![]() |
| (ছবি: সংগৃহীত) |
মঞ্জুর মোর্শেদ : আশা করি সকলের মনে আছে, বিএনপি সরকারের শেষ প্রহসন তথা মোসাদ্দেক আলী ফালু মিয়ার নামটাও এমপির খাতায় তোলার সেই ঘটনার কথাটা আসলেই ভোলার মতো না। আর এবারও আবার দেখা গেলো আওয়ামী সরকারের বেলাতেও যেনো সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হোলো। বলি, বিএনপির যেমন ফালু তেমনি আওয়ামী লীগের শেষ প্রহসনের নাম কি তবে মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা!?
কথায় বলে, 'যার আছে মন্ত্র তিনিই হবেন মন্ত্রী', আর আমরা কে না জানি যে পৃথিবীর যেকোনো জাতির মধ্যে থাকা তাদের সবচেয়ে সেনসেটিভ চিন্তাধারা ও ইন্টেলেকচুয়াল নীতিবোধ সম্পন্ন লোকজনদেরকেই খুঁজে বের করে এনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজে লাগানো হয় স্বসন্মানে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবার মেধা ও রক্তের ধারা হতে হয় আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, কারণ তাদেরকে সর্বদাই সারা বিশ্বের সকল জাতির সকল মেধাবী ও এরোষ্টোক্রেটিক প্রতিনিধিদের সাথে প্রতিনিয়ত স্নায়ুযুদ্ধ করে নিজ জাতির জন্য ক্ষুধার অন্ন জিতে আনতে হয়, তাও আবার আপোষে ও শ্রদ্ধার সাথে। এক্ষেত্রে আমাদের দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়কে দেখলে তো রীতিমত হতাশ হতে হয়! এছাড়া আর কিছু বলার কোনো মানে নাই। কারণ কাউকে জুতাপেটা করার পরেও যদি সে মনে করে যে তার মান-ইজ্জত পাহাড় সমান জুতা দিয়ে পেটালে তা নড়েও না তবে তাকে জুতাপেটা করাও বোকামির সামিল।
এদিকে যখন দেখি দেশের নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ে, যখন বহির্বিশ্বের কোনো কোনো দাপুটে প্রতিনিধি আমাদের সরকারের কাপড় খুলতে টানাটানি করে ঠিক তখনই হঠাৎ একটি ইলেক্ট্রো মিডিয়ার একজন নারী উপস্থাপিকার কান্ধে বন্দুক তুলে দেয়া হোলো আন্তর্জাতিক মেধাবীদের ফেইস করার লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়ে!
ধরে নিলাম দেশের ক্রিকেট তারকা তামিম সাকিবদের নিয়ে না হয় পাপন গং মনমানি করে লেজেগোবরে করে ফেলেছে কিন্তু দেশের মন্ত্রণালয়গুলোর বিষয়বস্তু, নীতি-আদর্শ নিয়ে চিন্তা করার দায়িত্ব কারা পালন করে? পাপন সালাউদ্দিনদের পাপের ছায়া তো ওখানে পৌঁছাতে পারার কথা নয়, তাহলে কার পাপী মন শেষ রাতে চিকনে এমন একটা কাজ করলো যে যা দেখে আমাদের ফালু মিয়ার সেই আজব-গজব প্রকৃয়ায় এমপি হবার কথাটা মনে পরে গেছে!
তৎকালীন বিএনপি আমলে মোসাদ্দেক আলী ফালুর নামটা এমপির খাতায় লেখানোর প্রকল্পে নির্বাচনের নাম দিয়ে যা করা হয়েছিল সত্যিই তা ভোলার মতো নয়। তখনও যেহেতু ফালু শুধু ফালুই ছিলেন ফালু সাহেব হননি, তাকে কেউ চিনতো না, তাকে আর খালেদা জিয়াকে নিয়ে বাজারে কিছু প্রপাগান্ডা ছিলো এই যা এবং তাই না হয় সে সময়ের চুড়ান্ত ক্ষমতাধর নেতা মির্জা আব্বাস সাহেব ফালুর এমপি হবার খায়েশটি মেটাতে মতিঝিল এলাকা থেকে গাড়ি ভরে ভরে লোকজন পাঠিয়ে রমনা এলাকায় ভোট দেওয়ানোর ওই প্রহসনের জন্ম দিয়েছিলেন! প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্ষমতার মালিক হলে যা হয়, বলা যায়, সে ঘটনায় জাতির সবাইকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডাল দিয়ে পোলাউ খাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছে নেতা। তবে ফালু তার নিজের লোক ছিলো বিধায়ই না তিনি তা করেছেন কিন্তু মিথিলা কার লোক?
প্রশ্ন হচ্ছে, বর্তমান প্রেক্ষাপট দেখে মিথিলাকে যদি ফালু মনে করি, তাহলে মির্জা আব্বাস মনে করা যায় কাকে!?

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা