
সবাই খুব আনন্দ-আবেগে আপ্লুত। এবার ঢাকা-৫ আসনে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন সবচেয়ে যোগ্যতম ব্যক্তি মনুভাই।
মনিরুল ইসলাম মনু ভাই একজন আজীবন 'পজেটিভম্যান'। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো কালেই কোনো বিরূপ সমালোচনা ছিল না, -একথাটি এদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রের জন্য একটি বিরল প্রতিভার উদাহরণ।
মনু ভাই ৫-আসন এলাকার একজন সৎজন হিসেবে সর্বকালেই শ্রেষ্ঠজন বলে সর্বজন স্বীকৃত। তাঁর চিন্তা ভাবনা, ধীরস্থির মানসিকতার প্রতি আস্থা রয়েছে এলাকাবাসীসহ কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে। আর তাই সবার বিশ্বাস, এবার ঢাকা ৫-আসনে যোগ্য, সৎ ও তৃণমূল পর্যায়ের যার যেস্থান পাওয়ার যোগ্যতা রয়েছে সে সেই স্থান পাবেন ইনশাআল্লাহ, যা স্বাধীনোত্বর বাংলাদেশে এই এলাকায় কখনোই দেখা যায় নি বললে বেশী বলা হবে না।
ঢাকার এলাকাগুলোর মধ্যে ৫-আসন এলাকাটি আজীবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু সংকটাপন্ন ছিল তার সবচেয়ে বড়ো কারণ এই এলাকায় রয়েছে সায়দাবাদ টার্মিনাল, রয়েছে যাত্রাবাড়ী আড়ত আর এসব ক্ষেত্রগুলোকে প্রতিদিনের কাঁচা টাকার খনি বলা চলে। তাছাড়া এই এলাকার অনেক বাজার, মার্কেট, রয়েছে অলিতে গলিতে হাজার হাজার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কারখানা ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর এরফলেই সর্বকালে এই আসনের রাজনীতি ব্যাপারী মনা এবং সন্ত্রাসী মনোভাবাপন্ন নেতাদের দখলে ছিল। তাছাড়া এই এলাকাটি একটি জনবহুল অপরিচ্ছন্ন এলাকা একথাও অনস্বীকার্য। এখানে পলিটিক্স মানেই যেনো 'সিন্ডিকেট', 'গ্যাং ইজম' এসবের নির্যাস।
এবার মনু ভাই এখানকার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাই যেনো এই প্রথম এই এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা অতিরিক্ত উৎফুল্লতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চোখে মুখে দেখা যাচ্ছে একটা আশা মিশ্রিত হাসির রেখা। সবাই মনে করছেন যে এবার তাদের পছন্দের বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন তাই তাদের আর হারাবার ভয় নাই। কারণ অন্যায় ও পক্ষপাতদুষ্টতা মনু ভাইয়ের স্বভাব বিরোধী।
ঢাকা-৫ আসন এলাকার চারিদিকে এখন চলছে নতুন নতুন কমিটি ঘোষণার জন্য ভিতরে ভিতরে মানসিক প্রস্তুতি এবং এখানে সবচেয়ে বেশী আশাবাদী দেখা যাচ্ছে তাদের যারা সারাজীবন আওয়ামী রাজনীতি করেও কোন দিন বসার জন্য একটু জায়গা, দেবার মতো কোনো পরিচয় পায়নি যা ছিল তাদের একান্ত অধিকার কিন্তু এবার যেনো সেই ভয় আর নেই তাদের। মনের গভীরে এখন পাবার স্বপ্ন তাই সবার।
সাংসদ হাবিবুর রহমান মোল্লা'র মৃত্যুতে আননোটিসট হঠাৎ ঢাকা-৫ আসনে শূন্য স্থান সৃষ্টি হওয়ার ফলে ও শূন্য স্থানটি পুরণের লক্ষ্যেই ছিল এই উপনির্বাচনটি।
শুরুর দিকে দেখা গিয়েছিল অনেক সংখ্যায় আওয়ামী নেতাদের তুমুল উদ্দমে যাঁর যাঁর মতো নির্বাচনী প্রচারনা ও শোডাইন তথা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থান দেখানোর সর্বশক্তি আরোপিত প্রচেষ্টা। উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রীর 'নমিনেশন'। অবশেষে বিদূষী প্রধানমন্ত্রী সবদিক বিচার বিশ্লেষণ করে বয়োজ্যেষ্ঠ শ্রদ্ধেয় নেতা মনিরুল ইসলাম মনু ভাইকেই দলীয় ভাবে নমিনেট করেন। ফলে সবাই তাদের ব্যক্তিগত আশাকে কবর দিয়ে দলীয় আইনশৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজেদের ব্যক্তিগত প্রচার বন্ধ করে দিয়ে একযোগে মনুভাইয়ের জন্য নির্বাচনী প্রচার প্রপাগান্ডা শুরু করে দেন।
এক্ষেত্রে যে কথাটি না বললেই নয় যে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর এই মনোনয়নটি সঠিক ছিল, তাই তাঁকে সাধুবাদ জানাই।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে, নির্বাচনটিতে আসলেই কি সবাই(আওয়ামী) দলীয় মতামতকে শ্রদ্ধাভরে নিয়ে উপনির্বাচনটি করেছিলেন?
এবারের নির্বাচন শেষে এই প্রশ্নটি এলাকাবাসীর সবার মনে মনে, -এমনি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেননা নির্বাচনের আগে-পরে যে পরিমান মানুষকে মিছিল মিটিং-এ দেখা গেছে তা ছিল লক্ষাধিক কিন্তু ভোটের ফলাফলের খাতায় দেখা গেলো যে আসনটির প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোটের মধ্যে মাত্র ৪৫হাজার(প্রায়) ভোট কাস্ট হয়েছে!
সবার প্রশ্ন, নির্বাচনের পুর্বে ও পরে যে পরিমান নেতাকর্মীদের মিছিল, মিটিং, নির্বাচনী কার্যে ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছে শুধু যদি তারা এবং তাদের বাড়ীর মানুষজনই ভোট দিতে যেতো তবে মিনিমাম আড়াই লাখ ভোট কাস্ট হবার কথা ছিল। পাশাপাশি যদি সাধারণ মানুষের অর্ধেকটাকেও উপস্থিত করা যেতো তবে ভোট কাস্ট হবার কথা ছিল সবমিলিয়ে মিনিমাম সাড়ে তিন লাখ বা কাছাকাছি কিন্তু সেখানে দেখা যাচ্ছে ভোট কাস্ট হয়েছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পরিমাণ, মাত্র পঁয়তাল্লিশ হাজার(প্রায়) ভোট! তাহলে আসলে কি হোলো?
জ্ঞানীজনদের মতে, এই বয়োজ্যেষ্ঠ নেতাটি যেনো 'শেষ হয়ে যেতে যেতে আল্লাহর ইচ্ছায় মানসন্মান নিয়ে বেঁচে গেলেন'! তথা নির্বাচনে পাশ করতে সক্ষম হয়েছেন বেচারা!
আর এই বিষয়টি যে বর্ষিয়ান নেতা মনুভাইয়ের চোখও পরেছে, তার প্রমাণ, বিজয় মাল্য নিয়ে যখন সবাই দলে দলে নতুন নির্বাচিত সাংসদের কাছে গিয়েছে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে তখন তাঁর মন খুব খারাপ ছিল এবং প্রথম অবস্থায় অভিমান ও ক্ষোভে মনুভাই কোনো মালাই গ্ৰহন করতে রাজি ছিলেন না ইত্যাদি।
প্রশ্ন হচ্ছে, কেনো এমন হোলো?
কেউ কেউ তিরস্কার করে বলেন যে এটা আওয়ামী স্বার্থপর রাজনীতি কারণ। 'মুখে মুখে পক্ষে থাকলেও আসলে কিচ্ছু না'। তারা যারা নির্বাচনের নমিনেশনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের মধ্যে যাদের টাকার পাহাড় আছে কিন্তু নমিনেশন পাননি তারা তাদের না পাওয়ার ক্ষোভে দেখা গেছে মনের মধ্যে পাপ নিয়ে ভোটারদের হাতে হাজার টাকার নোট দিয়ে ঘরে থাকতেই পরামর্শ দিয়েছেন তাদের ব্যক্তিগত কর্মীসকলের ভায়াতে এবং বলেছেন যে সমস্যা নাই তারা ম্যানেজ করবে, নির্বাচনে মনুভাইই পাশ ভয় নাই ইত্যাদি ইত্যাদি! পাশাপাশি করোনার ভয় দেখিয়েও ঘরে থাকার উপদেশ দিয়েছেন কেউ কেউ, অবশ্য চিকনে এবং বলে দিয়েছিলেন যে বিন্দু পরিমাণ চিন্তা যেনো না করে তারা। তাদের ভোট দেয়ার ব্যবস্থা করা আছে। অনেকেই আবার তাদের ব্যক্তিগত নেতাকর্মীদের আরো কিছু ব্যক্তিগত নির্দেশও দিয়েছেন আর এইসব কারণে অনেক সহজ-সরল ভোটার বিশ্বাস করে, ভয়ে এবং অধিকাংশই স্বার্থপর নোংরা মানসিকতার কারণে মিছিল মিটিং নির্বাচনী ওয়ার্কে পুরোদমে করলেও ভোটের দিন অনুপস্থিত ছিলেন।
অনেকে অবশ্য ভোট কম কাস্টের কারণ হিসেবে করোনাকালকে চিহ্নিত করেছেন কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমাদের কথা হচ্ছে, যদি তাই হবে তবে এতো লক্ষ-জনতা নিয়ে নেতাকর্মীরা যখন প্রচার প্রসারে ছিলেন তখন কি তাদের করোনার ভয় ছিল না?
আর এই বিষয়টি নির্বাচনে জয় লাভ করা জ্ঞানী মনু ভাইয়ের চোখ থেকেও যে এড়িয়ে যায়নি তা তাঁর নির্বাচনবাদ কথা ও আচরণে প্রামাণ রেখেছে তিনি।
যাই হোক 'যার শেষ ভালো তার সব ভালো'। ঢাকা সিটি পলিটিক্সে স্বপরিবারে অভিজ্ঞ ও দক্ষ বয়োজ্যেষ্ঠ আওয়ামী মনোনয়ন প্রাপ্ত সুযোগ্য এই নেতাটি অবশেষে নির্বাচনে যে পাশ করতে পেরেছেন এটাই আসল কথা ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ আজীবন অভ্যন্তরীন কোন্দল, গ্ৰুপিং, ব্যক্তিগত মনমানির রাজনীতি করার জন্য কুখ্যাত একটি রাজনৈতিক-দল হিসেবে সবার কাছে চিহ্নিত। তাছাড়া 'যোগ্য ব্যক্তি যোগ্যস্থান পাবে না কোনোদিন', -এটা যেনো আওয়ামী রাজনীতির ট্রেডিশন। 'সবাই নেতা', -এই মনোভাবের ফলে কেউ কাউকে মানে না, কেউ কারো ইজ্জত বৃদ্ধির জন্য কিছু করতে নারাজ, যেনো এটাই আওয়ামী দলীয় কাজ। যেনো নিজের বুঝ লাভসহ আঠারো আনা আদায়ই তাদের রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য!
আওয়ামী রাজনীতির এইসব বৈশিষ্ট্য নিয়েই এবার ঢাকা-৫এর এমপি নির্বাচনী মাঠে আসা নব্য নমিনেশন প্রত্যাশী দিশি আপার বিষয়টা ছিল যেনো দিশাহীন দৃষ্টিকটু ও বেয়াদবির সামিল।
একজন নবীন নেত্রী হিসেবে এমপি পর্যায়ে নিজের আত্মপ্রকাশ করার ক্ষেত্রে প্রথমবার কারো পিছনে থেকে নিজেকে উপস্থাপন করাটা ভদ্রতা ও একটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারও বটে কিন্তু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন, প্রধানমন্ত্রী পরিবারের বন্ধুবান্ধব নেহরীন মোস্তফা দিশি আপা যেনো কাউকে পরোয়াই করলেন না! এমনি দেখা গেলো তার এবারের নমিনেশন যুদ্ধের আচরণে!
অথচ স্থান কাল পাত্র ও সম্পর্ক অনুযায়ী দিশি আপার উচিৎ ছিল এবারের এই নির্বাচনে তিনি কামরুল হাসান রিপন ভাইয়ের পক্ষে থেকে রিপন ভাইয়ের জন্য কাজ করবেন। তিনি আরো সরবে, সহমর্মিতা ও বেগবান হয়ে রিপন ভাইয়ের পিছনে এসে দাঁড়াবেন নমিনেশন যেনো রিপন ভাইয়ের পক্ষেই থাকে সেই লক্ষ্যে এটা দলীয় রাজনীতির জন্যও স্বাভাবিক ও শোভন ছিল। দিশি-রিপনের ব্যক্তিগত, পারিবারিক সম্পর্কের হক ও রাজনৈতিক অবস্থানের এটা ছিল যৌক্তিক দাবি। শুধু তাই নয় এমনটি করে দিশি আপা তাঁর নিজের জন্যও আগামীর পথ পরিস্কার করে নিতে পারতেন সবার মনে প্রিয় নেত্রী হয়ে নিঃসন্দেহে কিন্তু তিনি তা না'করে এসেই নিজে নিজের ঢোল বাজাতে শুরু করে দিলেন! তেল-সাবানের সুন্দরী মডেলের মতো ছবি দিয়ে পোষ্টারে পোষ্টারে ছেয়ে ফেললেন পুরো এলাকাটিকে! এক্ষেত্রে তিনি যেনো এটাও ভুলে গেলেন যে রাজনীতি একটা ভিন্নমাত্রার স্টাটাস।
'নমিনেশন ক্ষুধা' তথা এমপি হবার খায়েসটি দিশি আপা যে পদ্ধতিতে চালু করে দিলেন তাঁর ক্যারিয়ারে তিনি কি আর কোনদিন এই পথ থেকে সরে দাঁড়াতে পারবেন? নাকি আজীবন তাঁকে নমিনেশন প্রত্যাশায় এই পথেই নিজদলীয় এলাকার নেতাকর্মীদের সাথে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা খেলতে হবে?
একটা দলের রাজনীতি করার পরেও স্বদলীয়দের সাথে প্রতিযোগিতা কি দলের নীতিকে অবমাননার সামিল নয়?
রিপনভাই, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন কট্টরপন্থী আওয়ামী সেনা। একজন 'বঙ্গবন্ধুর সৈনিক' বলতে যা বোঝায় তিনি এককথায় তাই। আজীবন আওয়ামীলীগের হয়ে যুদ্ধ করাই এই মহান মানুষটির নিজের ও তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ইতিহাস। ছাত্ররাজনীতির জীবন থেকেই তিনি রাজনৈতিক ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি করা অনেক অসাধারণ কাজে ভূমিকা রেখেছেন যেসব আলোচনা করে শেষ করার মতো নয়। তাঁর ব্যক্তিগত নীতি ও আদর্শের কথা বললে শ্রদ্ধায় মাথা নিচু হয়ে যায়। তিনি তাঁর জীবনে আজ অবধি রাজনীতিবিদ হিসেবে যাকিছু করেছেন তার সবকিছুই একেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মনে রাখার মতোন।
রিপনভাইয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও ভালো করে জানেন এবং রিপনভাইকে তিনি খুব ভালো করেই চেনেন। রিপভাইয়ের জন্য গর্ব করার মতো অনেক উদাহরণও তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলিতে স্বযত্নে জমা থাকার কথা ও আছেও নিশ্চই।
আওয়ামী প্রধান, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বারবার যে কথাটি বলে থাকেন যে সবাই যেনো সৎ, নিষ্ঠাবান, তৃনমুল থেকে উঠে আসা, নির্যাতিত, নির্ভরযোগ্য, সুযোগ্য এবং পারিবারিক বেকগ্ৰাউন্ড দেখে নেতা নির্ধারণ করে। তাঁর এই কথামতো এবং তিনি যদি তাঁর কথা নিজেই রাখতেন বা রাখতে পারতেন তবে হয়তো এবারের ঢাকা-৫ আসনের আওয়ামী নমিনেশ রিপনভাই ছাড়া কারো কাছে যাওয়ার প্রশ্নই আসার কথা ছিল না। হয়তো বিদূষী নেত্রী পরিস্থিতির শিকার।
পরিস্থিতির শিকার হয়ে আমাদের অদ্বিতীয় রাজনৈতিক রত্ন শেখ হাসিনার অনেক কিছুই করতে হয়, মেনে নিতে হয় আর একথা অনস্বীকার্য ও বলাই বাহুল্য।
উল্লেখ্য যে রিপনভাই একজন একশ'ভাগ আওয়ামী পরিবারের আওয়ামী সেনা অন্যদিকে মনু ভাইয়ের রাজনীতির শুরু বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর জিয়াউর রহমান সাহেবের আমলের বিএনপি থেকে। কালান্তরে মনিরুল ইসলাম মনুভাই আওয়ামীলীগে যোগ দেন এবং আওয়ামীলীগে যোগ দিয়ে তিনি দলের জন্য আজীবন অনেক উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ করেছেন তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে। ঢাকার পারিবারিক ভাবে ক্ষমতাশালী অন্যতম একটি পরিবারের সদস্য মনুভাই সিটির চিহ্নিত একজন ভালো মানুষ ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ার, -এই কথায় কারো কোনো সন্দেহের অবকাশ নাই। আর বিএনপি থেকে উঠে আসা এই কথার পরিপ্রেক্ষিতে বলতে হয় যে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তিনিও মুসলিম লীগ থেকে বের হয়ে আসা একজন রাজনীতিক ছিলেন এবং বিশ্বের রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতমদের সারিতে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
যাই হোক এবার উপনির্বাচনের ফলাফলটি যা হয়েছে ভালই হয়েছে। ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী ফলাফলে মনু ভাইয়ের পাশ করাটা ঐএলাকার রাজনীতির ইতিহাসে একটি অন্যতম ভালো ঘটনা বলা চলে। সবার আশা ও বিশ্বাস ঢাকা-৫ আসন এলাকাটি এবার সব ঝামেলা, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস থেকে মুক্তি লাভ করার পথে হাঁটবে এবং যোগ্য ব্যক্তি যোগ্যস্থানে অবস্থান লাভ করবে। কারণ যোগ্যতার মানে কি তা' মনিরুল ইসলাম মনু ভাই খুব ভালো জানেন এবং ৫-আসন এলাকায় তাঁর চেয়ে ভালো জানা ও বোঝার মতোন দ্বিতীয়জন কেউ নেই।
সর্বশেষে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে মনিরুল ইসলাম মনু ভাইয়ের জন্য রইলো শুভকামনা ও অভিনন্দন।
0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা