মঞ্জুর মোর্শেদ : ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও তাঁর দ্বিতীয় স্বামী সাদেকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ।-নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার মরজাল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সানজিদা সুলতানা নাসিমার বিরুদ্ধে পাহাড় সমান অভিযোগ মিলেছে বলে জানিয়েছে অনুসন্ধানী সাংবাদিক দল। তারা জানতে পেরেছেন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প তথা এলজিএসপি, হতদরিদ্র প্রকল্প, মাতৃভাতা, টিআর, কাবিখাসহ পরিষদের যাবতীয় অর্থনৈতিক প্রকল্পসমূহের টাকা আত্মসাৎ, এমনকি সরকারী প্রকল্পের বিষয়ে পরিষদের কোনো সদস্যের মতামতের তোয়াক্কা না করে, তাদের অনেকের স্বাক্ষর জাল করে উৎকোচের বিনিময়ে কাজ পাশ করিয়ে নিচ্ছেন এখনও এমনই অভিযোগ মিলেছে। এবিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ১৩ই অক্টোবর দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলেও প্রমাণ মিলেছে।
উল্লেখ্য, ইউনিয়নের রানিং চেয়ারম্যান আতাউরের উপর হামলা চালায় এই সাবেক চেয়ারম্যান, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এমনও তথ্য দিয়েছেন। সাবেক হয়েও তিনি কোন এক অদৃশ্য লম্বা হাতের নাশকতা মূলক ক্ষমতাকে কায়েম করে নারী-দুর্নীতিবাজ নামে ভূষিত হয়েছেন! তাকে নারী-ভূমিখাদকও বলেন অনেকেই!
অভিযোগ মিলেছে, লাস্ট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘নৌকা মার্কা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার পরেও ‘আনারস মার্কা’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা আনোয়ার হোসেনের কাছে নির্বাচনে হেরে যাওয়ার আক্রশে সেই হামলাটি করেছিলেন তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে!
সরেজমিনে জানা গেছে, সাবেক চেয়ারম্যান সানজিদা সুলতানা নাসিমার দ্বিতীয় স্বামী উপজেলা আওয়ামীলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেকই তাকে জিরো থেকে হিরো বানিয়েছেন, তিনি এখন পর্দার আড়ালে। ২০১৯ সালের অনুষ্ঠিতব্য রায়পুর উপজেলা নির্বাচনে সাদেক আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন। তাঁর সেই নির্বাচনে আনারস মার্কার মেইন এজেন্ট হয়ে কাজ করেছেন জনগণ ঘোষিত এই দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যান সানজিদা সুলতানা নাসিমা, সেখান থেকেই তাঁর রাজনীতিতে পদার্পণ। তাঁর প্রথম স্বামী মুক্তার হোসেন তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মারজাল ইউনিয়নের জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পরে রাজনীতিতে সানজিদা। তাঁর বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার এক প্রবীণ আওয়ামী নেতা বলেন, ‘সে তো হাইব্রিড আওয়ামীলীগ। যারা হঠাৎ করে রাজনীতিতে এসে বড়ো বড়ো পোস্ট পজিশন, মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি, মিনিষ্টার হয়ে যায় তাদের কাছে তো রাজনীতি একটা ব্যবসাই’।
উল্লেখ্য যে এর আগের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সানজিদা সুলতানা নৌকার প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
একই উপজেলা নিবাসী মোঃ জাকির হোসেন রিয়াদ ও রাশেদ মিয়ার উক্ত মরজান ইউনিয়ন পরিষদের এলাকাবাসীর পক্ষে সানজিদা সুলতানা নাসিমার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের সত্যতা জানা গেছে।
উক্ত লিখিত অভিযোগটি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর থেকে এই নারী ও তার কিছু অনুগত দুর্নীতিবাজদের সঙ্গে নিয়ে গরীব মানুষের কাছ থেকে গর্ভকালীন ভাতা কার্ড ও সরকারি আবাসন দেয়ার কথা বলেও মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। যে অভিযোগ গণমাধ্যমে বিভিন্ন নিউজ মিডিয়াতেও প্রকাশিত হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সানজিদা তার বড়ো ভাই যিনি হাইকোর্টের বিচারপতি মুহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী, তাঁরও নাম ভাঙিয়ে, তার অরেক বড়ো ভাই সহ ছোট ভাই সোহেল মিয়া এবং তাদের ক্যাডারদের যোগসাজশে উক্ত এলাকাবাসী হেলেনার বেগম নামের এক নারীর জমিজমা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। এবিষয়ে ভুক্তভোগী হেলেনা বেগম ইনসাফ চেয়ে আদালতে মামলা দায়ের করলে, মহামান্য আদালতও মামলার রায় হেলেনার পক্ষেই দিয়েছেন কিন্তু চরম দাপুটে এই এক্স-চেয়ারম্যান ও তার ভাইয়েরা আজও হেলেনার জমিজমার ভোগদখল অধিকার বুঝিয়ে দেন নি।
এছাড়াও সানজিদা ও তার অনুগতরা মিলে একই এলাকার অপর আরেক ব্যক্তি মোঃ অহিদ উল্লাহর জমিও অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছেন। এলাকায় “নারী’ভূমিদস্যু” হিসেবে কুখ্যাত সানজিদার বিরুদ্ধে মোঃ অহিদ উল্লাহ জেলা প্রশাসক ও প্রধানমন্ত্রীর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানা গেছে।
এছাড়াও বিগত চার বছরে মরজাল ইউনিয়ন থেকে যে পরিমাণে বৈধ ও অবৈধ খাজনা ও কর আদায় করা হয়েছে তার পরিমাণও বিশাল এবং তারও প্রায় সবই সানজিদা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ মিলে।
উক্ত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় যে সানজিদার এধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে এলাকার লোকজন ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে, মানহানী হচ্ছে সরকার সহ সরকারি দল।
অভিযোগে বলা হয়েছে যে তাঁকে পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্যরা বয়কটও করেছেন কিন্তু এই দাপুটে এক্স-চেয়ারম্যান ও তার কিছু পালিত সদস্যরা মিলে এসব কিছুকে কোনো প্রকারের তোয়াক্কা না করে, উপজেলা ইউএনও অফিস ও থানার কিছু অসাধুদের সাথে মিলেমিশে মিলিত অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটা একতরফা স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন। তাঁর কাছ থেকে টাকা ছাড়া কোন কাজের প্রয়োজনে কোনো দিন কোনো স্বাক্ষরটুকু মিলেনা বলেও অভিযোগ মিলে।
অভিযোগকারী জনাব জাকির হোসেন রিয়াদ জানান, বিগত চার বছর ধরে এই নারী বেশ কিছু মেম্বারদের স্বাক্ষর জাল করে তাদের বৈধ অধিকারকে অবমূল্যায়ন করে চলেছেন।
অভিযোগ মেলে সানজিদা ও তাঁর সবচেয়ে অনুরাগী দুই সহযোগী আলতাফ মেম্বার ও বাচ্চু মেম্বাররা মিলে অন্যান্য মেম্বারদের সহ সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেম্বারদের স্বাক্ষরও জাল করে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সকল প্রকল্পে একক ক্ষমতা প্রয়োগ করাসহ দুর্নীতি করে যাচ্ছেন।
অভিযোগকারী মোঃ জাকির হোসেন রিয়াদ ও রাশেদ মিয়া আরোও বলেন, সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে করা অভিযোগ গুলোর যথাযথ তদন্ত হলেই বেরিয়ে আসবে তার পাপের কারনামার সত্যতার প্রমাণ এবং এলক্ষ্যেই তাঁরা দুদকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, পাশাপাশি সহায়তা কামনা করেন স্থানীয় সহ জাতীয় পর্যায়ের সংবাদ কর্মীদের।
উল্লেখ্য, আলতাফ মেম্বার ও বাচ্চু মেম্বার উভয়ই দুর্নীতিবাজ এমনও অভিযোগ মিলেছে।
সর্বোপরি, অনুসন্ধানী সংবাদ কর্মীরা নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার মরজাল ইউনিয়ন নিবাসী সানজিদা সুলতানা নাসিমা’র বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্টে জানিয়েছে যে বেশ কয়েকজন মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত ও বুদ্ধিদীপ্ত বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে সানজিদা সুলতানা নাসিমা’র আচরণ বিধি লঙ্ঘন সীমার বাইরে। তারা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, “আমাদের এক্স-চেয়ারম্যান সানজিদা সুলতানা নাসিমা’র দুর্নীতি নিয়ে কালবিলম্ব না করে তদন্ত করা হোক, আমরা অতিষ্ঠ।!”

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা