ন করে বলেন, “আল্লাহর ঘর মসজিদ বানাতে গিয়েও কি কোনো মানুষ কারচুপি করতে পারে? সে আবার কেমন মুসলিম যে মসজিদের টাকা অবৈধ পথে লুন্ঠন করতে পারে? সে কেমন বাঙ্গালী যে সাধারণ মানুষের জীবনের সকল শান্তি কেড়ে নিতে পারে ব্যক্তিগত খায়েশ মিটাতে? সে কেমন এন‌এস‌আই অফিসার যে তার চাকুরীর ক্ষমতা দেখায় নিরিহ মানুষের উপরে?”

তিনি আরও বলেন, “যে মানুষের কারণে আল্লাহর ঘর মসজিদের কাজে দুর্নীতি হতে পারে, সেই লোকের কাছে কি আমাদের দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীরা নিরাপদ হতে পারে? কি করে তা সম্ভব?” প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এসকল প্রশ্ন করে বলেন, “বঙ্গবন্ধুর আশেপাশেও যারা ছিলেন তারাও তো তাঁর কাছে এহেন অত্যন্ত বিশ্বস্ত চেহারা নিয়েই ঘুরতেন! কিন্তু ১৫ই আগষ্টের সেই কালো রাতে…”।

ভিডিও: খাড়াসার জামে মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিঞযোগে মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে মানববন্ধন; (সংগৃহীত)

মুসুল্লি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, খাড়াসার দিকে দৃষ্টি দিতে। তিনি মনে করেন, খাড়াসায় এন‌এস‌আই মাসুদ আলম, সরকারী কর্মকর্তা বলে তার দাপট দেখিয়ে সে যা করছে তাতে আল্লাহর গজব নাজিল হতে পারে দেশের উপরে। তাদের মসজিদ উন্নয়নের কোটি টাকার খবর জানেন না কেউই, সব কিছু জানেন এই এন‌এস‌আই মাসুদ আলম। তিনি তাই এন‌এস‌আই মাসুদ আলমের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আশু তদন্তের জন্য মিনতি জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

‘দাদা রাজু ফকিরের আমলে হয়েছিলো ট্যাডা, বল্লম, শুরকির যুদ্ধ এবার নাতি মাসুদ আলমরা শুরু করেছেন ভিন্ন মাত্রার সরকারী চাকুরীর ক্ষমতার যুদ্ধ। তারা বিভিন্ন জেলার অজানা মামলার ভৌতিক আসামি বানিয়ে হয়রানি করে, এটা তাদের সবচেয়ে বড়ো মারণাস্ত্র’, বলে উল্লেখ করেন ভুক্তভোগীরা।

আমাদের একদল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঘুরে এসে এঘটনার বিস্তারিত জানান। জানা যায় এলাকাবাসীর মতামত, মাসুদদের ক্ষমতার দাম্ভিকতার সকল তথ্য উপাত্ত। সেই সাথে জানা যায় তাদের দুর্নীতির চিত্র।

খারাসার দীঘির নাম ক্ষমতার অনৈতিক প্রভাবে বদলানোর চেষ্টা থেকে শুরু করে খারাসার জামে মসজিদের উন্নয়নের কোটি টাকা নিয়ে যেসব ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে, এলাকার লোকজন ন্যায্যকথা বললেই যেভাবে আন্তঃজেলার অজানা মামলার আসামি বানিয়ে হয়রানি করছে, যেভাবে পুলিশ প্রশাসনকে চড়িয়ে বেড়াচ্ছে তারা, কথায় কথায় পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করে দেবার হুমকি দেখিয়ে এলাকাজুড়ে যে একটা সাইলেন্ট প্যানিক সৃষ্টি করে রেখেছেন এ‌এনএসাই মাসুদ আলম সে বিষয়ে জানতে আমাদের তথ্য অনুসন্ধানী কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে একাধিক এলাকাবাসী নারীদের সাথেও কথা বলে জানতে পায় একই চিত্র।

সরেজমিনে খাড়াসারে মিলেছে একাধিক নারী ভুক্তভোগীরাও। তারা সকলেই মাসুদের জুলুমের শিকার বলে তারা জানান। তাদের সচ্ছল পরিবার আজ সর্বশান্ত, কয়েকজন জানায় তাদের স্বামীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে কিভাবে মাসুদ আলম হয়রানিতে ফেলে সুখের সংসার তছনছ করে দিয়েছে তার বর্ননা। তাদের স্বামীরা মিথ্যা মামলার হামলা ভয়ে ঘরে নেই কিন্তু থেকে নেই তাদের উপরে মাসুদের টাকায় লালিত সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য।

আমাদের অনুসন্ধানী দল যখন তাদের সাথে কথা বলছিলেন তখনও তাদেরকে চোখে চোখে রেখে পাহারা দিচ্ছিলেন মাসুদের লোকেরা। তারা ইশারা ইঙ্গিতে অনুসন্ধানী দলের সদস্যের বারবার তাই দেখাচ্ছিলেন বলে তারা জানান!

ডিভিও: একজন নারী ভুক্তভোগী মাসুদ আলমের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের সময় তার কথা বলেন; (সংগৃহীত)

আশির দশকের সেই তালশহর এ আই উচ্চবিদ্যালয়ের প্রেমে ব্যর্থ হ‌ওয়া ছেলে মাসুদ আলমের দীর্ঘ ৩৫ বছরের ইতিহাস কেবলই অত্যাচার, এলাকাবাসীর প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণের বহিঃপ্রকাশ‌ই মিলেছে খাড়াসারবাসীদের সাক্ষ্যমতে।

আমরা এই মাসুদ আলমের আদ্যপান্ত মোট তিনটি পর্বে আপনাদের সামনে হাজির করবো আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে তৈরি করা প্রতিবেদনে।

উল্লেখ্য, এলাকার ভুক্তভোগীরা চায় গণমাধ্যমে তাদের সকল বক্তব্য প্রকাশিত হোক, তারা চায়, সারা বাংলাদেশের মানুষ সবকিছু জানুক, সবকিছু জানুক স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও, তাদের কথাগুলো শুনুন মাসুদ আলম ও তার ভাই সহ পালিত লোকজনেরা এবং এবিষয়ে তাদের যদি কোন মতপার্থক্য থেকে থাকে তাও তারা বলুক দেশবাসীর সামনে। তারপর দেশবাসী সবকিছু শুনে বিচার বিশ্লেষণ করে বলুক, কোনটা ন্যায় আর কোনটা অন্যায়।

তাদের প্রশ্নঃ

আসলে কে এই মাসুদ আলম? সে কি সত্যি সত্যি প্রধানমন্ত্রীর নাতনি জামাই? প্রধানমন্ত্রী নাতনি জামাই হলেই কি যা খুশি তাই করা যায়? লেখাপড়া করে মস্ত কর্মকর্তা হয়ে সরকারি অস্ত্র পেলেই কি তা নিয়ে এলাকায় এসে, তা দেখিয়ে মানুষকে ভয় ভীতি দেখানো যায়? এদিকে-সেদিন গোলাগুলি করে আতংক সৃষ্টি করা যায়? সরকারী কর্মকর্তা হলেই কি তার প্রভাব খাটিয়ে এলাকাবাসীকে প্রশাসনিক হয়রানি করা য়ায়? জুলুম করা যায়? মসজিদের উন্নয়নের টাকা হাতিয়ে নিয়ে হজম করা যায়? ইত্যাদি আরো অনেক প্রশ্ন ও তথ্য-উপাত্ত তারা জনসম্মুখে তুলে ধরতে চায়।

আমরা ধারাবাহিক ভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খারাসারের এলাকাবাসীর মতে খাড়াসারের সন্তান মস্ত বড় সরকারী চাকুরে একজন মাসুদ আলমের এলাকায় অনৈতিক প্রভাব খাটানো আর দুর্নীতির চরম চিত্র অচিরেই তুলে ধরবো নিউজ আকারে, বিস্তারিত জানতে আমাদের সাথেই থাকুন, চোখ রাখুন….

(চলবে…)

[পরবর্তী পর্বে থাকবে মাসুদ আলমের বাবার ইতিহাস। রাজু ফকিরের ছেলে আব্দুর র‌উফের তিন ছেলে, মাসুম, মাহবুব রুবেল। মাসুদ, রুবেল এসনএস‌আই’তে কর্মরত আর মাহবুব নরসিংদীতে কাদের মোল্লার একটা গার্মেন্টসের শ্রমিকের কাজে নিয়োজিত। এই তিন সন্তানের পিতা মাসুদ আলমের বাবা‌ আব্দুর র‌উফের সম্পর্কে এলাকাবাসীর মতামত ও তথ্য নিয়ে আমরা হাজির হবো(২য় পর্বে)।]

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ