পুরান ঢাকার এক মুকুটহীন সম্রাট এই হাজী সেলিম। দীর্ঘকাল ধরেই তার সন্ত্রাসের রাজ্যটি কায়েম রয়েছে সারা পুরান ঢাকা জুড়েই। বিএনপি থেকে দলবল করে আওয়ামীলীগে আসা হাজী সেলিম এক সময় ওয়াজঘাটে সাধারণ দিন মজুরের কাজ করতেন। এলাকার প্রায় সবাই জানেন যে চুরি করা সিমেন্টের ব্যবসার বদৌলতে তার ভাগ্যের চাকা ঘুরছে। অতঃপর একদা সে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়ে তার বডিগার্ড ছিল 'দুধ মিয়া' নামের কুখ্যাত খুনি ও সন্ত্রাসী। হাজী সেলিমের ছত্রছায়ায় খুনসহ এমন কোন অপরাধ নেই যার সাথে জড়িত ছিল না দুধ মিয়া। কালান্তরে সেই হাজী সেলিম বিএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী গুন্ডা-নেতায় উপনিত হয়েছিলেন। তাকে হাপ্তা না দিয়ে ঢাকা-৭ আসন এলাকায় একটা পান সিগারেটের টংদোকানও চালানো সম্ভব নয় আজঅব্দি, পুত্র এরফানের আর্মী সদস্যকে মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে এমনি উক্তি করেন এলাকাবাসী। তারা আরো বলেন যে এভাবেই সাধারণ শ্রমিক সেলিম আজ হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক আওয়ামীলীগের প্রচন্ড ক্ষমতাধিকারী এমপি হাজী সেলিম।
এই হাজী সেলিম বিএনপির ক্ষমতামলে ছিলেন বিএনপির একজন স্থানীয় পর্যায়ের নেতা। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে তিনি ‘মা’ ডাকতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেই সময়ে সাদেক হোসেন খোকার পায়ের কাছেই বসে থাকতেন হাজী সেলিম। বিএনপির সমর্থনে ১৯৯৪ সালে ওয়ার্ড কাউন্সিলর হয়েছিলেন। অতঃপর ৯৬ এর নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সাদেক হোসেন খোকা তার জন্য তদ্বিরও করেছিলেন কিন্তু লালবাগের ঐ আসনে ছাত্রদল নেতা নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু ছিলেন তারেকের পছন্দের। তাই হাজী সেলিম মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগে যোগদেন হাজী সেলিম। পিন্টু ও হাজী সেলিমের মধ্যে এলাকার গুন্ডামী, চাঁদাবাজি, দখল নিয়ে সবসময়ই ছিল দা-কুমড়ো সম্পর্ক। মারামারি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দোকানপাট ভাংচুর এগুলো ছিল তাদের নিত্যনৈমেত্তিক কাজ। পিন্টুর মৃত্যুর পর এখন হাজী সেলিম একাই একশ', যেনো এলাকার গাব্বার সিং!
তখন লালবাগের ঐ আসনে আওয়ামী লীগের সাম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তাকে বসিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেন ‘খালেদা পুত্র’ হাজী সেলিম তথা নব্য আওয়ামীলীগকে। উল্লেখ্য যে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে হাজী সেলিমই হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞাপন।
তখন লালবাগের ঐ আসনে আওয়ামী লীগের সাম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তাকে বসিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেন ‘খালেদা পুত্র’ হাজী সেলিম তথা নব্য আওয়ামীলীগকে। উল্লেখ্য যে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে হাজী সেলিমই হচ্ছে সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞাপন।
৯৬তে এমপি হয়ে এই হাজী সেলিম করেননি এমন কিছু নেই বললেই চলে। জমি দখল থেকে শুরু করে বুড়িগঙ্গা দখল। যেনো দখল করে নেওয়ার জন্যই তিনি সাংসদ হয়েছিলেন।
২০০১ এর নির্বাচনে যাদের কারণে আওয়ামী লীগ ইমেজ সংকটে পরেছিল তাদের অন্যতম ছিলেন এই হাজী সেলিম। তিনি এমপি না হলেও বন্ধ হয়নি তার অপকর্ম।
২০০৪ সালে একজন পুলিশ অফিসারকে লাহ্নিত করেন হাজী সেলিম। এসময় তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়। আওয়ামীলীগ দলে একটি প্ররলিত বানী হচ্ছে, "অনুপ্রবেশকারীরা অতিথি পাখী। দূর্দিনে এদের খুঁজে পাওয়া যায় না।" আর হাজী সেলিমের ক্ষেত্রে এই কথাটি অক্ষরে অক্ষরে প্রযোজ্য। ওয়ান-ইলেভেন আসার সাথে সাথে পালিয়ে দেশ ত্যাগ করেন এই 'সন্ত্রাসের বরপুত্র'। নির্বাচনের আগে যখন তিনি দেশে ফেরেন তখন তার মাথায় দুইশোর বেশি মামলা।
২০০৪ সালে একজন পুলিশ অফিসারকে লাহ্নিত করেন হাজী সেলিম। এসময় তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়। আওয়ামীলীগ দলে একটি প্ররলিত বানী হচ্ছে, "অনুপ্রবেশকারীরা অতিথি পাখী। দূর্দিনে এদের খুঁজে পাওয়া যায় না।" আর হাজী সেলিমের ক্ষেত্রে এই কথাটি অক্ষরে অক্ষরে প্রযোজ্য। ওয়ান-ইলেভেন আসার সাথে সাথে পালিয়ে দেশ ত্যাগ করেন এই 'সন্ত্রাসের বরপুত্র'। নির্বাচনের আগে যখন তিনি দেশে ফেরেন তখন তার মাথায় দুইশোর বেশি মামলা।
এরপর শুরু হয় তার 'মামলা প্রত্যাহার নাটক'।
সেক্ষেত্রে প্রথম দাফায় ‘হয়রানিমূলক’ চিহ্নিত করে, তার বিরুদ্ধে করা ২১টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ২০০৯ সালের ২৫শে মে হাজী সেলিম আবদুল হান্নান হত্যা মামলা থেকে খালাস পান। ২০০১ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর হাজী সেলিম রেকর্ড করেন। তার বিরুদ্ধে করা ১০৫টি মামলা একযোগে প্রত্যাহার করা হয়। ২৭শে ফেব্রুয়ারী ২০১২তে পুলিশের উপর আক্রমনের মামলাটিও প্রত্যাহার করা হয়।
সেক্ষেত্রে প্রথম দাফায় ‘হয়রানিমূলক’ চিহ্নিত করে, তার বিরুদ্ধে করা ২১টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়। ২০০৯ সালের ২৫শে মে হাজী সেলিম আবদুল হান্নান হত্যা মামলা থেকে খালাস পান। ২০০১ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর হাজী সেলিম রেকর্ড করেন। তার বিরুদ্ধে করা ১০৫টি মামলা একযোগে প্রত্যাহার করা হয়। ২৭শে ফেব্রুয়ারী ২০১২তে পুলিশের উপর আক্রমনের মামলাটিও প্রত্যাহার করা হয়।
২০১৪ সালে হাজী সেলিম আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হন তিনি। ঐ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডা: মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে তিনি তার সন্ত্রাসী ক্ষমতার বলে পরাজিত করেন।
উল্লেখ্য যে হাজী সেলিম বাহিনী ২০১৪ সালেও মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা করে কিন্তু অজানা কারণে তার বিরুদ্ধে সেই মামলাটি থমকে গেছে। ঐ বছরই বুড়িগঙ্গা অবৈধ দখলদার মুক্ত করার অভিযানেও আদালত অবমাননা করেন হাজী সেলিম।
উল্লেখ্য যে হাজী সেলিম বাহিনী ২০১৪ সালেও মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের কর্মী সমর্থকদের উপর হামলা করে কিন্তু অজানা কারণে তার বিরুদ্ধে সেই মামলাটি থমকে গেছে। ঐ বছরই বুড়িগঙ্গা অবৈধ দখলদার মুক্ত করার অভিযানেও আদালত অবমাননা করেন হাজী সেলিম।
এসব ঘটনায় হয়তো হাজী সেলিমের উপলব্ধি হয় আইন তার জন্য নয়, অপকর্ম করে পার পাওয়া যায়। তাই তিনি নিজে কিছুটা দমে যান কিন্তু সেই অভিজ্ঞতায় দূর্বীনিত হয়ে উঠে তার পুত্র এরফান সেলিম।
হাজী সেলিমের ছেলে এরফান সেলিম যিনি বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সন্ত্রাসে তার অভাবনীয় আয়োজন, এমনি আবিষ্কার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
হাজী সেলিমের ছেলে এরফান সেলিম যিনি বর্তমানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। সন্ত্রাসে তার অভাবনীয় আয়োজন, এমনি আবিষ্কার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সেই রাতে এরফান মাতাল অবস্থায় তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে বাবার এমপি নেইমপ্লেট লাগানো গাড়ি দিয়ে কলাবাগান এলাকার নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমের মোটরবাইক পিছন থেকে ধাক্কা মারার পর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম স্বস্ত্রীক বাইকটি থামিয়ে কারণ জিজ্ঞেস করতে গেলে তাকে বেদম প্রহার করে তাঁর দুটো দাঁত ফেলে দেয় এবং তাঁর স্ত্রীর গায়েও হাত তোলে বলে ওয়াসিম ও তাঁর স্ত্রী জানান। ক্ষমতার বলে সেলিম পুত্র তখন ঐস্থান ত্যাগ করে চলে আসতে পারলেও শেষ বাঁচাটা বাঁচতে পারে নি সে। লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমের দেয়া মামলায় সে এরেষ্ট হয়। তার বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয় বিশাল সন্ত্রাসী আয়োজনসহ ওয়ারলেস সিষ্টেম, বিদেশি অস্ত্র, মদ ও মাদক। ভ্রাম্যমান আদালত তাকে তাৎক্ষণিক একবছরের সাজা দিয়ে জেলে পাঠান। এরফান সেলিম তার এই ঘটনার কারণে তার কাউন্সিলর পদটিও হারাবেন বলে জানা গেছে।
হাজী সেলিম পুত্র এরফানের এই অপকর্মটি সারা দেশে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। সংবাদ মাধ্যম, গণমাধ্যমে প্রচন্ড উত্তেজনা চলছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
চ্যানেল আই-এর এক আলোচনায় আজ ব্যারিস্টার সুমন সেলিম পরিবারের উপর এটিকে একটি প্রকৃতির আক্রমণ বলে নিন্দা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন যে যখন মানুষ সীমা অতিক্রম করে শেষ পর্যায়ে চলে যায়, তাকে কিছু করার ক্ষমতা হারিয়ে যায় তখন প্রকৃতি এইভাবেই আঘাত হেনে তার ভারসাম্য রক্ষা করে।
এরফানের এই ঘটনার জের ধরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন যে দলের জন্য পরিশ্রম করেছেন হাজী সেলিম তিনি তার পুরষ্কারও পেয়েছেন দল থেকে কিন্তু তাই বলে তাদের ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় তো আর দল নেবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হল থেকে ছাত্রলীগকে তারা পিটিয়ে বের করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন সেই হলগুলো ভেঙে বাণিজ্যিক ভবন তৈরী করেছেন, আজও সেই হলগুলো তার হাত থেকে উদ্ধার করা যায় নি। এমপি হয়ে সরকারের অগ্রণী ব্যাংকের ২০ শতক জায়গা দখল করে রেখেছিলেন দীর্ঘ সময়। যা সেদিন এই সুযোগে উদ্ধার করা হয়েছে। তাছাড়া তার ত্যাগ প্রশ্নবিদ্ধ। তার এসব অপকর্মের দায় আওয়ামীলীগের নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমকে এইভাবে প্রকাশ্যে মারধর করায় সাধারণ মানুষ প্রচন্ড ক্ষোভের মুখে আরো বলেন যে হাজী সেলিম আর এরশাদ সিকদার একই প্রকৃতির মানুষ ও তাদের ইতিহাসও এক, পয়সার এপিঠ ওপিঠ। এরশাদ সিকদারের পতন হলেও হাজী সেলিম আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে ফেরাউনের মতো। সেই হাজী সেলিমের ছেলেই তো এরফান, সে'ই বা আর কত বিদ্বান হবে? সাপের ঘরে সাপই জন্ম নেয়।
0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা