![]() |
| ছবি: প্রতীকী |
মঞ্জুর মোর্শেদ : সেবারও নরসিংদী রেলস্টেশনে ছোট কাপড় পরে যাওয়ার কারণে ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া যুবতিটি যখন হয়রানির শিকার হয়, তারপর যখন তার পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথাকথি হয়, অতঃপর যখন তা জাতীয় পর্যায়ে চলে যায় তখন মহামান্য আদালত অত্যন্ত সুন্দর ভাবে পোশাক ব্যবহারের বিষয়টিরও সঠিক নীতি, আইন, করণীয় কি তা জানিয়েছেন এবং গণমাধ্যমে মানুষের হাতে হাতে পৌঁছে দিয়েছেন সাংবাদিক।
অভিনন্দন জানাই ইলেক্ট্রো মিডিয়ার যুগকে। প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকতার চেয়ে অনলাইন সাংবাদিকতা আরোও মারাত্মক ও জবাবদিহিতা মূলক। প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর প্রকাশ বাদ জনে জনে জবাব দিতে হয় না কিন্তু অনলাইন মিডিয়ার প্রকাশিত হবার সাথে সাথেই শুরু হয়ে যায় কমেন্ট আর রিএ্যক্যট! নিস্তার নাই, শুরু হয়ে যায় জবাবদিহিতার পালা। যাতে করে একটা নিউজের বিশ্লেষণসহ মতবিনিময় করে সাধারণ মানুষ দেশের জাতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্তে সরাসরি স্থান নিতে পারেন।
আমরা আশা করি যদি সঠিক নিয়ম-নীতিতে সংরক্ষিত করা যায় তবে অনলাইন মিডিয়া দেশের প্রতিটি ঘর থেকে দুর্নীতিবাজদের হাসপাতালে যেতে বাধ্য করাতে পারবে অনায়াসে।
যা বলছিলাম, সেবার নরসিংদীর ঘটনায় আদালত পোশাকের বিষয়ে অসাধারণ মত প্রকাশ করার পরেও কিন্তু আধানাঙ্গা মানসিকরা কিন্তু থামে নি, এমনকি তাদের আইনের আওতায়ও আনা যায় নি! 'এর একমাত্র কারণ নারী নির্যাতন মামলার বিষয়ে সঠিক ও শক্ত হাতে তদন্ত হয় না বলে'। এমন কথা বলতে গিয়ে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি আরোও বলেন, 'এদেশে স্বইচ্ছায় বছরের পর বছর অবৈধ ভাবে বিছানায় যাবার পরে হঠাৎ মতের অমিল হলেই নারী গিয়ে ধর্ষণ মামলা দেয় এবং তেমন মামলায় শাস্তিও হতে দেখা গেছে!
অতএব কাকে কি বলে আবার কোন ফ্যাসাদে পরবে কে....! কার ফোনের দৌড় কতোদূর, কে কতোটা অপরাধ ধামাচাপা দিয়ে চলছে কোন ক্ষমতার বলে, এই দেশে এসব বিষয় বোঝা প্রায় অসম্ভব! তাই সবাই, .... used to gap.'
তবে নরসিংদীর সেই ঘটনার কিছুদিন পরে হঠাৎ একদা দেশের শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি নিজে থেকেই নারীর সম্ভ্রম ও পোশাক বিষয়ে যা বললেন এবং তাঁর সেই কথার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাস্তায় যেভাবে ব্লাউজ ছাড়া শাড়ি পরে, বুক ফুলিয়ে, সাংবাদিকদের বরাবর যেসব কথা বলা হোলো এবং তারপরেও তখন কারোই কিছুই হোতে না দেখা গেলেও কি অশিক্ষিত রিক্সাওয়ালারও বুঝতে বাকি থাকে, "আসলে কি হচ্ছেটা, এই দেশে!?"
সাধেই কি অনেক লোকেই বলেন যে এই দেশের আইন!!
এবার আবার যখন দেশের সাংবাদিকতা হয়েছে দোকানদারী ব্যবসা, গ্ৰুপ অফ ইন্ড্রাষ্ট্রির একটা প্রতিষ্ঠান হয়ে কাজ করে দেশের জাতীয় পত্রিকা ও নিউজ চ্যানেল। আর এসব কিছু সচল রাখতে সাংবাদিক হয়েছেন সেলসম্যান, আইটেম, বেতনভুক্ত কর্মচারী ইত্যাদি ইত্যাদি। আর ঠিক তখনই আবারও মহামান্য আদালত একটা অসাধারন বক্তব্য পেশ করেছেন, যা জাতির জন্য অনিবার্য চিন্তা ভাবনা ও গবেষণা পরিচালনার বিষয়, এমনকি আইনও বটে।
সাংবাদিক 'জাতির বিবেক'। একটি জাতি ও সভ্যতার জীবনে কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, সাংবাদিক সেই জাতি ও সভ্যতার জন্য জাতীয় সম্পদ। এক্ষেত্রে সম্পদ ও সম্পত্তির ভিতরে কি পার্থক্য তা অবশ্যই নিশ্চিত থাকতে হবে। সেই জাতির সকল ব্যক্তি ও সরকারের এসকল সম্প্রদায় সমুহকে বিশেষ খাতায় লিপিঊ রেখে, বিশেষ ভাবে রক্ষনাবেক্ষন করে সঠিক ইস্তেমাল করাই নিয়ম এবং মঙ্গলময়।
বাংলাদেশে সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা বর্তমানে যেভাবে চলমান ও ব্যবহৃত তাতে করে জাতিটি একটি ১০০% জ্ঞানহীন জাতি হতে আর বেশি দেরি হবে না, -একথা অনেক অশিক্ষিত শ্রমিকরাও বলেন!
বিশেষজ্ঞরা বলেন, "যদি এখনই ঘুরিয়ে দিয়ে সঠিক দিকে ধাবিত করা না যায়, তবে জাতির কপালে অসম্ভব রকম বিপদ আছে!"
সাংবাদিকদের আয়কর কতৃপক্ষকেই পরিশোধ করতে হবে:
যেহেতু সাংবাদিকতা এখন বিজনেস এবং সাংবাদিক সেখানে চাকুরে অতএব যারা সাংবাদিকতা ব্যবসা করেন তাদেরই তো লাভ করেন বলে সরকারকে আয়কর দিতে হবে, আয়করের বিষয়টি যেহেতু রয়েছেই, সাংবাদিক দিয়ে যেহেতু শ্রমিকদের মতো কাজ করিয়ে সরাসরি টাকা ইনকাম করা হয় তবে আর কি!?
তবে সাংবাদিকতা সঠিক আইন ও নিয়মনীতি অনুযায়ী জাতীয় সম্পদ থাকতো, এটাকে ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বানিয়ে না দেয়া হোতো তবে ভিন্ন কথা ছিলো। যদি সরকার সাংবাদিক চিহ্নিত করে সম্পদের জায়গায় রাখতেন, সাংবাদিক মানেই ফ্রিল্যান্সার, যার যে পত্রিকায় খুশি সন্মানির বিনিময়ে নিউজ করবেন ইত্যাদি তবে আয়করের প্রশ্নও আসতো না, এমনকি আয়কর থেকে সরকার যা পায় বা পাচ্ছে তার চেয়ে হাজার গুণ বেশী পেতো অন্যান্য দিক দিয়ে। কারণ তখন সাংবাদিকের তৈরি করা দেশের পক্ষের নিউজগুলো ব্যবসায়ে লাভ করার জন্য বা দলের পক্ষপাতীত্বের দিকে মোড় নিতে পারতো না এডিটর নামক এমডির মর্জিতে।
অনেকেই উপহাস করে বলেন, "এ কেমন মন্ত্রীদের মন্ত্রে দেশ চলে হে বাবা! দেশের মুদির দোকান আর পত্রিকা উভয়েরই জন্মের সনদ ট্রেড লাইসেন্স!? লজ্জা লাগে দেশের কুশিক্ষিতদের হাল-হাকিকত দেখে!"
অতএব হাইকোর্টের এই কথা ও আরোও গভীরের পর্যালোচনা একত্রিত করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই মিলবে সাংবাদিক ও সাংবাদিকতার আসল নীতিমালার বাস্তবায়ন, জাতির বিবেক পাবে মুক্তি, সাংবাদিকদের কলম হবে দেশের মাটির।
দেশের বর্তমানের নাজুক পরিস্থিতিতে হাইকোর্ট যে মহামূল্যবান ইঙ্গিত দিয়েছেন সাংবাদিকতা নিয়ে তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই মহামান্য আদালতের প্রতি।
আমরা মনে করি একটি জাতির বিবেকদের জন্য সংরক্ষিত কলমগুলো যদি মানববাদী, দেশপ্রেমিক, ভালো মানুষ সাংবাদিকদের হাতে থাকে তবে সেই দেশে আইন অবমাননা অসম্ভব হয়ে যায় এবং এর অনেক উদাহরণও পৃথিবীতে অতীতসহ বর্তমানে বিদ্যমান।

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা