শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

ডঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডঃ বিজন দু'জনার দুইমত পোষণ!





গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট স্বাস্থ্য অধিদফতর গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অধিদফতরের কর্মকর্তাদের আচরণে ‘ঘুষ’ লেনদেনের ইঙ্গিত লক্ষ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা। স্বাস্থ্য অধিদফতর সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থে কাজ করছে।

সংবাদ সম্মেলনে আনা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রেরেই বিজ্ঞানী এবং করোনাভাইরাস শনাক্তের পদ্ধতির উদ্ভাবক দলের প্রধান ড. বিজন কুমার শীল। তিনি বলছেন, সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাফরুল্লাহর পাশে থাকলেও তার বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন।



রোববার (২৬ এপ্রিল) রাতে এ বিষয়ে কথা বলেন ড. বিজন কুমার শীলের। এদিন বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ তুলে ধরেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

তিনি বলেন, তারা (স্বাস্থ্য অধিদফতর) আমাদের কনট্যাক্ট আফটার রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) করিয়ে আনতে বলেছে কিন্তু কোথা থেকে সিআরও করিয়ে আনব, সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। ডা. জাফরুল্লাহর অভিযোগ, কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থে কাজ করার কারণে অধিদফতর তাদের কিট গ্রহণ করছে না।

ডা. জাফরুল্লাহর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর তো স্যাম্পল নেয় না। তারা বলে দেবে সেই স্যাম্পল কোথায় দিতে হবে। সে বিষয়েও এরই মধ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক একটি ইঙ্গিত দিয়েছেন। আশা করছি আগামীকালের মধ্যে আরও বিস্তৃত কিছু পাব। আমাদের ধারণা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এটা করা হতে পারে। এছাড়াও আরও দুইটি স্থানেও হতে পারে।

ড. বিজন বলেন, টেস্টের জন্য যে লজিস্টিক সাপোর্ট লাগবে, তা আমরা দিয়ে দেবো। বিএসএমএমইউতে (বা যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলবে) যিনি প্রজেক্ট ইনচার্জ (পিআই) হবেন, তিনি একটি বাজেট জানাবেন। সেটা গণস্বাস্থ্যই দেবে। গবেষণায় তো পয়সাপাতি লাগেই। লজিস্টিক সাপোর্টসহ সেটা আমরাই দেবো।

ডা. জাফরুল্লাহ ‘ঘুষ’ নিয়ে যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ড. বিজন বলেন,
‘না না, অনেক সময় হয়তো বলে ফেলেন। এখানে তেমন কিছুই লাগবে না।
’ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের বিরুদ্ধে নিজে কিছুই বলেননি দাবি করে ড. বিজন বলেন, ‘আমি তাদের বিরুদ্ধে কিছুই বলিনি। প্রেস কনফারেন্সে আমি ছিলাম কিন্তু কিছু বলিনি। বিষয়গুলো আমার জানা আছে। আন্তর্জাতিকভাবে আমি অনেক প্রজেক্ট ডিল করেছি। তবে পরিস্থিতি যেহেতু এখন স্বাভাবিক হয়ে আসছে, তাই এগুলো নিয়ে বেশি কথাবার্তা না বলাই ভালো।’




তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কিন্তু সবাই সাহায্য করছে। প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা সহযোগিতা পাচ্ছি। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরও আমাদের অনেক সহযোগিতা করেছে। তারা অনুমতি দিয়েছেন বলেই রিএজেন্ট আনতে পেরেছি। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তবে বিষয়টি একটু ত্বরান্বিত করলে ভালো হয়।’এসময় প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে সময়ের দাবি অনুযায়ী কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালকের প্রতি আহ্বান জানান ড. বিজন কুমার শীল। তিনি বলেন, ‘আশা করি উনি আমাদের ভুল বুঝবেন না।’
সিআরও বিষয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই বিজ্ঞানী বলেন, বিএসএমএমইউ বাংলাদেশের একটি নামকরা প্রতিষ্ঠান। এটি নিয়ে কোনো সংশয় নেই। সেখানে যোগ্য ব্যক্তি আছেন, ল্যাবরেটরি আছে। সেখানে সিআরও হলে আমার ধারণা কারো কোনো দ্বিমত থাকবে না। অনেক সময় দেখা যায়, যেখানে ট্রায়াল দিতে গেলাম সেখানে কিছু নেই। দেশের নামকরা কোনো প্রতিষ্ঠান, যেখানে ল্যাবরেটরি ও অভিজ্ঞ জনবলসহ সব সুবিধা আছে, এরকম কোনো প্রতিষ্ঠানে সিআরও হলে সেটা সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হবে। তারা যদি এই সিআরও’র জন্য দায়িত্ব নেয়, কাজটা ত্বরান্বিত হতে পারে। যেহেতু এটি কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, তাই এক্ষেত্রে আসলে সবার সহযোগিতাটাই প্রয়োজন। কখনো কারও সঙ্গে কথাবার্তায় মনোমালিন্য হতে পারে। সেটাকে ভিন্নভাবে না নেওয়াই ভালো। ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক যেমন দেশের জন্য কাজ করছেন, ঠিক একইভাবে আমরাও কাজ করছি। তাই সবাই সবাইকে সাহায্য করে দেশকে সামনে নিয়ে যাব, -এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে গণস্বাস্থ্যের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময় অন্য তিন জনকে বসিয়ে রাখার বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাহ যে অভিযোগ এনেছেন, সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষক ড. ফিরোজ বলেন,

‘আমরা যখন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালকের (ডিজি) রুমে যাই, সেখানে আইসিডিডিআরবি’র ড. ফেরদৌসী কাদরী ও ড. ওয়াসিফ ছিলেন। আইসিডিডিআরবিতে তারা আমাদের সহকর্মী ছিলেন।’ সিআরও’র জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের খরচ অনুমতির অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হয়, অর্থাৎ করোনা ডট ব্লোট কিট পরীক্ষার সিআরও’র টাকা-পয়সাও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে বহন করতে হবে বলে জানান ড. ফিরোজ।

ডা. জাফরুল্লাহ’র অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সেগুলোকে ‘মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করলেন ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন,

‘উনি চোখে মুখে শুধু মিথ্যা কথাই বলে গেছেন। কাজেই এ বিষয়ে আর কথাই বলতে চাই না। আজকে তাদের দু’জন এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে সোহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আমাদের বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি। কিভাবে তাদের কাজ খুব ভালোভাবে হবে, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।’


মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেন,
‘আলোচনা শেষে হাসিমুখেই তারা আমাদের এখান থেকে চলে গেছেন। তখন সাড়ে ৩টার মতো বাজে। এরপর ৪টার সময় সংবাদ সম্মেলন করেন ডা. জাফরুল্লাহ। সেখানে যা বললেন, সবই মিথ্যাচার। এটা দুর্ভাগ্যজনক। আমরা চাইছি সমাধানের দিকে যেতে কিন্তু তিনি এটা চাইছেন না। উনি কথায় কথায় সংবাদ সম্মেলন করেন, আর সেখানে মিথ্যাচার করেন।’ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘যদি একটি ভালো কিট আসে, তবে তাতে তো দেশেরই ভালো কিন্তু উনি আদৌ সেটা চাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে আসলে আমি এখন সন্দিহান।’ সিআরও ছাড়াই কিট পরীক্ষাকে ডা. জাফরুল্লাহ কিভাবে সফল দাবি করছেন, সেটি নিজেই বুঝতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেন মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান।





পিসিআর পদ্ধতিতে ল্যাবে কোভিড-১৯ টেস্ট করতে যেখানে সময় লাগে দুদিন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কিটে সেখানে সময় লাগবে মাত্র পাঁচ মিনিট। টেস্টের ফলও আসবে শতভাগ নির্ভুল,- এমনটিই দাবি করেছেন ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ প্রকল্পের বিজ্ঞানীরা।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের গেরিলা কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার বীর বিক্রম মিলনায়তনে আয়োজিত কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তারা এ দাবি করেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা, কিট উদ্ভাবনের প্রধান গবেষক গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড.বিজন কুমার শীল, গবেষণা প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার কিট সম্পর্কে নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।


ড. বিজন কুমার শীল বলেন,
‘আমাদের টেস্ট কিটে আমরা দুই ধরনের ফেজ ডেভেলপ করেছি। একটা হলো করোনা ভাইরাসের অ্যান্টিজেন ডিটেকশন। আরেকটি হচ্ছে অ্যান্টিবডি ডিটেকশন। প্রত্যেকটা ইনফিউশনে দুটি ডোর থাকে। একটি হচ্ছে অ্যান্টিজেন বা ভাইরাল ফেজ আরেকটি হলো অ্যান্টিবডি।’

‘আমাদের সবচেয়ে বড় অ্যাচিভমেন্ট হলো- আমরা দুটি ফেজ একত্রিত করতে পেরেছি। ফলে আমরা শতভাগ রোগীকে শনাক্ত করতে পারব। এই টেস্ট খুব সহজ এবং স্বল্প সময়ে করা যাবে। যেখানে পিসিআর করতে দুদিন সময় লাগে সেখানে আমাদের এই কিটে টেস্ট করতে মাত্র ৫ মিনিট সময় লাগবে‘’,
কিটের সহজ ব্যবহার পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, এক সেট কিট বক্সে একটা ডিভাইস এবং দুই ধরনের বাফার থাকবে। ওই ডিভাইসের ভেতরে ক্যাপসারিন রিএজেন্ট দেওয়া আছে। ডিভাইসে প্রথমে একটি বাফার দুই ড্রপ দেওয়ার পরে সাসপেক্টেড স্যাম্পল দিতে হবে। ডিভাইস সেটি চুষে নেওয়ার পর আবার দুই ড্রপ বাফার দিতে হবে। এরপর আরেক ধরনের বাফার (যেটা মূলত গোল্ডপার্টিক্যাল) দুই ড্রপ দিতে হবে। যদি কোভিড-১৯ পজেটিভ হয়, তাহেল দুটি ডট আসবে। আর যদি নেগেটিভ হয়, তাহলে একটি ডট আসবে। সবকাজ সম্পন্ন করতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ ৫ মিনিট।

ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ‘এই টেস্টের পটভূমি যদি বলি এটি শুরু হয়েছিল সিঙ্গাপুরে। ২০০৩ সালে আমি যখন সার্স ভাইরাস নিয়ে কাজ করি, তখন ডট ব্লোট ডেভেলপ করি। তখন এর সময় ছিল ১৫ মিনিট। যখন এটাকে ডিভাইসে নিয়ে আসি, তখন এর সময় চলে আস পাঁচ মিনেটে।’

কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আরেকজন গবেষক বলেন, ‘টেস্ট কিট নিয়ে বিতর্ক অনেক আছে। আমরা যারা চিকিৎসা বিজ্ঞানী, বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করছি তারা নানারকম বিতর্ক করে যাচ্ছি। পিসিআর পদ্ধতি ভালো। সেলুলজিক্যাল পদ্ধতি খারাপ!’

‘আমাদের বক্তব্য হলো, দেশের অর্থনীতিকে যদি রক্ষা করতে হয়, তাহলে এত লম্বা সময় ধরে, এত টাকা খরচ করে পিসিআর পদ্ধতিতে টেস্ট করা যাবে না। আমাদেরকে খুব সহজ পদ্ধতিতে যেতে হবে। ধরুন আমরা একটা ইন্ডাস্ট্রি খুলব। ইন্ডাস্ট্রিতে দুই হাজার লোক আছে। আমরা সেখানে কিট নিয়ে যাব। একদিনের মধ্যে টেস্ট করে বলে দেব, এখানে কে কে ইনফেক্টেড আছে’,- বলেন ওই গবেষক।

তিনি বলেন, ‘এয়ারপোর্ট বা গাবতলীতে চেকপোস্ট বসাতে গেলে সেখানে পিসিআর নেওয়া যাবে না। কারণ, পিসিআর পদ্ধতিতে কাজ টেস্ট করতে হলে বড় ল্যাবরেটরি সেটআপ দিতে হয়। সহজ পদ্ধতিই আমাদের নিতে হবে। এই কারণেই ডব্লিউএইচও’, ‘সিডিসি’ সেলুলজিক্যাল টেস্টে যাওয়ার কথা বলছে। এখন কথা হলো- এই টেস্টে সেনসিটিবিটি কতটা হবে? এটা আসলে নির্ভর করছে বিজ্ঞানীরা কীভাবে বিষয়টি ডিজাইন করছে, সেটির ওপর। আমরা সেটি করতে সমর্থ হয়েছি।’





সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কিট হস্তান্তর করল গণস্বাস্থ্য

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ সংক্রমণ নির্ণয়ক জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট সরকারের চুড়ান্ত অনুমোদনের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে ধানমন্ডিকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ‘গেরিলা কমান্ডার মেজর এ টি এম হায়দার বীর উত্তম মিলনায়তনে’ মার্কিন সিভিসি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধির কাছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা এ কিট হস্তান্তর করেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, কিট উদ্ভাবনের প্রধান গবেষক গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল, গবেষণা দলের সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকারসহ অন্যান্য গবেষক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কিট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় আগামীকাল তাদের কাছে এ কিট পৌঁছে দেওয়া হবে। এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কিট পরীক্ষা ও মতামতের জন্য নমুনা প্রদান করা হবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আশা করছি সরকার এ কিট যাচাই বাছাই করে খুব দ্রুত অনুমোদন দেবে। অনুমোদন প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন শুরু করবো। পর্যায়ক্রমে এক লাখ কিট দেওয়া সম্ভব হবে।’

প্রস্তুত করা কিট পরীক্ষায় সফল দাবি করে গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীল বলেন, ‘এন্টিবডি ও এন্টিজেন এ দুটির সমন্বয় করে কিট তৈরি করা হয়েছে। এটি পাঁচ মিনিটের মধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে করোনা রোগী শনাক্ত করতে পারবে।’

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে এই কিট উদ্ভাবন করেন একদল বিজ্ঞানী।

২০০৩ সালে যখন সার্স ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল তখন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল সিঙ্গাপুর গবেষণাগারে কয়েকজন সহকারীকে নিয়ে সার্স ভাইরাস দ্রুত নির্ণয়ের পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

ড. বিজন কুমার শীলের নেতৃত্বে অন্য গবেষকরা হলেন ড.ফিরোজ আহমেদ, ড. নিহাদ আদনান, ড. মো. রাইদ জমিরুদ্দিন, ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার।


গণস্বাস্থ্যের কিট পরীক্ষার খরচ দেবে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন

নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) উপস্থিতি শনাক্ত করতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত ‘জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লোট’ কিট অনুমোদনের আগে রয়েছে কন্ট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) ধাপে। এ পর্যায়ে এই কিট পরীক্ষা (ইভ্যালুয়েশন) বা সিআরও করতে যে খরচ প্রয়োজন হবে, তা গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে দেবে সুচিন্তা ফাউন্ডেশন। এ বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠান ঐকমত্যেও এসেছে।

সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী দু’জনেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলে মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেন, এরই মধ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। অধিদফতর আমাকে জানিয়েছে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র যদি চিঠি দেয়, তবে সঙ্গে সঙ্গেই সিআরও’র ব্যবস্থা করে দেবেন। যেকোনো গবেষণার সিআরও’র জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের খরচ অনুমতির অপেক্ষায় থাকা প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে ড. জাফরুল্লাহ’র গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের যে ডট ব্লোট কিট, সেটি পরীক্ষার সিআরও’র আর্থিক বিষয় আমরা সুচিন্তা ফাউন্ডেশন থেকে জোগাড় করে দেবো।

সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, বাংলাদেশে এই গবেষণামূলক কাজগুলোর জন্য সিআরও হিসেবে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি) একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। তাদের গবেষণা ও মান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এক্ষেত্রে যদি গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবনটি আইসিডিডিআর,বিতে মূল্যায়ন ও ট্রায়াল করা হয়, সেটা দেশের মানুষেরই উপকারে আসবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ হয়েছে জানিয়ে এ আরাফাত বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে। তাকে আমি এ বিষয়ে জানিয়েছি। তিনি রাজি হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গেও। তিনি বলেন, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাতের আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আর্থিক সাহায্যের বিষয়টি বলেছেন। সিআরও হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’তে পরীক্ষার বিষয়েও কোনো আপত্তি নেই বলে জানান ড. জাফরুল্লাহ।

এর আগে ডা. জাফরুল্লাহ অভিযোগ করেছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের কিটের অনুমোদনের জন্য সিআরও করিয়ে আনতে বললেও তার জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কথা স্পষ্ট করে বলেনি। কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থে কাজ করার কারণে অধিদফতর তাদের কিট গ্রহণ করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে ডা. জাফরুল্লাহর এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন কোভিড-১৯ ডট ব্লোট কিটের উদ্ভাবক ড. বিজন কুমার শীল।


(তথ্যসূত্র: সারাবাংলা)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ