শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

আমার কিছু ব্যক্তিগত তথ্য (কনফেজ)

(ছবি: আরহাম মোর্শেদ)

মঞ্জুর মোর্শেদ  : আমি আমার ব্যক্তিগত জীবনে‌ ৮০'র দশকে একজন (হয়তোবা ব্যতিক্রমধর্মী) মাঠ পর্যায়ের ছাত্ররাজনীতিক ছিলাম, কেননা আমি ছিলাম নটরডেমিয়ান। আমরা তখন সদ্য যুবা, দেশে সরকার ছিলেন পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, আর আমি যদিও জাতীয় পার্টি করতাম না কিন্তু জাতির পার্টির ছাত্ররাজনীতিকদের সাথে আমি ও আমাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠতা ছিলো, আমরা স্কুল জীবন থেকেই বন্ধু ছিলাম এটাই তার প্রধান কারণ। তাছাড়া আমাদের মধ্যে প্রায় সবার সাথে সবার ছোটবেলা থেকেই কানেকশন ছিলো। 

রাজধানী ঢাকার শান্তিনগরের কথা বলছি‌। শান্তিনগরের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ তখনও ফ্রিডম ইমাম-মিজান ভাইদের দখলে ছিলো। এদিকে আমরা ব্রান্ড-নিউ কলেজ ছাত্র, তখনও কোনো প্রকার কোনো রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত হ‌ই নাই কেউই। ফার্স্ট ইয়ার মানে স্বাধীনতার সাথে প্রথম প্রথম দেখা পরিচয়, এক কথায়, 'ম্যাজিক টাইম' জীবন ও বয়সের। 

হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে সদ্য এডমিশন নেয়া প্রথম বর্ষের ছাত্র আরিফ, রতন, আজাদ, সোহেল, রিপনরা (একটা এইচ১০০ হোন্ডা চালাতো) ছিলো আমার জিগার দোস্ত, আমি নটরডেমের ক্লাস শেষ করে চলে যেতাম হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে, আরও বিভিন্ন কলেজের দোসবন্ধুরাও আসতো। আমরা সবাই হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে আড্ডা দিতাম, আমাদের মিলনমেলা ছিলো হাবিবুল্লাহ। এককথায় ঢাকা শহরের বিভিন্ন কলেজের কয়েকজন ছাত্রবন্ধুদের হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ‌ই সময় কাটানোর জন্য বেষ্ট চয়েস হয়ে যায়। আমরা তখনও নন পলিটিক্যাল ছেলের দল, সবাই সিটির বিভিন্ন এলাকার ছেলে, আমরা ঢাকা দক্ষিণের ভালো ভালো স্কুলগুলো থেকে সদ্য মেট্রিক পাশ করে বিভিন্ন কলেজে এডমিশান নিয়েছি, সবার নিজ নিজ কলেজের ক্লাস শেষে সবাই হাবিবুল্লাহ-এ যারা এডমিশান নিয়েছে তাদের কাছে চলে যেতাম, ডেইলি বিশাল একটা জম্ফা মিলাতাম। একদিন হঠাৎ কলেজের বড়ো ভাইদ্বয় রাজু, মনজু দুইজনে আমাদের গ্ৰুপটাকে গ্ৰেট ওয়ালে সুপের দাওয়াত দেন ('গ্ৰেট‌ওয়াল' হাবিবুল্লাহ'র অপজিটে জলখাবারের পাশে তত্কালীন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট), আমরাও আনন্দ করে চলে যাই আর আমাদের জন্য তো সেটাই স্বাভাবিক ছিলো, তাই না? সেখানে গিয়ে আমাদের সাথে পরিচয় হয় সিলেটের ছেলে, শামীম ভাই, জাতীয় পার্টির পাওয়ারফুল লিডারের সাথে, ভাই একটা লাল রঙের টুডোর সুবারু ডিলাক্স গাড়ি ড্রাইভ করতেন, দারুন লোক ছিলেন ভাই। আমরা খাওয়া দাওয়া করলাম তারপর দুই বড়ো ভাই ও একজন জাতীয় পার্টির লিডার মিলে আমাদের কাছে যুক্তির সাথে প্রস্তাব রাখেন যে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ জাতীয় পার্টির আমলে ফ্রিডম পার্টির দখলে থাকতে পারে না, ইমাম মিজান যতোই পাশের চামেলীবাগের ছেলে হোক না কেন, তাদের দিন শেষ, এখন আমাদের দিন ইত্যাদি ইত্যাদি।

আমরা সংক্ষেপে বুঝে নিলাম এবং একশনে নেমে পরলাম কিন্তু অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আমাদের শ্রদ্ধেয় পার্শবর্তী এলাকার বড়ো ভ্রাতৃদ্ধয় ইমাম মিজানরা হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের দখল ছেড়ে দেন, আমরা কলেজের দখল নিয়ে তা দিয়ে দেই রাজু মনজু হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের দুই বড়ো ভাইদের হাতে। 

উল্লেখ্য, তখন‌ও জাতীয় পার্টি ছাত্র রাজনীতি বন্ধ ঘোষণা করে নি, রাজু মনজু ভাইয়েরা একটা দারুন নির্বাচন করে ফুল প্যানেলে পাশ করেন, তবে ছাত্রলীগের গুলবাগের জসিম পাশ করে, ছাত্রদলের মিলন ভাই পাশ করলেও আসা যাওয়া ছিলো না। হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের ওই প্যানেলে আমাদের সহপাঠী আরিফ, রিপন, তুষার সহ অনেকেই ছিলো। আর তখন থেকেই হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজ কেন্দ্রিক একটা নতুন ভাব, জৌলুস ছড়িয়ে পরতে শুরু করে চারিদিকে। ঢাকার মধ্যবিন্দু শান্তিনগর বাজারের উল্টো পাশে দুটো ছিমছাম দোতলা বিল্ডিং একটা সান বাঁধানো পুকুর ঘাট সহ পুকুর ও একটা বাস্কেটবল মাঠ নিয়ে ছোট্ট হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে সারা ঢাকা শহরের ছাত্র নেতাদের ২৪ ঘন্টা আসাযাওয়া শুরু হয়, ওখান থেকে মন্ত্রীদের প্রগ্ৰাম এটেন করা হোতো। 

বর্তমানে যেটা সাবের হোসেন চৌধুরীর নির্মিত 'কনকর্ড টাওয়ার' তখন ওটা ছিলো 'শামীমা বিবাহ ঘর', একটা পার্টি হাউজ। রাস্তার উল্টো পাশে ছিলো, 'করোনা ইন্টারন্যাশনাল' সাবের হোসেন চৌধুরীর বাবার ছোট্ট অফিস। শামীম ভাই তখন ওই শামীমা বিবাহ ঘরেই আসা যাওয়া করতেন, তিনি ছাত্র নয় বলে সহসা হাবিবুল্লাহ ক্যাম্পাসে ঠুকতেন না, আজকালের রাজনীতিকরা এসব রেসপেক্ট যদিও থোরাই কেয়ার করেন। বলা যায় কলেজ লেভেলের রাজনীতির ক্ষেত্রে হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে ছিলো একটা দৃষ্টান্ত মূলক সুন্দর পরিবেশ ও ছাত্ররাজনীতির চর্চাস্থল। মিরপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ সহ সিটির বেষ্ট এন্ড মোষ্ট পাওয়া ফুল ফ্যামিলির ছেলেরা, যারা কলেজ স্টুডেন্ট ও পলিটিশিয়ান তারাসহ ভেরি ইমপর্টেনট পারসনরা আসা-যাওয়া করতেন, বছরে কয়েকবার ব্যান্ড শো হোতো, শান্তির পিকনিক থেকে সব সেলিব্রিট করা হোতো তখন। 

আগেই বলেছি, আমি সহ আমরা অনেক কলেজের ছাত্ররা জাতীয় পার্টি করতাম না কিন্তু এক্টিভিটিতে আমাদের মনে এরশাদ একপ্রকার হিরো ছিলেন, নেতা হিসেবে। হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজের প্যানেলের প্রথম সারির ছাত্রবন্ধু ছিলাম আমরা সর্বোচ্চ অধিকার নিয়ে, তৎকালীন শান্তিনগর এলাকার রতন ছিলো হাবিবুল্লাহর ছাত্র সহযোদ্ধা, বেলীরোড়, সিদ্ধেশ্বরী, সেগুনবাগিচার থেকে শুরু করে পুরাণ ঢাকার স্টুডেন্ট লিডারদের সাথে কলেজ পলিটিশিয়ানদের সাথে আমাদের মত বিনিময় হোতো, চলতো আসা যাওয়া, অকেশন করে অনুষ্ঠান করতাম, কল্লোল আলী বাবু আমাদের জাতীয় পার্টি মাইন্ডেড গীটারিস্ট স্টুডেন্ট লিডার ছিলো, ওর কারণে সবাই যাই করি সুরেলা থাকতাম, বেসুরো কোনো কিছু আমরা পছন্দ করতাম না। 

আমি ও আমরা কলেজ লেভেলে হাবিবুল্লাহ থেকে শুরু করে ফেনী কলেজ সংসদের তৎকালীন খোকন ভাই পর্যন্ত ঘুরে এসে ঢাকা কলেজ, ঢাবির হল পর্যন্ত ছাত্ররাজনীতি করতাম। এক্টিভ স্টুডেন্ট পলিটিক্স। বেশ কয়েক বছর...

আমার প্রাতিষ্ঠানিক ছাত্রজীবন শেষ করার পরে বাবা একদিন তার ছাদের গোলাপ বাগানে আমাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলেছিলেন, "..... ঠিক আছে বাবা, কনটিনিউ করো কিন্তু এখন তোমার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সফর শেষ করে একটা মোড় নিতে হবে, তাই না?" আমি তার সাথে একমত হোলাম...

তিনি বলেন, "তবে তার আগে আমি তোমাকে আবার একটা অপসন দেই, তুমি গ্ৰহন করে দেখতে পারো। (আমার নিরবতার সম্মতি চেখে নিয়ে) তুমি এক কাজ করো, তুমি একটা ব্রেক নিয়ে বিদেশ ভ্রমন করে আসো। শোনো বাবা, তুমি তো নিশ্চ‌ই জাতীয় পর্যায়ের‌ই কিছু একটা করতে চাও, এমতাবস্থায় তুমি যদি পৃথিবীর একাধিক জাতির জাতীয় নীতি-আদর্শ সরেজমিনে উপভোগ করে না দেখো তাহলে তুমি কি করে তোমার জাতির জন্য সঠিক চয়েস করবে? ভেবে দেখো।" 

ওদিকে আমার নারীর টানের ছাত্ররাজনীতিতে শুভ্র সভাপতি নির্বাচিত হোলো না! সিলেকশনে পলাশ হয়ে গেলো হঠাৎ করে! ফলে বুকটা ভাঙ্গা চৌচির ছিলো। আমার, চাচতো ভাইয়ের, সুজনের, টুটুলের, পুরো ক্যাম্পাসের ৮০% ছাত্ররাসহ সারা বাংলাদেশের তৎকালীন ছাত্রনেতাদের অনেকের, নিরবে, নিভৃতে কষ্ট পেয়েছিলো অনেক নেতা। অভিমানে হল ছেড়ে চলে এসেছিলাম, এরপর সুজনটা তো চলেই গেলো না'ফেরার দেশে...

একজন ছাত্ররাজনীতিকের অপমৃত্যুকে যদি শহিদী মৃত্যু বলে গণ্য করা যায় তাহলে আমি খুব খুশি হয়ে বলবো, শহীদ সুজন, ভাই আমার হারিয়ে গেছে...

ভাঙ্গা মন নিয়ে বাবার কথা মেনে চলে গেলাম বিদেশে, প্রায় দশ বছর পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির মানুষের সাথে মানুষ হয়ে মিলেমিশে ঘুরে আবার দেশে ফেরার পরে আমি বাবার কাছ থেকে আবার একটা অপসন পেলাম একদিন বাপবেটার সিটিং-এ, তিনি অপশন বাবদ আমাকে দেখিয়ে দিলেন তার অবশিষ্ট সামান্য সম্পত্তির একমাত্র পুত্র সন্তান হিসেবে আমার উত্তোরসরীর হিসেবটা এবং তিনি বোঝালেন যে আমা ব্যক্তিগত পরিবারটি আজীবন ইনশাআল্লাহ ভালভাত, ওষুধপাতি পাবে ওখান থেকেই, যদি আল্লাহর কোনো গজব না আসে এবং তার ১০০% কেবলমাত্র আমি ও আমার পরিবারের জন্য‌ই হালাল এবং বৈধ হবে। 

এরপর বাবা বললেন, "শোনো বাবা, আমি একজন অত্যন্ত সাধারণ মানুষ তবে আমি একজন সরকারী কর্মকর্তাও বটে, ডিপার্টমেন্টে আমি ফেমাস অফিসার এবং তুমিই আমার একমাত্র পুত্র সন্তান, বেষ্ট ফ্রেন্ড, মেধাবী যুবক। বাবা, কার কেনো কি হয় জানি না, তবে আমি আমার জীবনে দেখেছি, আমার সরকার আমাকে বেতন-ভাতাবাবদ যা দেয় তা দিয়ে আমার এই ছোট্ট পরিবারটা চালিয়ে তোমাকে ও তোমার বড়ো বোন দুটিকে এদেশের সবচেয়ে ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে বেগ পেতে হয় না। এমনকি আমাকে কোনো অনৈতিক কাজ‌ও করতে হয় না, আলহামদুলিল্লাহ। তুমি জানো, বনবিভাগে আমার নামটাই একজন অত্যন্ত তেজী ও সৎ কর্মকর্তা হিসেবে খ্যাত, এটা আমার এচিভম্যান্ট। ভয়ংকর মেজাজী সরকারি কর্মকর্তা আমি, একটা দোনালা বন্দুক, দুইটা থ্রিনট থ্রি রাইফেল, একটা ত্রিটু রিভলবার ও গোটা কয়েকজন গার্ড, মালি, বোটম্যান নিয়ে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের জঙ্গল সুন্দরবন চষে বেড়াই ২৪ ঘন্টা! আমি একজন খুব ভালো সুটার ও হর্স রাইডার, সারাজীবন গুছানো জীবনের স্মার্ট ম্যান, আমি বোঝার পর থেকে নামাজ কাযা করছি দেখে নাই, এ কথা বলে আমার মা আমাকে নিয়ে সাক্ষ্য দেয়, এসব‌ই কিছুই তোমার জানা কথা, লক্ষ্য করে দেখো আমি আমার নিজেকেসহ তোমাদের দেশের সবচেয়ে মানসম্পন্ন জীবন দিয়ে রাখতে সম্পন্ন হয়েছি, এক্ষেত্রে তোমরা সবাই ভালো ভাবে লেখাপড়া করে আমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দিয়েছো, আমার এটাই টার্গেট ছিলো, আমার আর কিছু চাওয়ার নাই। আমি কখনও ভাবি নি, আমার সন্তানরা লেখাপড়া শিখে কি করবে, আমি ভেবেছি আমার সন্তানরা লেখাপড়া করে শিক্ষিত হবে, মানুষ হবে তারপর ওরা ওদের যোগ্যতা মতো মানুষের সেবামূলক একটা কাজ করবে, আমার কোনো ব্যাংক একাউন্ট ছিলো না, চাকরী জীবনের শেষে পেনশনের কারণে ব্যাংক একাউন্ট লাগবে তাই কয়েক বছর আগে একটা একাউন্ট করেছি সোনালী ব্যাংকে। আমি কখনও টাকার মালিক হবার কথা ভাবতাম না, আমি ভাবি আমি একজন সরকারি কর্মকর্তা, আমি আমার সরকারের কাছ থেকে প্রতিমাসে যে বেতন-ভাতা পাই তা দিয়ে যেনো পুরো মাসটার সবকিছুতে ১০০% করতে পারি, একটাকা সেইভ করার দরকার নাই। আমার এই টার্গেট মাত্র আমরা পাঁচ জন মানুষ নিয়ে, আর আমার এটা করতে কোনোদিন কোনো প্রকারের অর্থনৈতিক বেগ পেতে হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। সরকারি বেতন-ভাতাই যথেষ্ট ছিলো, অবশ্য আমার অনেক জমি জমা কেনা হয়নি, একারণেই আমার বাবা চাচাদের‌ও জমি জমা কেনা হয়নি, তাদের‌ও ব্যাংক একাউন্ট ছিলো না পেনশনের আগে করেছেন আর পেনশন ছাড়া আমাদের একাউন্টে তেমন কোনো লেনদেন পর্যন্ত করা হয় নাই। অথচ তারা বিশিষ্টজন ছিলেন, বৃটিশ আমলের শিক্ষিত সেকশন অফিসার‌, সেটেলমেন্ট অফিসার ছিলেন। তুমি জানো আমাদের মধ্যে এমন জেলা ফুড অফিসার আছেন যিনি ময়মনসিংহের স্বদেশী বাজার থেকে চাউলের বস্তা কিনে নিয়ে যেতেন বেতনের টাকা পেলেই, আমি তোমার ফুফার কথা বলছি। আজ আমি এ কথাগুলো তোমাকে বলছি তোমার জীবন নিয়ে আজ তুমি আমি একটা দিক নির্ধারণ করবো বলে, আমি জানি, তুমি আমার প্রতিটি কথা শুনছো এবং বুঝতেও পারছো, তুমি তুখোড় মেধাবী, আমি আজীবন আল্লাহর কাছে তোমার মেধা বৃদ্ধির জন্য দোয়া করি। বাবা পৃথিবীটা একটা মঞ্চ তুমি আমি এখানে একজন কমন ডিরেকটরের সবধরনের বিনিয়োগ ও স্ক্রিপ্টে উপস্থাপিত হ‌ই, আমাদের কারও এক সেকেন্ডের ভরসা নাই, প্রকৃতি তার ডিসিশনে চলে, মানুষ যতোই যা ভাবে, আর যে যা ভেবে যা করে কিন্তু শেষপর্যন্ত দেখা যায় ফলাফলটা প্রকৃতির হাত থেকেই পেতে হয়। তাই অযথা নেগেটিভ লাইফ, নেগেটিভ চিন্তা ভাবনা করে কি লাভ বলো? আমরা ভাবি এক, প্রকৃতি করে আরেক, প্রতিবার ঘুম থেকে জেগে ঘুমের আগের সাথে ভাবনাদের চলমান রাখতে পারি না কেউ, আর যদি তাই হয় তবে আমরা সবসময় পজেটিভ ভেবে, সবচেয়ে ভালো ভালো ডিসিশনগুলো কেনো নেবো না? আমাদের ডিশিসনে যেহেতু ফলাফল হয় না প্রকৃতির ইচ্ছাই সব তাই, তুমিও আমার মতো সবসময় পজেটিভ ডিসিশন নিবে, আমি জানি তুমি করোও তাই, তুমি আমার ছেলে তো বাবা।

বাবা, তোমাদের আমি যতো আপারগ্ৰেডের লাইফ দিতে পেরেছি তোমার আরও দু-তিনটা ভাই-বোন থাকলে আমি কুলিয়ে উঠতে পারতাম না হয়তো। শোন বাবা, আমি এই হিসাবটা আমার প্রথম জীবনেই ভেবে নিশ্চিত হয়ে, লেখাপড়া শুরু করেছি, সংসার ধর্ম শুরু করেছি, আল্লাহর ইচ্ছায় তোমার বোন দুটো আর তোমাকে নিয়েই আমি আল্লাহর দরবারে মনের খুশি প্রকাশ করে জীবন যাপন করছি, আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকুর আলহামদুলিল্লাহ। আর যেহেতু তুমি আমার একমাত্র ছেলে এবং আমরা দুজন বেষ্ট ফ্রেন্ড তাই আমি তোমাকে এই পৃথিবীতে সবচেয়ে ভালো চিনি। বাবা আমি তোমাকে কোনো ব্যবসা বাণিজ্য বা চাকরী বাকরীর মধ্যে না ঢোকার একটা অফার দিচ্ছি, তুমি ভেবে দেখো। তুমি চাইলে তুমি কেনো টিউশনিও করতে পারো, কারণ তোমার কাছে দারুন ট্রেনিং জ্ঞান আছে যা সাকসেস নিয়ে আসে, তাই তুমি এই জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দাও আর বিনিময়ে পাওয়া গুরুদক্ষিণা দিয়ে এলিফ্যান্ট রোডে গিয়ে মার্কেটিং করবে মনের মতো! কি ভালো বুদ্ধি না? আমি চাই তুমি তোমার জীবনের পুরো সময়টা মানবতার জন্য উৎসর্গ করে দাও। এই ক্ষেত্রে তুমি যদি আর কিছুও না করতে পারো, তবে তুমি একাকী তোমার পরিবার নিয়ে ডালভাত খাবে, ঘরে থাকবে, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাবে, নামাজ পড়বে আর আল্লাহর কাছে সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করে দোয়া করতে থাকবে লাগাতার। তুমি রাস্তায় চলার সময় কখনও আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে না, কেউ করলে তুমি তার প্রতিবাদ করে ন্যায্যকথা বলবেই, তা তুমি যেভাবেই বলোনা কেনো। আমি জানি তুমি তাই করোও।

তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি, তুমি কি মনে করো, তোমার পরিবারের জন্য তোমার কি বাড়তি দশটা বাড়ির দরকার আছে? একটা পরিবারের জন্য কেনো দশটা বাড়ির দরকার হবে? তোমার কি মনে হয়, ধ্বংস নেমে আসলে দশটা বাড়ি বা দশ হাজার কোটি টাকা কোনো বাঁধা হতে পারে? তাছাড়া তোমার যদি একার অহেতুক দশটা বাড়ি থাকে তাহলে বাকি নয়জন কোথায় পাবে তাদের ভাগের বাড়িঘর? তারা গৃহহীন আর তোমার বাড়তি আছে, তুমি কি তাইলে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে গেলে না, এই প্রতিযোগীতার বাজারে? তার চেয়ে বরং তুমি যেহেতু তোমার ন্যায্যভাগ বুঝে পেয়েছো, তুমি তা নিয়ে চলে যাও আর এথেকে সামান্য যা পারো অন্যকে দিয়ে নিজেকে বিলিয়ে দাও এই দেশের সাধারণ মানুষের জন্যে এবং তুমি মনে করো এজন্যই তোমার মানবজন্ম নেয়া।

এই ক্ষেত্রে আমি বলবো, তুমি লেখালেখি করো। আর লেখালেখি করার জন্য প্রচুর পড়াশোনা দরকার, আমি জানি তুমি ক্লাসের ব‌ই কম পড়লেও এখনও প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পড়ো, আমি যার জন্য তোমার উপরে খুব খুশি, আমার তোমার কাছে আর চাওয়ার কিছু পাই না, আমি দেখেছি, শিশুকাল থেকেই তুমি দারুন বহিঃরমূখী দুর্দান্ত একজন মানুষ কিন্তু সেই তোমার ভিতরে ছোটবেলা থেকেই একজন পড়ার পাগল মানুষ যে আছে তা সাধারণত ঘরকুনো লোকদের মধ্যে থাকে, তুমি ব্যতিক্রম ধর্মীদের মধ্যে পরেছো। তোমার আগ্ৰহ দেখে আমিও তোমাকে অগনিত ব‌ই পুস্তক, কাগজ কলম কিনে দিয়েছি, এখনও দিচ্ছি, পড়ও, এছাড়া তোমার প্রতি আমার আর কোন নির্দেশ নাই, পড়লেই তুমি নতুন নতুন পথ খুঁজে পাবে।"

বাবা বললেন, "শোন বাবা, এছাড়াও দেখা যায় ৮০ দশকের শিক্ষিত যারা এখন খুব ভালো ভালো অবস্থানে আছেন তাদের মধ্যে খুব সামান্য কিছু মানুষের মগজে, হাতে কলমে ডিজিটাল দুনিয়া বিদ্যমান, -এমনটা দেখা যাওয়ার কারণ তখন‌ও ইন্টারনেট কেবলমাত্র উন্নত দেশে বিস্তারলাভ করছিলো, সেসময়ে কেবলমাত্র খুব আপার ভার্সন এবং আন্তর্জাতিক মানসিকতা সম্পন্ন মানুষের মগজেই তখন এসব বিষয় আসার সুযোগ হয়েছে। বাঙালীকে দেখা যায় শক্তপোক্ত ভাবে ডিজিটাল হ‌ওয়া শুরু করেছে ২০০০ সালের পর থেকে। অথচ আধুনিক নেটওয়ার্ক, ডিভাইজ হ্যান্ডেলিং যেভাবে কাজে লাগাতে পারো এটা দেখে আমি আমার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। 

লক্ষ্য করে দেখো তোমার ৮০ দশকের জেনারেশনের প্রায় ৯৯% মানুষ‌ই বর্তমানের ডিজিটাল পৃথিবীর জেনারেশনের কাছে একপ্রকারের আদিম মানুষ অন্তত আইটি সিষ্টেম অপারেটিংয়ের দিক দিয়ে। তাদের মধ্যে যারা পৃথিবীর এডভানস জেনারেশনের এডুকেশন ও গুড কালচারে লালিত হয়েছে তুমিও তাদের একজন ছিলে বলেই তুমি ওই ৯৯% থেকে বেরিয়ে এসে ১% এভারগ্ৰীন প্রকৃতির মানুষ হতে পেরেছো, এটা তুমি পেরেছো তোমার ভিতরে সঠিক পছন্দ করার ক্ষমতা ও আমার অর্থনৈতিক বিনিয়োগ, মানসিক উৎসাহ মিলিত হবার কারণে, এটা আমাদের জন্য একটা গুড‌উইল অর্থাৎ মূলধনে রুপান্তরিত হয়েছে। আমি চাই তুমি এটা কোনো চাকরিবাকরি বা ব্যবসাবানিজ্যে ব্যবহার না করে আপাতত ষ্টোর করো। এগুলোকে কাজে লাগিয়ে তুমি লেখালেখি করার চেষ্টা করো ফ্রিল্যান্সে। আর পড়ও, প্রচুর পড়ও, শোনো বাবা, আমি চাই না তুমি কোনো নেতা হ‌ও, আমি চাই নেতা তোমার হোক। আমি চাই না তুমি কাগুজে শিক্ষিত হ‌ও, তুমি বিভিন্ন জ্ঞানীজনদের সংস্পর্শে যাও প্রকৃত শিক্ষিত হ‌ও, তুমি নেতার বাড়ি যেও না, বরং সে আসলে সবচেয়ে বেশিটা দিয়ে আপ্যায়ণ করবে তাকে। বাবা আমার আজকের এই কথাগুলো তুমি খুব ভালো করে ভেবে চিন্তে ডিসিশন নাও। তোমার কোনো তাড়া নাই। তোমার কাছে আমার আজকের মতো এখানেই কথা বলা শেষ।" আমি আমার বাবার সেদিনের সেই কথাগুলো এতোটা মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলাম যে আজ এই মুহূর্তেও একদম স্বচ্ছ।

আমি মনে মনে আমার বাবার কথা মতো রাজি হয়ে গেলাম সেদিনই কিন্তু মুখে কিছু বলি নি।

আমি সেদিন ওই মুহূর্তে বাবার কথা, আশা ও অভিলাষ বুঝতে পেরে তার মতের সাথে একাত্মতা পোষণ করতে পেরেছিলাম এই কারণে যে তখনই আমার মনে লোভনীয় বলতে তেমন কিছু আর অবশিষ্ট ছিলো না, একটি ছোট্ট সংসার ছাড়া। কেননা আমি আমার জীবনে দেশে বিদেশে এমন ভাবে লাক্সজারিসাস লাইফ লিড করার সুযোগ পেয়েছি দৈবিক কারণে হলেও যা অসম্ভব বাস্তব, ফলে আমার কাছে নতুন করে পাবার মতো, খাবার মতো, ব্যবহার করার মতো কোন মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ বা ফাইভ স্টার লাইফ নতুন হিসেবে অবশিষ্ট ছিলো না। আমি মুহূর্তে সবকিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে এনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া গুজার করে স্থির হয়ে যাবার চেষ্টা শুরু করলাম। 

বিদেশ থেকে দেশে ফিরে ওই ঘটনার কিছুদিন পরে আমাদের কাদির বেপারীর ছেলে খুরশীদ বেপারীর সাথে একদিন সোনারগাঁও ঘুরতে যাই তার পীরের বাড়ি, মফিলুদ্দিনের মাজারে। সেখানে গিয়ে একটা সান বাঁধানো পুকুর ঘাটের পাশে নিরব সবুজ পরিবেশে একটা ছোট্ট টিনের ঘরের মধ্যে মফিলুদ্দিন শাহ্ এর কবরটা দেখে জিয়ারত করার পর মনটা খুব ভালো হয়ে গেলো অজানা কারণেই। টিনের ঘরটা একটা বিল্ডিং হলে খুব ভালো হবে, এখানে মাঝে মাঝে এসে নিরিবিলি পড়াশুনা করা গেলে ভালো হবে, আর ওখানে মফিলুদ্দিন শাহ্ এর নাতি সোহেলকে অল্প সময়েই আমার খুব মনে ধরে গেছে তার দার্শনিক ও কিতাবের উপর জ্ঞান দেখে। সবমিলিয়ে কয়েক মিনিটের ডিসিশনে আমি ওখানে ছয়দিন থেকে গেলাম আর খুরশীদ ভাইয়ের মানসিক সাহায্যে ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া শ্রমিকদের টিম দিয়ে আল্লাহ ইচ্ছায় টিনের ঘরের জায়গায় একটা বিল্ডিং খাড়া করিয়ে ফেললাম বিদেশ থেকে আনা টাকা খরচ করে।

এখানে একটা কথা বলা দরকার, আমি বেশ কয়েকটা দেশে ছিলাম, আমি সবসময়ই সবজায়গাতে খুব ভালো লাইফ লিড করেছি আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহর ইচ্ছায় সবজায়গাতেই ইজ্জত পেয়েছি, একাধিক জাতির সর্বোচ্চ পর্যায়ের লোকজনের আশেপাশে চলা ফেরা করতে পেরেছি সৌভাগ্যক্রমে হয়তো, আমি এটাকে অতিপ্রাকৃতিক দান বলে মনে করি। এছাড়াও আমি সবসময়‌ই আপগ্ৰেড লাইফ লিড করেছি বাবার পরামর্শ ও নিজের কামানো টাকা ব্যায় করে। বাবা সবসময়ই বলতেন যে আমি যেনো টাকার জন্য লোয়ার মাইন্ডেড শ্রমিক না হয়ে যাই! তার মতে, এই পৃথিবীতে সবাই শ্রমিক কিন্তু যার যার লেভেল মেইনটেইন করা জরুরী, তিনি তার লেভেল মেইনটেইন করতেন বলে জীবনে কোনদিন সেলুনে গিয়ে দাড়িচুল কাটাননি, কোনো হোটেল বা দোকানে বসে চা, সিগারেট খাননি, কোনো ক্লাবে যান নি, পরিবার ছাড়া তার কোনো বন্ধু ছিলো না, জীবনে তিনি কখনও একদিন‌ও কোনো অনিয়ম করেন নি, কারও কাছে এমন কোনো প্রমাণ‌ও নেই মাশাআল্লাহ, আশ্চর্যজনক হলেও কথাগুলো সত্য কিন্তু তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালী, তবে তিনি যে একজন একটি বিরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন তা ১০০% লোক অকপটে স্বীকার করেন যারা তাকে চেনেন। 

আমি যে টাকা বিদেশ থেকে এনেছি তার প্রায় একচতুর্থাংশ টাকা সেদিন সোনারগাঁওএ খরচ করে এসে বাবাকে জানালে, সে মুচকি হেসে আলহামদুলিল্লাহ ছাড়া কিছু না বললেও আমার মা অবশ্য পাশে থেকে বলেছিলেন যে আমি তো উপরে একটা ফ্লাট বানাতে পারতাম, এখনও করি না কেন? ইত্যাদি ইত্যাদি কিন্তু আমার বাবা বললেন, "দরকার নাই। শোনো মুন্নির আম্মা(আমার বড়ো বোনের নাম মুন্নি) ও একটামাত্র মানুষ, ওর একটামাত্র ছোট্ট পরিবার থাকবে ইনশাআল্লাহ, আর ওর ওই পরিবারের জন্য যা আছে এর চেয়ে বেশী কিছু দরকার নাই। তারচেয়ে ও নিজেকে অন্যরকম কিছুতে ইনভল্ব করুক, এটাই দরকার আর এখন ওর বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করার সময়, তোমরা তার ব্যবস্থা করো। আমরা যেনো ওর ছেলেমেয়েদের যতোটা পারি, কিছুটা হলেও মানুষ করে দিয়ে যেতে পারি সেই তৌফিক চেয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো।"

আমি সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত ওই একটা কাজেই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি, লেখালেখি, ফলে এখনও প্রতিদিনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে অধিকাংশ সময়ই লেখাপড়া করি।

এই লেখালেখির প্রয়োজনে আমি কয়েক বছর হাতে কলমে গুরু শিক্ষা নিয়েছি বাবা-মায়ের গুরুদক্ষিণার অনুদানের বিনিময়ে। আমি শিক্ষা নিয়েছি কি করে একটা রুমে নিজেকে মাসের মাস বন্দি করে রেখে, একটা রুটিনে আজীবন লেখাপড়া করার অভ্যাস করার বিদ্যা অর্জন করা যায়। আমি দেশের একাধিক জ্ঞাণীজনদের কাছে লাগাতার মাসের পর মাস বন্দি দশায় থেকে কি করে তালিম নিলে এক জায়গায় বসে গোটা পৃথিবীকে দেখা যায় ভিন্ন মাধ্যমে তার শিক্ষা নিয়েছি। আমি আমার শিক্ষা গুরুদের কাছ থেকে এসব শিখতে গিয়ে আমি যেমন এক জায়গায় দীর্ঘদিন স্থির থেকেছি তেমন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া দিনরাত ২৪ ঘন্টা ছুটেও বেরিয়েছি কয়েক বছর। গুরুজনরা আমাকে ভিন্ন মাধ্যমে দেখা ও বোঝার ক্ষমতা অর্জনের জন্য নিজ চক্ষে দেখে ও না দেখে ভাবনার জগতে মিলিয়ে মিশিয়ে সঠিক বিষয়কে বোঝার চেষ্টা করতে পরামর্শ দিতেন ও কখনো আবার এক জায়গায় স্থির অবস্থায় রাখতেন, কখনও কাছে কখন‌ও দূরে বিভিন্ন মিশন পাঠাতেন, দেখা ও অদেখাকে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করতে বলতেন। 

এই ভাবেই আমার কেটে গেছে প্রায় দশ বছর! তারপর আরও কয়েক বছর, এখন আমি ৪৫+, অনেক দিন থেকেই আমি আমার একটা নিজস্বতায় থাকি, সেখানে দলীয় বলে কিছু থাকার অবকাশ নেই। আমি আমার জীবনের সবকিছু প্রতিটি মানুষের জন্য উৎসর্গ করার এই যাত্রাপথে দলীয় থাকার কোনো উপায় দেখি নাই, বলে হ‌ই না। আমার মূল পরিচয়, আমি মন্জুর মোর্শেদ, একজন মুসলিম বাঙ্গালী, আমার বাবা আমার বেষ্ট ফ্রেন্ড ছিলেন, বুকে আমার বঙ্গবন্ধু, আমি একটি সোনার বাংলার স্বপ্নের ফেরিওয়ালা। আমি চাই সবাই মিলে ভালো থাকতে। আমি চাই না, ফাঁকি ঝুঁকি, ভুল বোঝাবুঝি। আমি আশা করি না যে ভুল মানুষকে ভালোবেসে ভুল পথে গিয়ে আমার বাংলা মায়ের একদল সন্তান, আরেক দল বাঙালী ভাইদেরকে মারবে, -এটা আমি কিছুতেই চাই না।

আমি চাই না, আমাদের জাতির নিয়ন্ত্রণ ও নিয়ন্ত্রক নিয়ে কোনো ভুলবোঝাবুঝির জন্ম হোক। আমি যেহেতু লেখাপড়া জানি, তাই আমি কিছুতেই আমার নিজেকে নিজে ঠকাতে পারি না কোনো ভুল কথা বা ভুল মন্ত্রে। আমি যেহেতু জেনে গেছি ভালোর কোনো বিকল্প নাই, ভালো না করলে ভালো হবে না, তাই আমি কোনো ভাবেই ভালোর বিপক্ষে যেতে পারি না, যাই না, আল্লাহকে ভয় পাই সন্তানদের উপর গজব নাজিল হবে এই চিন্তা করে...

(চলবে...)

©Morshed.


একটি ফ্যামিলি স্লাইডশো:



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ