দুদিন যাবৎ না খেয়ে, ঘরে রান্না করার মতোও ছিল না একটি দানা। ওদিকে কোলে তার ১৮ মাসের সন্তান। তারও খাবার শেষ। ত্রানের জন্য সে ঘুরেছে অনেক দ্বারে কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি, মেলেনি কিছুই।
অভাবের কারণে গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ থেকে চার মাস আগ মিরপুরে আসেন। সেখান থেকে দেড় মাস আগে সাভারের ব্যাংক কলোনীর নানু মিয়ার টিনশেড বাড়িতে ঘর ভাড়া নেন তারা। এলাকায় নতুন আসায় কেউ চেনে না দেখে ত্রাণও দেননি।
সাথী বেগম বলেন, দেড় মাস আগে স্বামী মানিকের সঙ্গে সাভারের ব্যাংক কলোনী এলাকায় টিনশেডের ভাড়া বাড়িতে ওঠেন। তার স্বামী পেশায় দিনমজুর। তিনি নিজেও বাসা বাড়িতে কাজ করেন। তবে করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বাসার মালিক কাজে যেতে নিষেধ করে দিয়েছেন। তার স্বামীও কোনো কাজ না পেয়ে বাড়িতে বেকার হয়ে বসে আছেন। গত দুই দিন যাবৎ ঘরের সব খাবারও শেষ। ১৮ মাসের শিশু সন্তানেরও কোনো খাবার নেই। এখানে নতুন এসেছেন, কাউকে তেমন চেনেন না। কোথায় ত্রাণ দেয় সেটাও জানা নেই।
প্রতিবেশীর কাছ থেকে খবর পেয়ে দুই জায়গায় সহযোগিতার জন্য গিয়েছিলেন। তবে তাকে চেনে না বলে ত্রাণ দেয়নি কেউ। সহায়তা খুঁজতে গিয়ে এক হকারের (চুল ক্রেতা) সঙ্গে পরিচয় হয়। মাথার চুল কেটে দিলে ৪০০ টাকা দেয়া যেতে পারে জানালে চুল কেটে দেন তিনি। তবে চুল হাতে পাওয়ার পর হকার তাকে ১৮০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে যায়। ওই টাকা দিয়ে শিশুর জন্য দুধ ও এক কেজি চাল কিনেছেন বলে জানান সাথী বেগম।
তিনি আরও বলেন, করোনায় তাদের সব কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। বাড়ির মালিক এখানে থাকে না। তিনি মাসে একবার আসেন। এখানে নতুন আসার কারণে তেমন কারো সঙ্গে পরিচয়ও নেই। প্রতিবেশী ভাড়াটিয়ারাও বাসাবাড়িতে কাজ করেন তাদেরও একই অবস্থা।
প্রতিবেশী রিকশাচালক সুমন বলেন, লকডাউন হয়ে যাওয়ার পর সড়কে কোনো যাত্রী নেই। তারাও কোনোরকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ওই নারীকে সহযোগিতা করার সামর্থ্য তার নেই।
সাভার উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে অত্যন্ত দুঃখজনক ও মানবিক ব্যাপার। তিনি খুব দ্রুত ওই পরিবারে ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবেন।
সাভার পৌর মেয়র আব্দুল গনি বলেন, তিনি নিজেও পৌর এলাকায় অনেক জায়গায় ত্রাণ বিতরণ করেছেন। তবে ওই নারীর চুল কেটে বিক্রি করার বিষয়ে তিনি জানেন না।

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা