বহুল প্রত্যাশিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার প্রথম দফায় ৩ হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গার দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশকে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে মিয়ানমার। এখন এসব রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু হয়েছে।
তবে রোহিঙ্গারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নাগরিকত্ব প্রদান, ভিটেবাড়ি ও জমিজমা ফেরত, আকিয়াব জেলায় আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের নিজ বাড়িতে ফেরত, কারাগারে বন্দিদের মুক্তি, হত্যা-ধর্ষণের বিচার, অবাধ চলাফেরার নিশ্চয়তা, নিরাপত্তা প্রদানসহ একাধিক শর্ত পূরণ ছাড়া তারা দেশে ফিরে যেতে রাজি নয়। ফলে আজকের নির্ধারিত প্রত্যাবাসন শুরু হবে কিনা সেটি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এর মধ্যেই প্রত্যাবাসনের তালিকায় থাকা কিছু রোহিঙ্গা গতকাল বুধবার ও তার আগের দিন ২৬ নম্বর ক্যাম্পের সিআইসি (ক্যাম্প ইনচার্জ) অফিসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন। এ সময় নিজেদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রত্যাবাসনের তালিকাভুক্ত রোহিঙ্গারা টেকনাফের চারটি ক্যাম্পে বসবাস করছে। এ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সফল করতে এরই মধ্যে সব রকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে বাংলাদেশ। পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা এখন কক্সবাজার অবস্থান করছেন। বান্দরবানের ঘুমধুম ট্রানজিট পয়েন্ট প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি ৫টি বাস, ২টি ট্রাক আজ সকাল থেকে টেকনাফের
শালবন ক্যাম্পে থাকবে। এ ছাড়া প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে নিরাপদ করতে ক্যাম্প ও সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে; প্রস্তুত আছে মেডিক্যাল টিমও। আজ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো শুরু হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে প্রত্যাবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, তালিকায় থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। আমরা আমাদের দিক থেকে প্রস্তুত। কিন্তু গত বছরেও সব কিছু প্রস্তুত থাকার পরও রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের কারণে প্রত্যাবাসন ভ-ুল হয়ে যায়। তাই আমরা সতর্ক রয়েছি।

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা