শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

শাহজাহানপুর থানা ও পুলিশ বিচিত্র আচরণের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ!


বিশেষ প্রতিবেদন : গত ৮ই সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত আটটার পর শাহজাহানপুর থানার এস‌আই মামুন শুলবাগের রাস্তা থেকে রিক্সা যোগে চলার সময় এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রফিককে রিক্সা থামিয়ে চেক করে তার কাছ থেকে গাঁজা উদ্ধার করে এবং তাকে এরেষ্ট করে শাহজাহানপুর থানায় নিয়ে সোপর্দ করে। এই খবর রফিকের দোসর আওলাদের কাছ থেকে জানতে পেরে মাহবুব আলম আওলাদসহ শাহজাহানপুর থানায় যায় খবরটি নিশ্চিত করতে। সেখানে গিয়ে মাহবুব রফিককে লকাপে পায় এবং সব ঘটনা জানতে পারে। মাহবুব আলম শাহজাহানপুর থানা থেকে বিষয়টি জানার পর যখন ফিরে আসতে নেয় তখন এস‌আই মামুন ও থানায় উপস্থিত অন্যান্য পুলিশ মিলে সেখানে মাহবুব আলমকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে এবং জানতে চায় সে কেন এসেছে। মাহবুব জানায় যে সে জানতে পেরেছে যে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রফিক এরেষ্ট হয়েছে তাই তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সে থানায় গিয়েছে। একপর্যায়ে এস‌আই মামুন মাহবুব আলমের সাথে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হয় ও বলে মাহবুবের এই বিষয়ে থানায় আসা ও জানতে চাওয়ার কোন ইখতিয়ার নাই এবং কথাকাটাকাটির মধ্যে এক পর্যায়ে তারা মাহবুবকে প্রশ্ন করে যে সে কি করে, উত্তরে মাহবুব জানায় সে একটা পত্রিকার রিপোর্টার। তখন এস‌আই মামুন তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে মাহবুব বলে যে তার কাছে এই মুহূর্তে কোন পরিচয়পত্র নাই কারণ সে হুট করে এসেছে তবে তার সম্পাদকের পরিচয় জানায় এবং তাঁকে ফোন করে দরকার হলে মাহবুবের পরিচয় নিশ্চিত হতে বলে। উল্লেখ্য যে দৈবিক কারণে ঐসময় মাহবুবের পকেটে তার সম্পাদকের একটা ভিজিটিং কার্ড ছিল এবং তা সে উপস্থাপন করে।

পরবর্তীতে পুলিশ নাকি উক্ত কার্ডের নম্বরে ফোন করে কাউকে পায়নি এবং ওখানে মাহবুব আলমকে এরেষ্ট করে লকাপ বন্দী করে। একপর্যায়ে তারা মাহবুবকে মারধর ও অপমান অপদস্থ করে।

এমতাবস্থায় ঐরাতে কোন এক মাধ্যমে খবর পেয়ে মাহবুবের পূর্বপরিচিত ও একান্ত কাছের বড়ো ভাই জয় মাহমুদ যিনি দুই দুইটা পত্রিকার সম্পাদক, ফকিরাপুলে অফিস, বিটিভির জয় মাহমুদ নামে সর্বোপর্যায়ে পরিচিত তিনি যান থানায় বিষয়টা জানতে কিন্তু পুলিশ মাহবুবকে কিছুতেই ছাড়ে না, জয় মাহমুদ তখন ফেরত চলে আসেন কিন্তু এর মধ্যে সে ঘটিয়ে আসেন একটি ঘটনা। 

জয় মাহমুদ নামের এই সমালোচিত সাংবাদিক চরিত্রটি সরাসরি মাহবুব আলমকে জানায় যে সে মাহবুবকে ফাঁসাতে এসেছে, তাদের বসের নির্দেশে। হাসতে হাসতে জয় মাহমুদ তার সামনে মাহবুব আলমকে পুলিশ দিয়ে পিটিয়ে ভিডিও করে নিয়ে আসে।

এতঃপর দুই দিন দেড় রাত থানায় মাহবুবকে গুম করে রেখে মারধর করে, অসুস্থ বানিয়ে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করে সুস্থ্য করে থানায় ফিরিয়ে এনে কমলাপুরের চিহ্নিত মাদক ডন ওমরকে ধরে এনে তাকে ভাঙ্গারী ব্যবসায়ী সাজিয়ে একটা মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা করিয়ে বিদায় করে এবং মাহবুব আলমকে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরনের বন্দোবস্ত নিশ্চিত করে।

মাহবুব আলমকে একটি রাক্ষুসে সাংবাদিক চক্র এভাবেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল হাজতে পাঠায় কারণ তাদের বিরুদ্ধে মাহবুব আলমের কাছে শক্ত প্রমাণ রয়েছে যে তারা আসলে সাংবাদিকতার আড়ালে ভয়ঙ্কর অপরাধী।

ওদিকে যে মূল ঘটনার নায়ক রফিক মাদক ব্যবসায়ীর এরেষ্টের খবর জানতে পেরে মাহবুব থানায় গিয়েছিল নিশ্চিত করতে পুলিশ নাকি তাকে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে রাত বারোটার দিকে অনির্দিষ্টকারণে ছেড়ে দেয়!

থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রফিক এসে পরের দিন এলাকার সেই রিক্সাওয়ালা নুর হোসেন যার রিক্সা থেকে তাকে এস‌আই মামুন এরেষ্ট করেছিল তাকে দলবল নিয়ে খুঁজে বের করে প্রচুর মারধর করে এবং তার কারণেই সে এরেষ্ট হয়েছিল বলে তাকে দোষারোপ করে। পরবর্তীতে তার কাছ থেকে ১৪০০০ টাকা জরিমানা ধার্য করে যা নাকি সে পুলিশকে দিয়ে থানা থেকে ছুটে এসেছে এবং তাৎক্ষণিক সেই নিরিহ রিক্সাওয়ালার কাছ থেকে জরিমানার অংশবিশেষ আদায়‌ও করে নেয় রফিক ও আওলাদ পরিবার মিলে!

আজ আবার উক্ত ঘটনার জের ধরে আবারো রফিক, আওলাদ ও দলবল এসে হামলা চালায় নিরিহ রিক্সাওয়ালার পরিবারের উপর, জরিমানার বাকি টাকা আদায়ের লক্ষ্যে!

এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা এই দৃশ্য দেখে ও জেনে হতবাক এবং তাদের কাছে প্রশ্ন এই যদি হবে তবে শাহজাহানপুর থানার এস‌আই মামুন কেন‌ই বা রফিককে এরেষ্ট করলো? কিসের উপর ভিত্তি করে আবার রাতেই তাকে ছেড়ে দিল? কেন‌ই বা মাহবুব আলমকে ভুয়া সাংবাদিক আখ্যা দিয়ে চালান দিল? স্থানীয় থানায় কোন বিষয়ে খবর নিতে যাওয়া কি অপরাধ তবে?

শাহজাহানপুর থানা এলাকানিবাসী নিরিহ জনগণের আক্ষেপ যে এইভাবে যদি পুলিশ তার পুলিশী দায়িত্ব পালন করে তবে তাদের তো এলাকায় জীবনযাপন করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাবে! কেননা দেখা যাবে যে তাদের কার সামনে থেকে কখন কাকে কোন উদ্দেশ্যে পুলিশ এরেষ্ট করে নিয়ে যাবে আবার উৎকোচ সাপেক্ষে ছেড়ে দেবে এবং ফিরে এসে রফিক যেমন নিরিহ রিক্সাওয়ালার সাথে আচরণ করলো তাই হবে শেষমেষ।

জনজীবনে পুলিশের আচরণ বন্ধুসুলভ হবার বদলে তা যদি নিরিহ মানুষের জন্য এমন হুমকির কারণ হয় তবে তা নিঃসন্দেহে ভয়ংকর! যদি থানায় যাওয়ার কারণে মাহবুবের মতো ভুয়া সাংবাদিকের মামলা মেনে নিতে বা পেটের দায়ে রিক্সা চালায় গরীব রিক্সাচালক নুর হোসেনের মতো করুন দশা হয় তবে এই পুলিশ ও থানা দিয়ে কি করবে সাধারণ মানুষ!?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ