কুমিল্লার হোমনায় নানা বাড়ি বেড়াতে এসে ক’রোনা ভা’ইরাসের উপসর্গ নিয়ে সাড়ে ৪ বছরের ফুটফুটে এক কন্যা শি’শুর মৃ’ত্যু হয়েছে। শুক্রবার ভোরে তার মৃ’ত্যু হয়।
তার করুণ মৃ’ত্যুতে এক আবেগ ঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন হোমনা উপজে’লা নির্বাহী অফিসার তাপ্তি চাকমা। তার দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসটি নিচে পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো-
”আজ সকালটাই শুরু হয়েছে খারাপ খবর দিয়ে। তাই মনটা সারাদিন ভারাক্রান্ত ছিল। ছোট্ট অথৈ এর মায়াভরা মুখ বার বার চোখে ভাসছে, আর নিজের সন্তানের সুরক্ষা নিয়ে উৎকন্ঠা বোধ করছি।
কর্মজীবী মা হিসেবে নিজের দুই বছরের বাচ্চাকে রেখে সবসময় অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। কিন্তু দিন শেষে অন্য সব নারীর মতো আমিও একজন মা এবং মায়ের দায়িত্ব শুধু মা-ই বোঝে।
তাই দিনশেষে সন্তানকে আদর করতে গেলেও এক অজানা আ’তঙ্ক মাথায় ভর করে। আমার দ্বারা সে আ’ক্রান্ত হবে না তো? যে কথাটা না বললেই নয়, আজ যে বাচ্চাটি মা’রা গেছে তার জানাজা পড়াতে রাজি হননি স্থানীয় ই’মামরা।
পাড়া প্রতিবেশীরাও আসেনি জা’নাজাতে। এমনকি লা’শ রাখার জন্য কোন খাটিয়া পাওয়া যায়নি। এটা খুবই দুঃ’খজনক। সকাল ৬ টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত স্থানীয়রা এগিয়ে না আসায় চেয়ারম্যান, ই’মাম, ডাক্তার, হাসপাতাল সবখানে যোগাযোগ করার পর প্রশা’সনের উদ্যোগে দা’ফন কমিটিকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই মাথাভা’ঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে, তার সর্বাত্মক সহযোগিতায় দা’ফন কাজ সম্পন্ন হয়। ধন্যবাদ জানাই উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক চিকিৎসক ড. শহিদুল্লাহসহ রাতে ডিউটিরত সকল ডাক্তারকে যারা অথৈকে বাঁ’চানোর সর্বাত্মক চে’ষ্টা করেছেন।
আজকে যারা এগিয়ে আসেননি তাদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনাদের কি মৃ’ত্যু হবে না? আপনার প্রিয়জন কি মা’রা যাবে না? নাকি আপনারা অমর? সামনে ভবিষ্যতে অবস্থা আরও খা’রাপ হতে পারে।
১. চেয়ারম্যান এর তত্বাবধানে প্রত্যেক ইউনিয়ন এ অন্তত একটি খাটিয়া প্রস্তুত রাখতে হবে।
২.প্রত্যেক ইউনিয়ন এর চেয়ারম্যানবৃন্দ এলাকাবাসীর সাথে আলোচনাক্রমে একটি কমন ক’বরস্থান নির্বাচন করে রাখুন।
৩. ইতোমধ্যে দা’ফন ও সৎকার কমিটি করা হয়েছে, কিন্তু কেউ যদি সেচ্ছাসেবী হিসেবে মৃ’তদেহ গোসল এবং দা’ফন/ সৎকারে উৎসাহিত হলে তাদের নাম, ফোন নাম্বার দিন।(হিন্দু + মুসলিম) ইউনিয়নভিত্তিক।।
0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা