শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

এহেন দুঃখজনক ঘটনার অবতারণা কারা করে!?


মঞ্জুর মোর্শেদ : আবহমান কাল ধরে এই আবাসিক এলাকাটি চাঁদাবাজি মুক্ত ছিলো এবং আজ‌ও আছে, বিশেষ করে কলোনীয়াল কেউ কোন কালেই এই আবাসিক এলাকায় এসে কোনো প্রতাপ প্রকাশের ইতিহাস করেন নি। এটি ঢাকায় একটা আয়তনে ছোট্ট কিন্তু সম্ভ্রান্ত বাঙ্গালী সভ্যতার চাদরে ঢেকে রাখা এলাকা কিন্তু এবার একেবারে কচিকাঁচা কিশোর রাজনীতিক তথা থানা ছাত্রলীগ নেতা কতোগুলো কচিকাঁচা ছেলেদের নিয়ে এসে একটি পরিত্যাক্ত বাড়িতে প্রথমে ভাড়া দিতে টু-লেট ও পরে আজ এসে তালা দিয়ে প্রধান ঘটক বন্ধ করে গেছে।


এই অবস্থার পেছনের কারণ:

উল্লেখ্য এখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি হতদরিদ্র রিক্সার গ্যারাজ চলতো, এখন তা চালাতে হলে মাসিক মাসোহারা হিসেবে মোটা অংকের চাঁদা দিতে হবে যা থানা ছাত্রলীগ সভাপতিসহ তার সহযোদ্ধা একদল কিশোররা এসে ও ধরে নিয়ে গিয়েও একাধিকবার জানিয়েছে হতদরিদ্র গ্যারেজ পরিচালক পক্ষকে। সভাপতি বেচারা অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র ভাবে তার বাবার বয়সী গ্যারাজ পরিচালককে আকুতি করে বলেছে, "কাকা, আপনাকে আমিই না আমাদের বাপ-চাচারাও চেনেন জানি, আপনি এই মাটির ছেলে এক কালে নিজেদের বাড়ি ছিলো কিন্তু কাকা আমি বাধ্য, কাকা লাখ লাখ টাকা খরচ করে পদ নিতে হয়, লাখ লাখ টাকা খরচ করে চালাতে হয়, আপনি বুঝবেন না....!" 

এবং সেই বাধ্য হয়েই নেয়াও হয়েছে বেশ কিছু রক্ত পানি করা রিক্সাওয়ালাদের প্যাডাল মারা টাকা চাঁদা বাবদ কিন্তু গ্যারাজ পরিচালকের এককথা, "যা দেয়া হয়েছে তা ওদেরকে নিজেদের সন্তান জেনে অনুদান ভেবে দেয়া হয়েছে কিন্তু আমি চাঁদা দিয়ে কোনো কাজ করবো না।" তার মতে, হতে পারে এখন হালত তাকে এখানে এনেছে, সে বলে, "আমি অত্র এলাকার একটি ব্লু-ব্লাড গায়ে ধারণ করি। আমার বাবা পাকিস্তান আমলের ব্যারিস্টার, বাবা ফজলুল হক চৌধুরী সাহেব নেই কিন্তু এখনও আদালত পাড়ায় একজন আইডল হিসেবে সুপরিচিত রয়েছেন অনেকের কাছেই। এই রাস্তা দিয়েই তিনি আমাদের নিজের ভক্সওয়াগন গাড়িতে চড়িয়ে আদর করে স্কুলে নিয়ে গেছেন, আমাদের পক্ষে কোনো অনৈতিক কাজ করা সম্ভব নয়। এই মাটির সাথে আমি বেঈমানি করতে পারবো না, চাঁদা দেয়া-নেয়াসহ আরও অনেক নোংরামির সাথেও থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, না খেয়ে বৌবাচ্চা নিয়ে মরে গেলেও না। আমরা শুধু দেশের সাথেই নয়, আমরা ভাই কারো সাথেই কখনো বেঈমানি করতে পারবো না, কারও হক ছিনিয়ে নিয়ে সন্তানদের খাওয়াতে পারবো না।"

তবে একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে এত্র থানা এলাকাটি আবহমান কালের ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা একজন কাউন্সিলর পেয়েছে এবার। এই রাজনীতিক দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হবার আগেই ছাত্রলীগের মতো একটা জাতীয় রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ স্থানীয় নেতা ছিলেন, শুধু তাই নয় এই ছাত্রনেতা বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির জন্য একজন আইডলম্যান হিসেবে সবার মনে বেঁচে আছেন। এবার কাউন্সিলর হবার পরেও তার কর্মকাণ্ড ও ভূমিকায় এলাকার লোকজন এক কথায় তার জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করেন। এলাকাবাসীর মতামত, এই ঘটনাটা এখনও ওই কাউন্সিলর সাহেবের কানে পৌঁছে নি, পৌঁছে গেলেই সে বিনা বিতর্ক বা যুদ্ধ, রক্ত ক্ষয়ে এই সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন, ইনশাআল্লাহ। সবাই এককথায় নিশ্চিত যে এই কাউন্সিলরের জন্য এটা কোনো বড়ো বিষয় নয়।

উল্লেখ্য এই এলাকাটি ওই নেতা(কাউন্সিলর)'র‌ও নিজ‌-এলাকা। আর তিনি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীদের জানি দুশমন বলে জগত বিখ্যাত। শুধু তাই নয় এই থানা এলাকার লোকজন তাদের সন্তানদের সবসময় সীমানার মধ্যে রেখে মানুষ করার চেষ্টা করেন, ফলে কিছু অবিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এই এলাকায় এখন‌ও চাঁদাবাজির রাজনীতির প্রচলন ঘটেনি, এটাই প্রথম। এমনকি ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একাধিক এই এলাকার ছেলে হ‌ওয়া সত্যেও এই এলাকায় কখনোও কাউকে চাঁদা দিয়ে কিছু করতে হয় নি, নিজেদের টাকা পয়সা, হক কামাই নিয়ে চলাফেরা করতেও বাড়তি প্যারা নিতে হয়নি সাধারণ মানুষের, ইতিহাসে বলতে গেলে এটাই প্রথম, তাই প্রাইমারী স্টেজে রয়েছে বলে চাইলেই এথেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব...

জানা গেছে, চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে আরেকজনের বাড়ি ভাড়া দিতে টু-লেট ও তালা দেবার মতো অপরাধ জনক কাজের একটা সুরাহার উদ্যোগ নিয়ে আগামীকাল বসা হবে, যা শুনে এলাকার পুরোনো লোকজন ও বাড়িওয়ালারা বলেন, "আগামীকাল বসবেন কে বা কারা জানি না, জানার দরকার‌ও নাই, কারণ আমাদের এলাকায় আমাদের লোকজন ছাড়া কাড়া বসবে? কিন্তু কথা হচ্ছে, এটা কেমন হোলো? কারা আমাদের সন্তানদের এভাবে নষ্ট করলো? 

যেকাজ আমাদের এই এলাকার লোকজনের জীবনে করতে হয়নি তা হচ্ছে, টাকা দিয়ে পদ কেনা, নেতামী করা। এই এলাকার সন্তানরা আজীবন তাদের যোগ্যতার কারণেই সম্মানের সাথে সিটি থেকে শুরু করে দেশ ও জাতির লিডিং পেয়েছে কিন্তু এবার হঠাৎ কোথা থেকে কারা এই রাক্ষস-খোক্ষস নেতারা পয়দা হোলো!? যারা আমাদের ছেলেদের লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে পদ কিনতে বাধ্য করেছে, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সেই পদ চালাতে বাধ্য করছে এবং বাধ্য হয়েই আমাদের শিশুমতি কিশোর যুবকদের টাকার জন্য চাঁদাবাজি পর্যন্ত করতে হয়....! তারা কারা? আমরা তাদের নিপাত চাই, চাই আমাদের এলাকাটা আজীবন যেনো আগের মতোই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ মুক্ত একটা নিরাপদ এলাকা থাকে।"

[বিঃদ্রঃ- ঘটনাস্থল ৩৮৬, উঃ শাহজাহানপুর, ঢাকা-১২১৭]

( মামুন রশিদ শুভ্র )

(সাফকথা)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ