গতরাতে পুলিশের সাথে, বাড়ির পাশে...
=====================
Shahjahanpur Police Station
শান্তিবাগ এলাকার আমরা
মামুন রশিদ শুভ্র
#এবং_প্রতিটি_বাঙ্গালী
মঞ্জুর মোর্শেদ : প্রথমেই যারা জানেন না তাদের জানাই, "এককালের ঢাকা'র মতিঝিল, বর্তমান: ঢাকা, শাহজাহানপুর থানা এলাকায় আমার বাড়িঘর, জীবন যৌবন পার, এখানে থেকেই শিক্ষাদিক্ষা, কাজকাম, দুনিয়াদারী। এই পরিচয় আমার জন্মের আগে প্রৈত্রিক সুত্রে, বৈধ নিজ-ভূমিগত অবস্থান সুত্রও বটে।
এই মাটিতেই আমাদের লাটিম ঘোড়ানো, বিল্লাপার আর এই আকাশেই ঘুড়ি ওড়ানো, কাটাকাটি খেলে সন্ধ্যে হলে ঘরে ফেরা, ছেলেবেলা থেকে শুরু করে জীবনের সব বেলা-অবেলা শেষে এখানেই নোঙ্গর। আমার প্রথম প্রেম, আমার স্বপ্নের রাজকন্যার নাম 'ঢাকা শহর'।
'নীতির রাজা বা রাজার নীতি যে যেভাবেই বলি, যৌবনের ডিউটি মনে নিয়ে, মাটির টানে দলীয় রাজনীতি আমি ও আমরাও করেছি সারা দেশ নিয়ে এই শহরে থেকে। এখন যৌবনের পরন্ত বেলায় এসে আমরা সবাই যার যার কর্মজীবনে আলাদা আলাদা হয়ে গিয়ে যার যার যোগ্যতা মতো কর্ম করে যুদ্ধ করে যাচ্ছি জাতির প্রতিটি মানুষের কথা ভেবে, আর আসার সময় পেছনে রেখে এসেছি আমাদের মধ্যেই যারা শ্রেষ্ঠ রাজনীতিক তাদের রাজনীতির হালটি শক্ত হাতে ধরে রাখতে। আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ, আমি ও আমরা সবাই একেকজন বাঙালী, প্রতিমূহুর্ত একটাই স্বপ্ন দেখি সোনার বাংলা , টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, সবাই মিলে ভালো থাকতে চাই, তাই যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে যার যার স্থান থেকে আমরা একটিই স্বপ্ন বাস্তবায়নে যুদ্ধ করি...
বিঃদ্রঃ- (গুগল লোকেশন সংযুক্ত)
গতরাত সাড়ে বারোটার পর হবে। আমি প্রায় বাইশ/তেইশ ঘন্টার মতো তিনজন নিউজ মেকাপ/মেকার/ইত্যাদি ম্যানের সাথে কাজ শেষ করে, যার যার ব্যাকাপ বুঝিয়ে দিয়ে ফকিরাপুল পানির টাংকির সামনে থেকে একটা ব্যাটারি চালিত রিকশা নিয়ে সোজা সিমলার সামনে নেমে একাকী আপন মনে হাঁটতে থাকি....
সিমলার সামনে থেমে সাথেরটাকে কিছু খাবার আনতে পাঠিয়ে গলির ভিতরে একাকী ঝিম্ম দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে ভালোই লাগছিলো মনে হয়, এমন সময় সিভিলে #এসআই_রফিক ও বাকিরা আরও ৩ বাইক নিয়ে সামনে দিয়ে যাবার সময়ে রফিক দাঁড়িয়েই ধমকের সুরে,
"এই! এতো রাতে এখানে কি? কে! এই! দেখি এদিকে!, এই! নাম কি!? বাসা কোথাও! এই!...!!!
তারপর সঙ্গীয়রা মেধাবীর পরিচয় দিয়ে তাৎক্ষণিক রফিকের নেয়া (পিনিকটা) রেখে ঢেকে এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করলেও এসআই রফিক কেমন জানি ঘাড়টা-ত্যাড়া করে বাইকে বসে, পিছন দিকে তাকিয়ে, রক্ত চক্ষুর ভাব নিয়ে(এটাকে ছেলেরা ভানুমতিরপাঠ নাম দিয়েছে) বেশ কিক্ষুণ প্যাচানোর চেষ্টা করলো, .... এক পর্যায়ে আইডিও চাইলো(সে কিন্তু ১০০% চিনতে পেরে, বিশ্বাস না হলে রিমান্ডে আনেন), যাই হোক সর্বিপরি সবার শেষে রফিক আসল কথায় আসে। সে তার একটা প্রশ্নবিদ্ধ মামলার রেফারেন্স টেনে অনেক কিছু বলে কিছু বুঝাতে চেয়ে মোটের উপরে যা করেছে তার যা তার সব ভুলে ভরা তত্ত্বকথা! যা একেবারে ফালতু দামেও কেউ কিনবে না!
ঘটনাটা বলিঃ
"এসআই রফিক কিছুদিন আগে এলাকার অন্তর নামের এক বখে যাওয়া কিশোর মাদক সেলারকে সঙ্গীয় কনস্টেবলের সহায়তায়' ধরে এনে ২০/৩০পিস ইয়াবা (মনে নাই, পেপারে আছে) রিকভারি বানিয়ে মামলা দিয়ে দিয়ে চালান করে দেয়। অবশ্য এর মাঝেই তার অন্তরের মায়ের সাথে দরকষাকষি, আমার সম্পাদকের সাথে মন কষাকষি ইত্যাদি দৃশ্যও আছে আমার পাওয়া তথ্য মতে।
আসলে বিষয়টা হচ্ছে, যেহুতু আগেই বলেছি যে এই এলাকাটা আমার গ্ৰাম, তাই গ্ৰামের ছেলে হিসেবে, বাপদাদা সহ রক্তিয়দের এখানে নিজেদের মাটিতে বাড়িঘর আছে, এই মাটির টানে চান্দের দেশে গেলেও খবর জানবো না তা যে হয় না, আমি মনে করি প্রতিটি মানুষ তাদের যার যার গ্ৰামের প্রশ্লে একমত হবেন।
অচএব এখানে সবাই আমরা আমাদের, ফলে আমরা ভাবলে বা না ভাবলেও কর্তব্যের প্রয়োজনে আমরা একজন আরেকজনের খবর পাই, যেমন, সবাই যার যার নিজগ্ৰাম, বাড়িঘরের খবর পান, প্রাকৃতিক ভাবেই।
তো সেই সুত্রেই জানতে পেরেছি, অন্তরকে রফিক সেদিন বেলা ১১টার দিকে ঝিলপাড়, রেললাইনের পাশের গলি খান মনজিলের ওখানের এক দোকানে পেয়ে সবার সামনে 'নো-রিকভারি' ধরে এনেছে।
শেষ খবর, ২০/৩০ পিস দিয়ে চালান...। ওদিকে আরেক মাদকাসক্ত স্বামী রাসেলকে তো রাত দুপুরে পোয়াতি বৌয়ের পাশ থেকে ঘুম থেকে জাগিয়ে এনে..., সেদিনও কিন্তু একশলা সিগরেটও ছিলো না রাসেলের ঘরে(প্রেগনেন্সি তাই), রাসেলকে হেরোইন দিয়ে চালান দেয়া হয়েছে বলে জানায় ওই বাড়ির লোকজন। আর রাসেলের প্রেগনেন্ট স্ত্রী অসহায় আকলিমা কাঁনতে কাঁনতে একথাও এলাকার অনেকের সাথে জিজ্ঞেস করেছে, "ভালো করেছে চালান দিছে সবাই আমার আর আমার সন্তানের জীবটা হারাম করে দিছে, চালান দিছে, ভালো করছে, আমি গরিব আমার ভাত বাঁচলো কিন্তু আমার প্রশ্ন স্যারেরা এইসব রিকভারি পায় কোথা থেকে? আমার একটা ছেলে আছে আট বছরের, ও যখন শুনলো ওর বাপে 'হিরোইনচ্যি' অর মনে কি হইছে, অয় শিশু অয় কেউরে কিছু কইবো না, অয় জানে অর বাসে হিরোইন খায়না কিন্তু পুলিশ তারে ধরে নিয়ে হিরোইনের মারলা দিছে, অয় এই কারণে আজীবন পুলিশরে ঘৃণা করবো না!? মামুন-রফিক স্যারেরা নিজেদের টাকা দিয়েই কি কিনে এনে দেয় ওইসব রিকভারি?"
গতরাতে আমাকে দেখেই এসআই রফিকের সেইসব কাজের কথা মন পরে, সে ও তারা টিম হয়ে ফর্মা নিয়ে ঘুরে ঘুরে কি ভাবে কি করে, কিভাবে গাছেও খায় তলেও টোকায়, অর্থাৎ পয়সাই পয়সা আবার ডিউটিতে রাস্তায় নেমে উরুসধুরুস ধরে নিয়ে মাদক মামলা দিয়ে মামলার টার্গেটও পুরণ করে ডবল রিডল করে প্রতিযোগীতায় অধিক মামলা করার সুবাদে দীর্ঘদিন একই থানায় থেকে ফর্মা দিয়ে এলাকার চাপপা চাপপা হাতে রেখে সব চালায়, নিজেরা কখনও পোশাকে কখনো সিভিলে সংসদ বাইকে চলে মনে মনে ভাবে কেউ কিছুই দেখে না, তাই তারা এলাকায় হিন্দি সিনেমার গাব্বার সিং -এর মতো ডিউটি করে!
রফিক এসব কাজ সঠিক হয়েছে, গোঁয়ার্তুমি করে তা বলতে বলতে একপর্যায়ে নিজেকে স্ট্যাবলিস্ট করতে বোকার মতো পকেটের এনড্রয়েড বের করে উক্ত মাদক মামলার একমাত্র এবিড্যান্স বা প্রমাণ হিসেবে "দুটো কিশোর ছেলে দুই বাড়ির দেয়ালের চিপাঁয় ঘুমায়" -এমন একটা ছবি দেখানোর জন্য খুব খোঁজাখুঁজি ও চেষ্টা করছিলো, ছবি না দেখাতে পারলেও মুখে জানায় ওই দুজনের একজন অন্তর, আগেরও মাদক মামলা আছে....!
মনে ভাবলাম, এই অফিসার অসুস্থ নাকি? একজন স্বাভাবিক বুদ্ধিমান মানুষকে একটা মাদক মামলার আলামত হিসেবে ওমন একটা ছবিকে দাঁড় করিয়ে....! মাদকের খবর নাই....!
ওদিকে সে বলে, "আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা আছে!!!" সেই উছিলাতেই রিকভারি না পেয়েও ২০/৩০পিস ইয়াবা রিকভারি দিয়ে যে মামলাটা দিয়েছে তার জন্য তার ধন্যবাদ পাবার কথা...!
আমি ভাবছি, 'অর্থাৎ আগের মামলাগুলোও তো ওভাবেই করেছে তারা,....!!!' সে বুঝতেই পারলো না। একজন বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা এসআই রফিকের মেধা টেরই পেলো না যে সে শাহজাহানপুর থানার প্রতিটি মাদক মামলাকে সে তারা সব অফিসাররা মিলে প্রকাশ্যে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এলাকার লোকও ওই একই অভিযোগ দিয়েছে। সকলের কথা, "আমরা বলতে চাই না যে মাদক ছিলো না তার পরেও মাদক মামলাগুলোর কথা, আমরা শুধু বলতে চাই, শাহজাহানপুর থানার এসআই ভাইয়েরা, আপনারাও তো কোনো মায়ের পেটে হইছেন, আপনাদের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ যা রিকভারি সেই মামলাই হোক!!!'
উল্লেখ্য ঢাকা শাহজাহানপুর থানার ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ মাদক মামলা হয়েছে এসআই মামুনের হাতে, নিজস্ব কর্মী দিয়ে যোগ্য নেতারা দিন তারিখ ধরে একটা একটা খবর নিলে আতকে উঠবেন!
অনুসন্ধানে দেখা গেছে এসব মামলার ৮০%-এর আসামিরা এলাকার নিরীহ পরিবারের সীমিত মাদকাসক্ত। এটা সবার জানা কথা মাদকাসক্ত হতে হলে অঠেল টাকা লাগে, কিন্তু এই ৮০% কোনো দোকানের সেলসম্যান, ড্রাইভার, অটোরিকশা চালক ইত্যাদি, এদের প্রায় সবাই অল্প বয়সে বিয়ে করা সংসারী ঘরে বৌ, ছেলেমেয়ে, মাবাবাদের আহার যোগায়।
প্রশ্ন হচ্ছে, উল্লেখ্য কর্ম করে ওরা ক'টকাই কামায়, ক'টাকাই খরচ করতে পারে নিজের জন্য? আর এসফ পারিবারিক কর্মজীবী হঠাৎ আসক্তরাই মামলার শিকার হয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, "পায় দুই পিস ইয়াবা, মটরসাইকেলের মাঝখানে এসআই আর কনস্টেবল তুলি নিয়ে যেতে যেতেই কালে কালে মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ ও দর কষাকষি চালাতে থাকে। সরাসরি জানিয়ে দেয়, ২পিস, ৪পিহ ইয়াবাসহ পাইছে, এই যে নেন কথা কন আর কথা একটাই, থানায় ঢোকার আগেই দশ হাজার নিয়া লোক পাঠান নয়তো ২০/৩০পিস, একটু টাকা পয়সাওয়ালা হলে ১০০/২০০ পিস রিকভারি দিয়ে মামলা দেয়া হবে....
এক্ষেত্রে যারা সময় মতো পেমেন্ট করতে পারে তাদেরকে বাইক থেকে নামিয়ে দেয়া হয় পয়সা আর রিকভারিগুলো নিজেদের জন্য নিয়ে।
এক্ষেত্রে মামলার মামলাও চলে, আর মুদ্রা তো নিজেরাই বানায়।
একাধিক সোর্স জানায় এদের পালিত মাদক ব্যবসায়ীরাই একদিকে মাদক দেয়, অন্যদিকে ইনফরমেশন দিয়ে দেয়। "স্যারেরে টাকাও দেয়, আসামিও বানাইয়া দেয।"
এসআই রফিকের কথা ভেবে আমি মনে মনে হাসতে বললাম, "অন্তররা তো নষ্ট হয়ে গেছে জানিই কিন্তু আমার যতদূর মনে পরে আমি আপনাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম যে এতোগুলো ইয়াবা পান কোথা থেকে...!"
এরপর আরও কিছুক্ষণ এনাকুন্ডার মতো মোচড়া-মুচড়ি করে, চলে গেলেন।
লক্ষ্যণীয়ঃ এছাড়াও লক্ষ্যণীয় নির্বোধ পুলিশী কাকে বলে:
রফিক আমার প্রথম কথাতেই সে যে পরিচয়টা নিশ্চিত হবার কথা আমার সেই আইডিন্টিটি অনুসারে তার আচরণ বিধি লঙ্ঘন করার কোনো ইখতিয়ার নাই, ওদিকে সে ও তারা দূর থেকেই চিনে গেছে, তবে এসআই রফিক চাইছিলো নিজচরিত্রকে একটু কেচে ফর্সা করে তুলতে...
এমতাবস্থায় তার লক্ষণ দেখে মনে ভাবি আর মনে হাসি, "ইয়াবা খাইছে নাকি, এরাইতো! ওই যে এতো হেরোইন পায় কই? গাঁজা ধরেমা মলা হয়, হেরোইনের, ইয়াবা ধরে মামলা হেরোইনের..., আচ্ছা!"
থানায় পুলিশী আচরণে সাধারণ নিরপরাধীদের জিনা হারামঃ
এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সেবকদের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ও আশেপাশের পাশের লোকজন কঠিন অস্থির থাকেন, কখন কার ছেলেরে ধরে নিয়ে গিয়ে দাম হাঁকায়!
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের একাধিক সদস্যরা বলেন, "ওইটায়ই তো আজীবন সবার শান্তি হারাম করছে, মান ইজ্জত খাইছে, এখন তো দেখি রফিক-মামুনের আরেক গতি! তারা তো কাউকে মানুষই মনে করে না, টেকার জন্য ডাইরেক্ট পল্টি সবার সামনে দিনেদুপুরে এক স্টিক গাঁন্জা লইয়া ধরে, থানায় যাইতে যাইতে ফোন দিয়া কয় বিশ হাজার লইয়া আও নাইলে কিন্তু হেরোইনের মামলা দিয়া দিমু, থানায় গিয়াও দেহি করছেও তাই! মনে মনে ভাবলাম, আচ্ছা হারামজাদার তো জেলেই যাওয়া দরকার, যাক কিন্তু পুলিশ হিরোইনের মামলা দিলো কেমন? পুলিশ এতো হিরোইন, ইয়াবা পায় কোথা থেকে? রিকভারি কি কিনেঞ আনে? টাকা পায় কই? আগে দুই পিস ইয়াবা নিয়া ধরা খাইলে থানাই নিয়া ফোন দিয়া কইতো দশ হাজার লইয়া আও নাইলে দুইশো পিসের মামলা দিয়া দিমু, এতো ইয়াবা পুলিশ পায় কোথা থেকে? কেমনে রিকভারি দেয়!? আর তাদের ফোনের ডাকে যেই টাকা নিয়া যাই, সেই উপকার পাইছি, মিছা কথা কমু না। তারা টাকা আর ওই সাথে পাওয়া গাঁজা বা ইয়াবা রেখে দিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয়। আর লকাপে ঢুকাইলে রেট বেড়ে যায়, তখন কি করে, টাকা নিয়ে কথা রাখে, রিকভারি গায়েব করে খালি ফিফটিফোরে চালান দিয়া দিছে, পরের দিন সকালে কোর্টে উঠালেই জামিন পায়।"
এই ক্ষেত্রে আরও একটা কথা আছে অনেকেই জানায়, যারা ব্যবসা করে তাদের তো আর এই সিস্টেমে টাকা দিতে সমস্যা হয় না, মাদক বেচা ক্যাশ টাকা তারা পুলিশের জন্য আলাদা করেই রাখে আগে থেকেই। ধরা খায় আর ফোন দিয়া বলা মাত্র নগদ টাকা পাঠিয়ে দেয় জাগায়ই ছেড়ে দেয় আর 'নো-রিকভাযি' ধরে লকাপে ভরে দিলে মোটা টাকা খেয়ে ছেড়ে দেয়, কখনও আবার ফিফটিফোরে চালান দেয়। আর তাদের মামলার টার্গেট তাদের দিয়ে পূরণ করে তাদের সাথে দামে ও সময়ে বনিবনা হয় না।
শাহজাহানপুর থানা এলাকাটি ঢাকা শহরের নাভী। এলাকার যারাই পুলিশের সংস্পর্শ গিয়েছে তাদের ও যারা তাদের আশেপাশে থেকে দেখে তাদের সকলেরই আফসোস, মতিঝিল থানাকে তিন ভাগ করে সবচেয়ে ছোট ভাগ নিয়ে নিজের এলাকায় থানা এনে ভুল করলাম না'তো!? এখন তো দেখি ঘরের পাশে থেকে আমাদের পুলিশই আমাদেরই সাথে পাকিস্তানী সৈন্যদের মতো আচরণ করে! মানেটা কি? এরা না বিভিন্ন জেলার শিক্ষিত ছেলেরা? এদের এমন আচার ব্যবহারের মানে কি? এদেরও না পরিবার আছে? আছে ছেলে মেয়ে যার চুলের গন্ধে ঘুম এসে যাবার কথা, তাদের শিশু কন্যার চুলের গন্ধ তারা কি পআয়স?আসে? প্রিয় শিশু কন্যাটির কথা ভাবে না?
তাহলে কি পারে!? কেনো করে? কি পায়? কি চায়? তারা আর তাদের স্যারেরা মিলে কি আমেরিকা চলে যাবে বাড়ি বানিয়ে, এই স্বপ্ন দেখে আর ওই ডিউটি করে!? ঢাকায় ও গ্ৰামে যা ঘরবাড়ি টাকাকড়ি হচ্ছে ওসব দাদাবাড়ি, নানাবাড়ির গল্প হবে বুঝি, এমন কিছু কি ভাভে? কিন্তু তাই কি হয়!?"
বিষয় হচ্ছে, দীর্ঘদিন অভ্যস্ত বলেই অতো দীর্ঘ সময় একটা রুমে কাজ করেও আমি সেরাতে বিরক্ত হলেও কনসেট্রেশন হারাই নাই বলেই তার চোখেমুখে বেশ একটা শিকারীর ভাব দেখলাম! এবং কিছুটা অবাকও যে হোলাম না তার না'চেনার ভাব দেখে তাও কিন্তু না...
তবে আসল কথা হচ্ছে, পুলিশ আসলে ডিউটি করে কিভাবে? চাকুরীরত থানাধীন মানুষের সাথে তাদের কি এ্যাচিভমেন্ট?
একজন বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করা, আধুনিক পুলিশী ট্রেনিং নেয়া যুবক বা যুবতী পুলিশ অফিসারের চাকরি পেয়ে নিজের এলাকা বাদ দিয়ে অচিন এলাকায় গিয়ে সেখানকার জনগণের টাকায়ই কিনে দেয়া পোশাক গায়ে চড়িয়ে "পুলিশ" পরিচয়ে সেই এলাকার জনগনের সাথেই শিকারীর মতো আচরণ করে! অকাতরে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে! একটি অঞ্চলে চাকরি করতে এসে তারা এমন ভাবেই আচরণ বিধি লঙ্ঘন করার হিম্মত রেখে যাচ্ছেন যা অত্যন্ত মারাত্মক। ওদিকে বিসিএস ক্যাডার সার্ভিসের পুলিশ অফিসারদের অধুনার চরিত্র ও মানসিতা দেখে একাধিক লোক বলেন, "মাথায় আসে না, এতো কিছুর পরেও তাদের ভিতরে মানুষের জেগে ওঠা হয়না, পুলিশে যারা চাকরিতে আসে তারা প্রায় সবাইই হাভাত পরিবারের ছেলেমেয়ে হয়েছে বলে কি আনকালচার্ভ ফ্যামিলির ছেলেমেয়ে তারা? নয়তো লেখাপড়া করে, এতো প্রতিযোগীতা করে, ট্রেনিং নিয়েও কেনো তাদের আচরণ মানুষের মতো হয় না? পুলিশ কি মানুষ না? তাই বলেই কি তারা অমানুষের মতো মামলা বানিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন তছনছ করে দিতে পারে?
"মিথ্যা মামলা!
হয়রানিমূলক মামলা!
প্রতিশোমূলক মামলা!
দাবিয়ে দিতে মামলা!
-এরা মনে মনে ভাবের পোলাউ পাকায় আর এমন এমন মামলার আইও হচ্ছেন যার বাস্তব প্রেক্ষাপট প্রমাণ হওয়া মানেই "জাত গেলো, জাত গেলো...", হতাশ হয়ে জানায় হাবিবের মা।
এছাড়াও একজন এতো শিক্ষিত, ট্রেইন্ড অফিসারের কাছ থেকে এটাই বা কি করে জনগণ আশা করেন যে পুলিশ পাপ পূণ্য না মানার ট্রেনিং নিয়ে চলে! আর এই শ্রেণীর পুলিশী থেকে মুক্তির উপায় কি? ফখরুদ্দিন সাহেবকে আমরা জীবনে ভুলবো না, তার আমলে পুলিশ মানুষ হয়ে গিয়েছিল এবং তারপর থেকে পুলিশ আসছে মানেই যেনো সাইক্লোনের পূর্বাভাস।
আমাদের অনেকের কাছে থাকা তথ্য মতে, এই থানার খাতায় এমন এমন মামলা আছে যা সামাজ ধ্বংস দৃষ্টান্তমূলক চক্রান্তমূলক মামলা! জেনারেশন নিয়ে নোংরা মামলা মামলা খেলা!!! এদের করা এমনও মামলা আছে যেসব মামলা ভৌতিক বললে ভুত পর্যন্ত পালাবে ডরে!!!
সবচেয়ে মারাত্মক ও দৃষ্টি আকর্ষণ মূলক তথ্যঃ
বর্তমানে ঢাকার শাহজাহানপুর থানাটির কার্যালয় উত্তর শাহজাহানপুর ঝিল মসজিদের সামনে একটা নতুন বিশাল বিল্ডিং-এ চলছে বটে কিন্তু এর জন্ম হবার পর খিলগাঁও বাজার আর বাগানবাড়ির পেছনে ছিলো কয়েক বছর। শাহজাহানপুর থানার এই থানাটির সেই জন্মলগ্নের পর থেকে, পুরনো ইট, কাঠ, পাথর বদলে গেছে, শত শত পুলিশ এই থানায় চাকরির সুবাদে বদলি হয়ে এসেছেন গেছেন কিন্তু ওয়ান এন্ড ওনলি নাম এসআই মামুন প্রথম দিন থেকেই আছেন বহাল তবিয়তে! সকলের প্রশ্ন এর রহস্য কি?
তথ্য মতে এসআই মামুন ঢাকা শাহজাহানপুর থানার সবচেয়ে পুরনো পুলিশ (বাই বডি)। তার এই অবস্থানের স্বপক্ষে থানা কর্তৃপক্ষের যুক্তি, 'একজন পুরোনো লোক একটা থানার জন্য দরকার! সে নতুনদের পথ প্রদর্শক হয়ে সাহায্য করে! পুলিশ ট্রেনিং-এ কি শিক্ষা দিয়েছে? সব থানাতেই এমনটা নেই কেনো? আর পুলিশের আইনে কি আছে? নাকি রহস্য অন্য কিছু!?
সেদিন এক ফর্মা আরেক ফর্মারে বলে, "মামুন স্যারে এই এলাকার সব খবর জানে, এইর লাইগগাই স্যারেরে ওসি সাহেবরাও মাইননা চলে বুঝছ কিছু!"
সেই ফর্মা এই ফর্মাকে বলে, "আরে হুরু বেট্টা তুই বুঝছ ধো*? একটা ওসি মানে কি বুঝে? হের উপরে নিচে বেক পাকনা, তরেও দেহে! মামুন স্যারে হইলো বেট্টা টাকার মেশিন, হের হাত বহুত লম্বা, সব খায়, সব করে, বহুত ব্রেন, কেউ তারে হিলাইতে পারে? তয় তুই যা কছ ওইডা না...!"
আগেই বলেছি, লোকে যারে ঢাকা শহর বলে সেটা আমাদের গ্ৰাম, আমরা এই মাঠিতে ছেলে থেকে বুড়ো হয়ে গেছি। আমরা এখানকার মানুষ। এই রাজধানী শহরের সবচেয়ে ভালো ভালো শিক্ষা ও কালচারাল প্রতিষ্ঠানের, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে আমাদের পদচারণা ছিলো যৌবনে। একটি গ্ৰামের ছেলের কাছে তার গ্ৰাম যেমন সবচেয়ে প্রিয়, একজন চোরও যেমন চুরি করতে যায় অন্য জায়গায়, নিজের ঘরে সেও একজন বাবা, মা, সন্তান, ভাই-বোন ও বন্ধুজন, সবাইকে সবাই চেনে, সবাই সবার খবর কমবেশী জানে, অত্র এলাকাতেও তেমন সবশ্রেণী ও পেশার যারা আছেন তারা এসব কিছু দেখে শুনে অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ। এলাকাবাসী কেউ কিছুতেই চায়না যে অন্য কোনো জেলা থেকে চাকুরী করতে আসা কোন পুলিশ অফিসার এসে তাদের সাথে এমন আচরন করে যা দেখে মনে হয় যেনো আরেক গায়ের রাখাল-কামলারা এসে গরু-ছাগলের মতো এলাকার মানুষ চড়িয়ে খেয়ে যাক।
এথেকে উত্তরণে উপায়ঃ
আমরা মনে করি বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমানে ডিউটি নিয়ে তেমন ভাবে কাউন্সিলিং হচ্ছে না বটে তবে অচিরেই হবে। এথেকে মুক্তির জন্য দরকার একটা পজেটিভ পরিবর্তিত হাওয়া এবং একজন শক্ত ও পবিত্র হাতের নেতৃত্বে হাল ধরা না থাকাই সব সমস্যার মূল।
আমরা আশা করি, যেকোনো মুহূর্তে পুলিশের জন্য মজবুত কাউন্সিলং চালু হবে। একজন মানুষ একজেলা এলাকা থেকে আরেক জেলা এলাকার একটি থানায় সরকারি পুলিশী চাকরি নিয়ে এসে ফুল টাইম আসলে কে কখন কোথায় কি করে কাটান!!? -এর ১০০% সময়ের মনিটরিং করে, তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এই মনিটরিং-এ তাদের কার স্বাক্ষরিত কোনো কোনো থানায় কোন কোন মামলাগুলো হয়েছে? ওসব মামলার বাস্তব প্লেক্ষাপট কি ছিলো? সব জেনে নিতে হবে...
আমি মনে করি, এলাকার একজন পজেটিভ, দেশপ্রেমিক শক্তিশালী মাইন্ডেড নেতা তাঁর তথ্যকর্মীদের নিয়ে চাইলেই এ মিনিটরিং-কাউন্সিলিং এখনই চালু করে নিজ এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য অভাবনীয় সু-ফসল আনতে পারেন, যা ঘরে ঘরে সকলের একান্ত কাম্য।
উল্লেখ্য, আমাদের শাহজাহানপুর থানা এলাকাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১১-১২নং এই দুটি ওয়ার্ড এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর মধ্যে আমাদের ১২ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর একজন "এককথায় নেতা", একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিক হিসেবে সবার কাছে খুব প্রিয়জন। তার ছোঁয়া পেয়ে এলাকাতে এই প্রথম এসেছে আমুল পরিবর্তন। আমরা এতে তার উপরে অত্যন্ত সন্তুষ্ট, তার জন্য সবাই খুব করে দোয়া করেন ও আশা করেন , একমাত্র তার হাতেই এলাকার অবশিষ্ট একমাত্র সমস্যা রোগাক্রান্তরা পুলিশী আচরণের চিকিৎসা সম্ভব। তার মেধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে সঠিক ভাবে বন্টন করা গেলেই শাহজাহানপুর থানা বাংলাদেশের জন্য শান্তিপূর্ণ একটা মডেল থানা এলাকা হয়ে উঠতে পারবে রাতারাতি। এছাড়াও এলাকাবাসী তাকে এতোটাই ভালোবাসে যে তারা সবাই দোয়া করে যেনো সারা ঢাকা শহরের সব ওয়ার্ডের কাউন্সিলরা সবাই যার যার এলাকার শুভ্ররাই যেনো হয়, তাহলে ঢাকাবাসী আজীবন নিরাপদে থাকতে পারবে, তাদের আর নিরাপত্তা ও দুঃখ দুর্দশা নিয়ে ভয় পেতে হবে না।
আমরা জানি, "সুবৃক্ষে সুফল ধরে, সুশিক্ষিত নেতা হাল ধরলে সমাজ বদলে যায়, সৃষ্টি হয় দিন বদলের ইতিহাস,
(চলবে...)
সাফকথা
0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা