শ্রমিকদের অভিযোগ, এই দুর্দিনে নেতাদের কেউই তাদের পাশে নেই। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছেন না তারা। তবে এই দুই নেতার নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলো বলছে, তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রমিকদের সহযোগিতা করে আসছেন।
জানা গেছে, বর্তমানে দেশের পরিবহন সেক্টরের সঙ্গে ৭০ লাখের বেশি শ্রমিকের রুটি রোজগার জড়িত। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রভাবে পরিবহন চলাচল বন্ধ ঘোষণার পর এসব শ্রমিক কার্যত বেকার হয়ে পড়েছেন। শ্রমিকরা বলছেন, তাদের কল্যাণ তহবিলের নামে প্রতিদিন যে অর্থ আদায় করা হয়, সেই টাকার সামান্য অংশও যদি তাদের জন্য ব্যয় করা হতো, তাহলে শ্রমিকরা উপকৃত হতো।
পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত দেশের প্রতিটি যানবাহন থেকে দৈনিক ঘোষিত ৭০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। কিন্তু মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে আদায় করা এই টাকা শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয় হচ্ছে না। যদিও সংগঠনগুলোর দাবি, আদায় করা তহবিল থেকে এখন শ্রমিকদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
রাজধানীতে দৈনিক ভিত্তিতে একাধিক পরিবহনে চাকরি করতেন গাড়িচালক ইসরাফিল হোসেন। তিনি জানান, ‘গত ২৬ মার্চ থেকে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে তার চাকরি নেই। কোনও মালিক ও শ্রমিক সংগঠন তার খোঁজ-খবর নেয়নি। এ কারণে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে এখন তিনি বিপদে রয়েছেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. হানিফ খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে কল্যাণ তহবিলের নামে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো হাজার হাজার কোটি টাকা চাঁদা আদায় করেছে। কিন্তু আজ করোনার এই দুর্দিনে তারা শ্রমিকদের পাশে নেই। সরকারের উচিত হবে এসব নেতার সম্পদের হিসাব নিয়ে এই টাকা কোথায় গিয়েছে তা বের করা।’
পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার সংগঠন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সারা দেশের শ্রমিকরা এখন খুবই কষ্টে রয়েছে। আমরা বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনের কাছে চাই এক টাকা, তারা দেয় চার পয়সা। প্রধানমন্ত্রী প্রথমদিকে বলেছিলেন শ্রমিকদের ত্রাণ দেবেন। তখন কিছু কিছু জেলার প্রশাসন থেকে ১ হাজার জনের ত্রাণ চাইলে তারা ৩০০ জনের ত্রাণ দিতো। এখন তাও দেওয়া হয় না।’

1 মন্তব্যসমূহ
শিয়াদের কাছে মুরগী আঁধি দিয়ে রাখলে যা হয় তাই হয়েছে।
উত্তরমুছুনDo good not be good.
- সাফকথা