শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

ঢাকা শাহজাহানপুর থানার আতঙ্ক ও মাদকের শেল্টারদাতা মামুন এখন খিলগাঁও থানায়


বিশেষ প্রতিবেদন: ২০১২ সালে ঢাকা জেলার দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঐতিহ্যবাহী মতিঝিল থানাকে ভেঙ্গে ৩ ভাগে বিভক্ত করে যথাক্রমে মতিঝিল, পল্টন ও শাহজাহানপুর থানা প্রতিষ্ঠিত হয় (ডিএমপিতে)। এ থানার সবচেয়ে পুরনো ও সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চাকুরে পুলিশ অফিসার যে কিনা সদ্য বদলি হয়ে খিলগাঁও থানায় গিয়েছেন তার বিরুদ্ধে শাহজাহানপুর এলাকাবাসীর অভিযোগের শেষ নাই।

রাজধানী ঢাকার শাহজাহানপুর থানা। ১.৭৭ বর্গকিলোমিটার নিয়ে গঠিত, এ থানার জনসংখ্যা ২,৭৪,৩২৪ জন (প্রায়)। থানাটির অন্তর্গত উত্তর ও দক্ষিণ শাহজাহানপুর, পশ্চিম শান্তিবাগ, শান্তিবাগ, মোমেনবাগ, গুলবাগ, বকশীবাগ, শহীদবাগ, রাজারবাগ (আংশিক), মালিবাগ প্রভৃতি এলাকাগুলি। এছাড়াও শাহজাহানপুর থানা এলাকাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১১ ও ১২ নং এই দুটি ওয়ার্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ (প্রায়)।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই ঢাকা শাহজাহানপুর থানা পুলিশের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য চরিত্রের নাম এএস‌আই মামুন। উল্লেখ্য এই এএস‌আই মামুন ততোদিন ধরেই এই শাহজাহানপুর থানাতেই এএস‌আই পোষ্টিং-এ কর্মরত ছিলেন, যতোদিন থানাটির বয়স‌, -এটা তার একটা বিশেষ রহস্য! সরেজমিনের তথ্যমতে, প্রায় ১১ বছর বয়সী শাহজাহানপুর থানার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও এলাকাবাসীর কাছে সবচেয়ে অভিশপ্ত পুলিশের নাম এএস‌আই মামুন

এলাকাবাসীর দাবি, এএস‌আই মামুন মানেই রিকভারি না পাওয়ার পরেও ধরে নিয়ে গিয়ে রিকভারি দিয়ে মামলা, মামুন মানেই দুই পিস ইয়াবা উদ্ধার বাদ বিশ/ত্রিশ পিস ইয়াবাসহ মামলা, মামুন মানেই এক স্টিক গাঁজাসহ ধরে পাঁচ হাজার জরিমানা আদায়, নয়তো থানায় নিয়ে গিয়ে ইয়াবার মামলা, অধুনায় মামুন মানেই ছিলো, 'পেয়েছে গাঁজা দিয়েছে হেরোইনের মামলা, মামুন মানেই ধরেছে ইয়াবাসহ মামলা হয়েছে হেরোইনের'। গ্ৰেফতারকৃতদের ও প্রত্যক্ষদর্শীসহ যারা আসামীকে চেনেন তাদের সবার প্রশ্ন, "মামুন এতো ইয়াবা, হেরোইন পায় কোথা থেকে!?

শাহজাহানপুর থানায় সবচেয়ে দীর্ঘ দিন চাকরি করা এই এএস‌আই শাহজাহানপুর থানার প্রতিটি অলিগলি, বাড়িঘরের খবর জানেন বলে এলাকার লোকজন ও তার ফর্মারা বলেন। তাদের মতে, শাহজাহানপুর থানার ওসি সাহেবেরাও মামুনকে তোয়াক্কা করে চলেন, কারণ মামুন এই থানায় দীর্ঘদিন চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে সিনিয়র। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নতুন নতুন এ‌এস‌আই ও এস‌আইরা মামুনের নাম শুনলেও যেনো চমকে উঠে, ভুতের ভয় পেলে যেমন চমকায়!

প্রায় এক যুগের কাছাকাছি সুদীর্ঘ সময় ধরে ঢাকার মধ্যবিন্দু ছোট্ট শাহজাহানপুর থানায় হাজারও পুলিশ বদলি হয়ে এসেছেন গেছেন কিন্তু এক অজানা রহস্যের কারণে একমাত্র এএস‌আই মামুন থানাটির জন্ম লগ্ন থেকে ছিলেন, গত সপ্তাহে তাকে বদলি করে খিলগাঁও থানায় পাঠানো হয়েছে বটে কিন্তু শাহজাহানপুর থানানিবাসী লোকজনের তার বিরুদ্ধে রয়েছে পাহাড় পরিমান অভিযোগ ও অভিশাপ। সকালে মতে, "এতো অপরাধের অপরাধী এই বরিশাইল্যা এএসআই মামুনের অন্ধকার জগতের হাত এতোই লম্বা যে তাকে ডিএমপি থেকে আর বের করা যায় না!" 

সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত এই এএস‌আই মামুন নামটির প্রধান বৈশিষ্ট্য কি? 

এই প্রশ্ন করলে প্রায় সকলেরই এক কথার উত্তর, "রিকভারি বানিয়ে দিয়ে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার বেতাজ বাদশাহর নাম, 'মামুন দারোগা'। শাহজাহানপুর থানা এলাকায় জন্মলগ্ন থেকে এএস‌আই মামুনের হাতে পরে মামলা খাওয়া প্রায় প্রতিটি অভিযুক্ত ব্যক্তি, তাদের পরিবারের সদস্যরা ও উপস্থিত থাকা ব্যক্তিবর্গের এক দাবি, 'মামুন ধরছে মানেই একটা মিথ্যা মামলা'। মামুন দারোগা ধরবে, মারবে , ডাকাতের মতো পোষাকে বা পোশাক ছাড়াই বাইক নিয়ে এসে তুলে নিয়ে যাবে....! তারপর ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লকাপে। এই ঘোরাঘুরির মধ্যেই সামারি করে ফেলে তার পেছনে থাকা বুড়োটা! সামারি সময় ও মনমতো না হলেই রিকভারি দিয়ে সোজা লকাপে, মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি করে লাভ করার ব্যবস্থা করে।" 

শাহজাহানপুর থানানিবাসীরা বলেন, "সবার সামনে প্রকাশ্যে কিছু পায় নাই অথবা ২/৩ পিস ইয়াবা কিম্বা সামান্য গাঁজাসহ পাইছে কিন্তু পরে শুনি মামলা হয়েছে ২০/৩০ পিস ইয়াবা কিন্বা হেরোইনের! শাহজাহানপুর থানার যতো লোক মামুন দারোগা'র হাতে এরেষ্ট হয়েছে তাদের প্রায় ৯৮%-এর মতো সকলের পরিবারসহ প্রত্যক্ষদর্শী ছাড়াও অনেকেরই কাছে মামুন বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, 'মামুন ধরে নিয়ে গিয়ে ইচ্ছা মতো রিকভারি দিয়ে মামলা দিয়ে দেয়'। 

কিন্তু তারা মামুনকে এতোটাই ভয় পায় যে তারা মামুনের নাম‌ও মুখে আনতেও সাহস পায়না!

কেননা, শাহজাহানপুর থানার মামুন এসে হঠাৎ কোনো বাড়ির কোনো ছেলেকে উঠিয়ে নিয়ে গিয়ে ইয়াবার মামলা দিয়ে দিয়েছে, -এমন অনেক প্রমাণ আছে। মামুনের হাতে মামলা খাওয়া একাধিক জামিনে থাকা আসামিরা বলেন, "আল্লাহর গজব পরড়ে মামুনের উপরে, সে খালি খালি আমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে রিকভারি দিয়ে মামলা দিয়ে আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। শাহজাহানপুর থানার একাধিক টুকটাক মাদকাসক্তদের কথা হচ্ছে, "আমি মামুন দারোগা'র হাতের মিথ্যা ইয়াবায় মামলা সমাজের চোখে, ফ্যামিলির চোখে পঁচে গেছি" 

এছাড়াও একাধিক লোক বলেন, "মিথ্যা মামলা খেয়ে তিন-চার মাস কাষ্টরি দিয়ে বাড়িতে ফিরে দেখি আমার বাচ্চাদের নিয়ে লজ্জায় বাপের বাড়ি চলে গেছে আমার স্ত্রী কিন্তু তারা জীবনে কোনদিন আমাদের একটা সিগারেট খেতে দেখে নাই, জিজ্ঞেস করে দেখেন। এলাকায় বেশকিছু লোক ইয়াবা ব্যবসা হয়ে গেছে সমাজের চোখে, একমাত্র এই মামুন দারোগা'র হাতে রিকভারি দিয়ে মামলা হবার কারণে।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে মিলেছে, এছাড়াও কিছুই পায়নি অথচ মাদক মামলার আসামি হয়েছে এমন লোকের সংখ্যা তো অগনিত। এলাকার ওয়াল টু অল সকলের ওপেন চ্যালেঞ্জ যদি কোনো চরিত্রবান, সৎ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা দিয়ে মামুনের করা মামলা গুলোর নিখুঁত তদন্ত করা হয় তবে ফলাফলে যা মিলবে তাতে করে তার করা একটি মামলাও ১০০% সঠিক বলে প্রমাণিত হবে কিনা তার উপরে ১০০% সন্দেহ আছে। 

এছাড়াও মামুনের হাতে এই থানায় এমন এমন কিছু মামলার পয়দা হয়েছে যার বাস্তবতা জানলে তার ভয়ে শরীর শিউরে উঠবে। 

এছাড়াও শাহজাহানপুর থানা এলাকায় যারা মাদক নিয়ে নাড়াচাড়া করে তাদের ওপেন চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, মামুনের যদি ডোপটেস্ট করা হয় তবে মামুনের বাঁচার কোনো উপায় নাই। 

এছাড়াও বর্তমান শাহজাহানপুর থানা এলাকার লোকজনের মনে সবচেয়ে বড় দুঃখ হচ্ছে, এই এলাকাটি যখন বৃহত থানা মতিঝিলের অন্তর্ভুক্ত ছিলো তখন এই এলাকায় এক পোটলা গাঁজা পাওয়াও প্রায় অসম্ভব ছিলো কিন্তু ওই থানা ভেঙে ছোট করে নিজ এলাকায় আনার পর থেকেই কেমন করে যেনো এলাকাটির চেহারা রাতারাতি বদলে যাওয়া শুরু হয়। বেড়ে যায় মাদকসহ ভৌতিক মামলার প্রকপ আর এই মাদক জগত শাহজাহানপুর থানা এলাকার মহানায়ক মামুন দারোগা। মামুন দারোগা'র সাথে শাহজাহানপুর থানা এলাকার প্রতিটি মাদক ব্যবসায়ীর সাথে পরিচয় আছে, কেননা সে এই থানার জন্ম লগ্ন থেকে আছেন।

'মিথ্যা মামলার বাবা' নামেও মামুন এলাকায় পরিচিত। এই মামুন দারোগা যে আসলে কতোটা নরপশু তার অজস্র উদাহরণ রয়েছে এই এলাকার ঘরে ঘরে। অগণিত ছেলেরা নষ্ট হয়ে গেছে মামুনের রিকভারি বানিয়ে করা মামলা খেয়ে, অসংখ্য মানুষের জীবনের ক্যারিয়ার ওলটপালট হয় গেছে এই মামুনের রোষানলে পরে অনুসন্ধানে এমন তথ্য‌ই বেরিয়ে আসে। মামুন দারোগা'র রোশানের শাহজাহানপুর থানা এলাকার যারাই মামলা খেয়েছে, তাদের প্রত্যেকের পরিবার ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে একটা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এলাকাবাসী। 

সাংবাদিককে থানায় আটকে মামুন দারোগা'র চক্রান্তে নেককারজনক রেডিমেট মামলা

২০২১ সাল, তারিখ: ৮ সেপ্টেম্বর। সাংবাদিক মাহবুব আলম র‍্যাব-৪ এর তৎকালীন একজন অফিসারের সাথে ক্যাম্পের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে, মোবাইলটা ক্যাম্পে চার্জে দেয়া, এমন সময় তথ্য মাধ্যমে জানতে পারে যে এলাকার এক বিশেষ প্রকৃতির মাদকসেবী থেকে পুলিশের তারনায় বাধ্য হয়ে মাদক ব্যবসায়ী রফিক এই প্রথমবার শাহজাহানপুর থানায় এরেষ্ট হয়েছে আর বিখ্যাত ফর্মা (নাম কতৃপক্ষের কাছে) ছেলে রফিকের এরেষ্ট হ‌ওয়াটা একটি বিশেষ বিষয় বিভিন্ন কারণে, রফিক মাদক নিয়ে একসময় নাড়াচাড়া করতো, ও ইয়াবা আসক্ত ছিলো, এলাকার লোকজন সহ রফিকের পরিবার সহ সবাই জানেন রফিক পুলিশের আদরে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো কিন্তু বছর খানেক হবে রফিক নিজেকে বদলে নিয়েছে, বর্তমানে সে এলাকার মসজিদে গিয়ে নামাজ‌ও আদায় করে (মাশআল্লাহ)।

রফিকের এরেষ্ট হবার কথা জানতে পেরে মাহবুব আলম বুঝতে পারে যে এখানে একটা বড়ো সামারি হবে। তাই মাহবুব সেই অফিসার বন্ধুর কাছে, "আসছি..!" বলে একটা রিক্সা আপডাউন ভাড়া নিয়ে শাহজাহানপুর থানায় ছুটে যায়, অবশেষে এরেষ্ট হয়।

তখন শাহজাহানপুর থানা ছিলো রেলকলনীর ভিতরে। মাহবুব থানায় গিয়ে রফিকের এরেষ্ট হবার বিষয়ে প্রশ্ন করলে থানা সরাসরি অস্বীকার করে অথচ রফিকের স্ত্রী টাকার বান্ডিল আর শিশুটিকে কোলে নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করছে স্বামীকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে, যাচ্ছে, পাইটু আর রিক্সা নিয়ে ওরা অপেক্ষায় আছে, দেখে এসে মাহবুব ভিতরে এসেও দেখে রফিক নিয়ে দরকষাকষি চলছে, উল্লেখ্য, তারা কেউ তাকে চিনতে পারেনি যে সে একজন রিপোর্টার।

এমতাবস্থায় ক্রাইম রিপোর্টার মাহবুব কিছুতেই শাহজাহানপুর থানা ছাড়ে না, এমন সময় মামুন থানায় এসে মাহবুব আলমকে দেখে প্রথম চিনতে পারে এবং শুরু করে দেয় তার ষড়যন্ত্রের পায়তারা।

উল্লেখ্য, এএস‌আই মামুনের অনেক পাপের তথ্য এই মাহবুব আলমের কাছে আছে আর তাই এএস‌আই মামুনের মোবাইলে মাহবুব আলমের মোবাইল নাম্বার ব্লক করা। এটা একটা নোট করার মতো পয়েন্ট।

উল্লেখ্য যে এটি একটি বিরল উদাহরণ যে বাংলাদেশের একজন এস‌আই কারো মোবাইল নাম্বার ব্লক করে রাখে! যদিও দেখা যআয়, হাজার হাজার মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করা লোকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ জানে বলে। অত‌এব, এমন কি কারণ থাকতে পারে যে শাহজাহানপুর থানার এএসআই মামুন একজন রিপোর্টারের নম্বর ব্লক করে রাখে?

অনুসন্ধানে মিলেছে, এই মামুনের অনেক আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ ও সাক্ষী মাহবুব আলম ও তার নিউজ মিডিয়া।

সেদিন এই মাহবুব আলমের উপস্থিতির কারণেই মামুন‌ও রফিককে ছেড়ে দিতে পারছিলো না টাকা নিয়ে, এমতাবস্থায় মামুন হঠাৎ নিজেদের মধ্যে প্লান করে, অনেকদিন শাহজাহানপুর থানায় সেই সুবাদে এদেশের অনেক নিউজ মিডিয়াতেও তার ভাই হয়েছে, সে তাদের সাথে ফোনালাপ করে হঠাৎ করে বিনা কারণে, বিনা অপরাধে তারা মাহবুব আলমকে ওখানে স্টপ করে দেয়, লকাপে আটকে। ওসি সাহেব সব জানতেন, জানতেন তৎকালীন তদন্ত ইনচার্জসহ অনেকেই।

একদিকে মাহবুব প্রাণপণে চেষ্টা করে একবার থানার লকাপটি উঁকি মেরে স্বচক্ষে দেখে আসবে রফিক আছে কিনা অন্যদিকে মামুন তার প্লাটুন নিয়ে প্লান করে ওসি সাহেবকে মিথ্যা আত্মবিশ্বাস দিয়ে (তার অভিজ্ঞতাকে প্রধান্য দিয়ে) মাহবুব আলমকেই লকাপে পুড়ে দেয়।

কেউ জানে না মাহবুব আলম শাহজাহানপুর থানার লকাপেই মামুনের টর্চারে প্রায় দুই দিন, দুই রাত!

মাহবুব প্রশ্ন করলে ক্ষেপে যায় মামুন শুরু হয় মাহবুবের উপর হায়নার মতো আক্রমন। "হ রফিক এরেষ্ট হয়েছে আবার ছেড়েও দিমু তাতে তোর কি? তোর খুব বার বেড়েছে, তোকে শিক্ষা না দিয়ে ছাড়বো না", বলে মামুন তাকে অযথা লকাপে আটকায়।

দুই দিন দুই রাত মাহবুবকে গুম করে থানায় আটকিয়ে রেখে মামুন মারতে মারতে তাকে অসুস্থ করে ফেলে। অতঃপর তাকে নিয়ে পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে মামুন মোটামুটি সুস্থ করে এনে তার বিরুদ্ধে একটা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে তাকে চালান করে দেয়ার ব্যবস্থা করে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, এমতাবস্থায় যে মামলাটি হয় তার বাদী কমলাপুরের কুখ্যাত মাদকডন ওমর।

থানার সবচেয়ে পুরনো অফিসার মামুন ওমরের নারী নক্ষত্র চেনে, আশেপাশের পাঁচ থানা এলাকার পুলিশসহ যাদের জানার কথা সবাই জানেন ওমর একজন মাদক ব্যবসায়ী।

রিপোর্টার মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাটির বাদী, "কে এই ওমর?"

বছর পাঁচেক আগে ধ্বংস হয়ে যাওয়া কমলাপুর রেল স্টেশনের ৮নং প্লাটফর্ম কেন্দ্রিক জমিলার আড্ডার পর সেখানে এই ওমর‌ই প্রথম মাদক ব্যবাসী হিসেবে চিহ্নিত। তথ্য মতে, তৎকালীন মেথর পট্টি পর্যন্ত একদা জমিলা সুন্দরীর একটি ঐতিহাসিক মাদকের যে আখড়া ছিলো প্রায় ১৪ বছর ধরে। এদেশের মাদক জগতে আজ‌ও যারা এই জমিলার নাম জানে না বুঝতে হবে যে সে আসলে মাদক জগতে 'নিউকামার' অথবা কেউ না, জমিলা এখনও ওয়ান্টেড!

উল্লেখ্য সেই ২০১৯ সালে‌র জমিলার কমলাপুর স্টেশন কেন্দ্রিক মাদক ব্যবসা কালের‌ও অবসান হয় ওই মাহবুব ও মোর্শেদ নামক দুই রিপোর্টারের সাফকথা পত্রিকায় পুরো পরিবারের সচিত্র নিউজ প্রকাশ পাবার পরে এবং এরপর সেখানে আর কোনো মাদক ডন পয়দা হয়নি, ওমর‌ই প্রথম ডন(ছয় সাতটি থানা এলাকার তথ্য মতে)।

তথ্য মতে, জমিলা সুন্দরীর আখড়া বন্ধ হয়ে যাবার পর প্রায় বছর দুয়েক কমলাপুর এলাকাটি প্রায় মাদক মুক্ত একটি এলাকা ছিলো কিন্তু তারপর ওই এলাকায় নতুন করে মাদক ডন হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে ওমরের। প্রায় ২০/২৫ জন আবাল বৃদ্ধ ভনিতা সেলসম্যান দিয়ে ওমরের স্পটে ২৪ ঘন্টার গাঁজা সাপ্লাই চলে যে খবর ছয় থানার মোহনা এই স্থানে ডিউটি করেন এমন সব পুলিশ প্রশাসন সহ অর্মা-ফর্মা, মাদক ব্যবসায়ী, তদ্যকর্মীরা সবাই জানেন।

তথ্য মতে, এই ওমরকে চেনার কথা ঢাকার মুগদা, মতিঝিল, পল্টন, শাহজাহানপুর থানাসহ জিআরপি থানার যেকোনো পুলিশের। রাতদিন ২৪ ঘন্টা কমলাপুর ময়লার মোড়ে চলে ওমরের গাঁজার স্পট, ক্ষনে ক্ষনে জায়গা বদল করে ওমর, লাগ লাখ টাকার গাঁজার স্পটের ডন।

অনুসন্ধানে মেলে, অগণিত মাদকের মামলা রয়েছে এই ওমরসহ তার সিন্ডিকেটের সবার নামে, একজন চিহ্নিত মাদকব্যবসাসী সে। পুলিশ যে ওমরকে খোঁজে বছরের ৩৬৫ দিনের ২৪ ঘন্টা, কেননা সবাই মনে করেন যে মারাত্মক এই অপরাধীকে দেখা মাত্রই ধরে এনে ইন্টারোগেশন করার কথা থানাগুলোর। যে সুচতুর ওমর বারংবার জামিনে বেরিয়ে আসে, ফিরে আসে তার আখড়া চালায় সেই ওমর থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।

শাহজাহানপুর থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এর প্রতিমিনিটের ভিডিও রয়েছে। মামুনের তৎপরতায় ওমর‌ই শাহজাহানপুর থানায় শ্বশরীরে এসে‌‌ রিপোর্টার মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে একটা আজগুবি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে চলে যায়, যে মামলায় বলা হয় যে এই রিপোর্টার চাঁদার দাবি করেছে।

উল্লেখ্য মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে মাদকডন ওমরের একটি ভাঙ্গারীর দোকান থেকে চাঁদা চাওয়া হয়েছে এবং তাই তার বিরুদ্ধে ওই চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে, যে মামলার সাক্ষীরা সবাই স্পট চালায়, বিভিন্ন মামলার আসামি।

যে ওমরকে ছয় সাতটি থানার পুলিশের হন্নে হয়ে খুঁজে বেড়ানোর কথা এবং চোখে চোখে রাখার কথা সেই ওমর কি করে থানায় এসে (বাস্তবে নাই) এমন একটি ভাঙারীর দোকানে চাঁদা চাওয়ার কথা উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে নিরাপত্তার খাতিরে রিপোর্টারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা নিরাপত্তার সাথে ফিরে যায়? তার রহস্য কেউ জানে না, তবে এএস‌আই মামুন, তৎকালীন ওসি সাহেব, ওসি তদন্ত, তথাকথিত এক বিটিভির সাংবাদিকসহ কয়েকজন জানেন।

মাহবুব আলম জানান, মামলাটি দেবার আগে শাহজাহানপুর থানায় মাহবুবকে আটকে রেখে মামুনের হাতে তুলে দেয়া, শারীরিক ও মানসিক ভাবে মাহবুব এএস‌আই মামুনের চাইতেও ফিট তাই মামুন হাতে হাতকড়া লাগিয়ে টাঙ্গিয়ে মাহবুবকে রাতদিন নির্যাতন করতো, আর বলতো, "সাংবাদিক, শিক্ষিত, স্পার্ট..., পুলিশ কি বুঝছ? তরে আগে বাপের নাম ভুলাইয়া পুলিশের নাম শিখামু...!" 

-এই সাংবাদিক নির্যাতনের মহা উৎসবের মধ্য একদিন নির্যাতন চলা কালীন সময়ে এমন‌ও ঘটনা ঘটেছে যে জয় মাহমুদ নামের উক্ত সাংবাদিক একদা শাহজাহানপুর থানায়‌ এসে মাহবুব আলমের মার খাওয়ার ভিডিও করে যায় ইন্ডিয়ান সিনেমার ভিলেনের মতো!

মাহবুব আলমকে মামলা দেবার আগেই বিটিভির জয় মাহমুদ খ্যাত এই সাংবাদিক এসে মাহবুব আলমের সাথে কিছু কথাবার্তাও বলেন যা অত্যন্ত মারাত্মক হুমকি ছিলো বলে তথ্য মিলে। মাহবুব আলম বলেন, "তদন্ত কর্মকর্তার সামনেই জয় মাহমুদ তার নিজের মোবাইলে ভিডিও করে আর মামুনরা আমাকে অমানবিক টর্চার করে।"

মাহবুব জানান, অতঃপর এই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে একদিন মাহবুবের মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়ে মরার মতো অবস্থা হলে মামুন তাকে পুলিশ হাসপাতালে নিজে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করিয়ে কিছুটা সুস্থ করে এনে ওমরকে ধরে এনে তাকে বাদী করে মাহবুবের বিরুদ্ধে একটা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে তাকে জেলহাজতে চালান করে দেয়।

ওদিকে মাহবুবকে খুঁজতে থাকে তার পরিবারের লোকজন, কেউ জানে না, কোথায় মাহবুব আলম। মামলায় পুলিশ মাহবুব আলমের ঢাকা ও গ্ৰামের সকল ঠিকানা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিকই লিপিবদ্ধ করেছে কিন্তু কাউকে কিছু জানায় নি, যা মানবাধিকার লঙ্ঘন।

চালান দেয়ার দুদিন পরে মাহবুব কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে তার পরিবারের লোকজনকে খবর পাঠালে তারা ছুটে যায় এবং আবিষ্কার করে গুম হয়ে যাওয়া মাহবুবকে।

এখানেই মামুনের রাক্ষুসে খেলা শেষ হয় না।

মাহবুব জেলখানায় যাবার প্রায় ২০/২৫ দিন পর ওই এলাকার অপর ক্রাইম রিপোর্টার মন্জুর মোর্শেদ জানতে পারে যে মাহবুবকে দেয়া চাঁদাবাজি মামলার একজন দুই নম্বর আসামীও আছে এবং তা সে নিজেই!

কেমন করে? মঞ্জুর মোর্শেদের পরিবার সহ যারাই শোনে তারাই হতবাক হয়ে প্রশ্ন করেন কিভাবে? এবং অসম্ভব বলে মত প্রকাশ করেন সকলেই এমনকি অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের তদন্তেও মেলে ওমর‌ও এই নাম জীবনে আগে শোনেও নাই!

কিছুদিন যেতে না যেতে শাহজাহানপুর থানার তৎকালীন আরেক পুলিশ অফিসার শাহীন একদিন রিপোর্টার মন্জুর মোর্শেদের নিজস্ব বাড়িতে গিয়ে তার মাকে জানিয়ে আসে যে তার ছেলের বিরুদ্ধে থানায় একটা চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে, সে মোবাইলে একটা মামলার ওয়ারেন্টের ছবি দেখিয়ে চলে আসে।

উল্লেখ্য ওই এলাকায় সবচেয়ে সম্ভ্রান্ত পরিবারটির জীবনে নেমে আসে কষ্টের অন্ধকার ছায়া। তবুও তারা বিশ্বাস করতে না পেরে থানায় গিয়ে ওয়ারেন্টের একটি কপি নিয়ে দেখেন যে সেই রহস্যজনক ওয়ারেন্ট ও মামলায় মেলে মন্জুর মোর্শেদের নাম! কিন্তু নেই বাবা-মায়ের নাম বা কোনো প্রকারের কোনো ঠিকানা, আদ্যপান্ত। মামরার দুই নম্বর আসামি, "শুধু একটি নাম"।

এমতাবস্থায় রিপোর্টার মন্জুর মোর্শেদ ওই মামলায় জামিন আবেদন করতেও প্রথমে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন।

তার কথা হচ্ছে, শুধু মন্জুর মোর্শেদ নামের এই মামলাতে যদি তার জামিন নিতে হয় তবে বাংলাদেশে যতো মন্জুর মোর্শেদ আছে তাদের সবাইকে অবশ্যই জামিন নিতে হবে এই মামলা বাবদ এবং যেহেতু মাহবুব আলমের এরেষ্ট করা, তাকে দুইদিন দুইরাত গুম করে রাখার পর মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে যার খবর তখন সে জানেই না সেই মামলায় সে জামিনের আবেদন করতে যাওয়া মানে নিজেই নিজেকে অপরাধী বলে প্রকাশ করা হয় তাই সে কিছুতেই মামলার ধারে কাছেও যেতে চায় না।

ওদিকে একমাত্র নামের উছিলায় শাহজাহানপুর থানার পুলিশ প্রতিনিয়ত মন্জুর মোর্শেদের বাসায় এসে তাকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে পুলিশ। মামলায় বাবা-মায়ের নাম বা বাড়িঘরের কোনো ঠিকানা না থাকার পরেও পুলিশ কেনো ওই বাড়িতে যায় তার জবাব কেউ জানে না, আর দাপুটে পুলিশ তো কাউকে কোনো জবাবই দিতে নারাজ, যেনো পাকিস্তানি সেনারা বারবার এসে বাসায় হানা দিচ্ছিলো।

শাহজাহানপুর থানা এলাকার সবচেয়ে সুশিক্ষিত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারটিকে রীতিমতো নাজেহাল করে ফেলে। মারাত্মক মামুন বাহিনীর চক্রান্তের এই মামলায় মন্জুর মোর্শেদ গত তিন বছর যাবৎ আদালতে হাজিরা দিতে থাকে একদিন ন্যায় বিচার পাবে এই আশা নিয়ে কিন্তু তিন বছরের মধ্যে এই প্রথম মন্জুর মোর্শেদ উকিলের সাথে ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটা হাজিরা দিতে ব্যর্থ হয় এবং বদ নসিব সেদিনই তার নামে পুনরায় ওয়ারেন্ট ইস্যু করে মহামান্য আদালত যা মন্জুর মোর্শেদ জানেন না, একদিন দুপুরে মন্জুর মোর্শেদ ও তার স্ত্রী দুপুরের খাবার খেতে বসেছেন, অর্ধেক খাওয়া হয়েছে এমন সময় মামুন সিভিলে দুজন পোশাক পরা পুলিশ যেখানে তার সকল পাপের দোষর আয়ুব‌ও আছে গিয়ে হাজির হয় মন্জুর মোর্শেদের বাসায় এবং ওই অর্ধেক খাওয়া রেখেই তাকে ধরে নিয়ে আসে থানায়, লকাপে ভরে দেয় বীরদর্পে। 

শুরু হয় মামুনের আরেক পাপের অধ্যায়ের এর‌ই মধ্যে হঠাৎ মামুনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শাহজাহানপুর থানার পার্শ্ববর্তী খিলগাঁও থানায়।

(চলবে...)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ