
নাজমুল হুদা : রান্না ভালো হলে কৃতিত্বের একমাত্র অধিকারী গৃহিণী। খারাপ হলে তার দায় বুয়ার মশলাবাটার ত্রুটি কিংবা গৃহকর্তার বাজারের মান। মধ্যবিত্ত বাংগালী এই সংস্কৃতিতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে গেছে।
একটি দেশের জনগনের রাজনৈতিক এবং আর্থ-সামাজিক চিন্তা চেতনা সাধারণত মধ্যবিত্তরাই নিয়ন্ত্রণ করে। তাই মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রবাসী শ্রমিকের আয় করা রেমিটেন্স এবং গার্মেন্টস মালিক শ্রমিকের উদয়াস্ত শ্রমে আনা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কৃতিত্বের হকদার হন মাননীয়।
কিন্তু গৃহহীন মানুষের জন্য হাজার কোটি টাকায় বানানো ঘর, মডেল মসজিদ, স্কুল বা ব্রীজ রাস্তাঘাট দু'দিনেই ধসে পড়লে ওএসডি হয় পুচকে টিএনও।
স্বাস্থ্যখাতে নজিরবিহীন দুর্ণীতির দায়ে বড়জোর মাঝারি আমলা পর্যন্ত বদলী হয়। এসব আমরা আনন্দের সাথেই মেনে নিয়েছি। হাসপাতাল গায়েব হয়ে যায়, ভূয়া কোভিড সার্টিফিকেট দেয়া হয়, মানহীন পিপিই এবং মাস্ক দিয়ে ডাক্তার বলী হলেও মন্ত্রীসভার কোন পরিবর্তনের দরকার হয়না।
আসলে দুধেল গাই কেইবা বাদ দিতে চায়।
এসব নিয়ে চুপচাপ থাকাই ভালো। পচাব্দী গাজী বা জিম করবেট এর চাইতেও বড় শিকারি 'সাংবাদিক শিকারী'র স্বীকৃতি এখন আমাদের হাতে চলে এসেছে।
ক'দিন আগে ইসরাইল ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা'র কথা থেকে তুলে দিয়ে আমরা পাসপোর্টের মান বৃদ্ধি করলাম। আজকে দেখি সেই মান আরো ছয় ধাপ কমেছে আর পাসপোর্টে ইসরাইল ভ্রমণ বাদ দেয়া মালয়েশিয়া একধাপ এগিয়ে গেছে।
এই দোষও অবশ্যই শুধুমাত্র অপরিণামদর্শী কুটনীতিবিদদের।
শুধু ভুল বুঝিয়ে আমাদের পথভ্রষ্ট করে, আমাদের মাদুর নিয়ে ঘোরার দিন আর শেষ হয় না। আজ দেখালাম সেনাপতির সাথে স্বামীজি'র বৈঠক। ক'দিন আগে কোতওয়াল সাহেবের সাথে বৈঠক নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন তার নিশ্চয়ই এখন তাদের ভুল বুঝতে পারবেন। আসলে বাংলাদেশের ভালো-মন্দ এখন কার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তা' আল্লাহ'ই বলতে পারবেন।
প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বহুবারের সাংসদ তোফায়েল আহমেদ বললেন দেশ চালাচ্ছেন আমলারা। আবার একটা অডিও ভেসে বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যেখানে একজন টিএনও অসহায় হয়ে বলছেন এই প্রবীণ নেতার লোকদের কাজ দেননি বলে তাকে তার কর্মস্থল থেকে বিদায় করে দেয়া হচ্ছে। এজন্যই এসব প্রসংগ বাদ দিয়ে পরীমনি'র প্রসংগে মিডিয়ার উৎসাহ।
হজরত সোলায়মান (আঃ) এর শাসনামলে বায়তুল মুকাদ্দাস প্রথম নির্মিত হয়। শুনেছিলাম তিনি দুষ্ট জ্বীনদের দিয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চালিয়েছেন। নিজের জীবদ্দশা'য় এই মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ করার ব্যপারে সন্দিহান হয়ে পড়েছিলেন। তাই তিনি তার আসনে বসে একটি বিস্ময়কর লাঠিতে ঠেস দিয়ে এই কাজ প্রত্যক্ষ করার ভান করেছিলেন। তার উপস্থিতির ফলে দুষ্ট জ্বীনেরা ভয়ে কাজে কোন ফাঁকি দেয়নি। মসজিদের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর বাদশাহকে অবহিত করতে এসে দেখা গেল তিনি অনেক আগেই ইন্তেকাল করেছেন। তার লাঠি ঘুণপোকা খেয়ে ফেলায় ভেংগে গিয়ে তার মৃত্যুর সত্য প্রকাশিত হয়ে যায়।
আজকের বাদশাহী'কে অন্ধ সমর্থন দিয়ে যারা নিজেদের স্বার্থ নিরাপদ রাখার প্ল্যান করছেন, তাদেরও এই শাসনদণ্ডটা নেড়েচেড়ে দেখা উচিৎ। বলা তো যায়না, কাকে আড়াল করতে গিয়ে কাকে আড়াল করছেন..??
https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=10159627380117022&id=668467021
0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা