![]() |
| (ছবি, : নিজস্ব; সংগৃহীত) |
মঞ্জুর মোর্শেদ : ১২ তারিখে ছিলো নারী সাংবাদিক সানজিদার বাদী হয়ে দায়ের করা মামলার তারিখ। ঢাকার নারী ও শিশু আদালতে মামলার ওই তারিখে হাজির করা হয় মামলার আসামি পাইলটকে, উপস্থিত ছিলেন বাদিনী নিজেও।
মামলার কার্যক্রম শুরু হবার আগে আদালত প্রাঙ্গণে হঠাৎ মুখোমুখি দেখা হয়ে যায় সানজিদা ও পাইলটের। সে এক করুন দৃশ্য...
সত্যি বলতে, এই মামলা এবং মামলা যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেভাবে পাইলট আজ অপরাধী, যেভাবে সানজিদা ইজ্জত হারা তা আসলে সবইকে অন্ধকারে রেখে একটা কুচক্রী মহলের চক্রান্তের ফসল। মূলতঃ পাইলট ও সানজিদা দুজনেই দুজনের খুব প্রিয় মানুষ ছিলো। তারা দুজনে মিলে এদেশের মানবতার সেবামূলক কাজে অনেক দূরে এগিয়ে গিয়েছিলো। তারা একটা জাতীয় সাংবাদিক সংগঠনকে এমন অবস্থায় নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলো যে সেই সংগঠনটি সারা বাংলাদেশের মফস্বল লেভেলের হাজার হাজার সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠনে পরিণত হয়ে গিয়েছিলো, বিপদের বন্ধুতে পরিণত হয়ে গিয়েছিলো অনেক সাধারণ সংবাদকর্মীদের কিন্তু একটি কুচক্রী মহল ওই সংগঠনটিকে ঘিরে অনৈতিক স্বপ্ন দেখে এবং তা বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যেই দীর্ঘদিন ধরে কারসাজি করে এদের দুজনের মধ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে যে পাইলট মিথ্যা তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি ক্ষোভের বসে সানজিদার সাথে এহেনো অপরাধ করে আর অবলা সানজিদা হয় সর্বশান্ত! দেখা গেছে তাদের মধ্যে এই অঘটনটি ঘটে যাবার পরেও সানজিদা জিনিসটা নিয়ন্ত্রন করতে চাইলে সেই কুচক্রী মহল ঘটনাটাকে গণমাধ্যমে প্রকাশ করে তুষের আগুনে ফুঁ দিতে থাকে। তারা প্লান করে বিভিন্ন রকম ঘৃণিত ঘটনা ঘটাতে থাকে বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম স্ক্যান্ডেল ছড়িয়ে দিয়ে, অতঃপর একদা এই মামলাটির জন্ম হয়।
তারপর মামলা মোকদ্দমা হয়ে যাবার পরে, পাইলট এরেষ্ট হয়ে জেলের অন্ধকার কুঠুরিতে রাতের পর রাত কাটিয়ে ভেবে পায় তার ভুল! শিক্ষিত স্মার্ট, তুখোড় সাংবাদিক পাইলট তার অপরাধ বুঝতে পেরে একাকী গুমরে কাঁদে, যে কান্নাটি সেদিন সানজিদাকে সামনে পেয়ে থামিয়ে রাখতে পারে নি, তাই সকল বাঁধ ভেঙ্গে পাইলট আদালতের দরজার সামনে সানজিদার কাঁধের উপর মাথা রেখে শিশুর মতো কাঁদতে থাকে আর সানজিদা...
সেদিন মহামান্য আদালত দুই পক্ষের কাছেই জানতে চাইলে পাইলট আপোষের আর্জি জানায় আর সানজিদা বলেন যে সে যা হারিয়েছে তা তো আর ফিরে পাবার নয়। এখানে একজন নারী হিসেবে তার আপোষ করার মতো আদৌও কি কোনো কিছু আছে কিনা তা তার জানা নাই।
এবিষয়ে পরে সানজিদাকে প্রশ্ন করলে সে বলে, "আমি তো একজন নারী, মায়ের জাত। একজন নারীর কাছে শেষ সম্বল হচ্ছে তার ইজ্জত যা হারাবার পর তার জীবন আর মৃত্যুর মধ্যে কোনো তফাৎ থাকে না।"
তাকে জিজ্ঞেসা করা হয়, পাইলটের শাস্তি হোক এটাই কি তার কাম্য? পাইলট তো তার জন্য অন্যন্ত প্রিয় একজন মানুষও বটে।
সানজিদা বলেন, "না তা কেনো হবে? আর পাইলটের শাস্তি হলেই কি আমি আমার হারানো সম্ভ্রম ফিরে পাবো? তবে তাই বলে তো আমি আপোষ করতে পারি না, আমি হয়তো তাকে ক্ষমা করে দিতে পারি, মানবতার কথা বিবেচনা করে বা পাইলটের পরিবারের কথা চিন্তা করে। আসলে আমি কি করবো, তা সময় আমাকে বলে দেবে বলে আমি অপেক্ষায় আছি। তবে তাদেরকে আমি কোনোদিনই ক্ষমা করবো না যারা এই মামলার আসামি নয়, যারা অত্যন্ত চতুর, যারা এমন অনেক অঘটনের কারণ কিন্তু তারা এতোই চালাক যে তারা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে পারে। আমি মনে করি একদিন ওরা কোথাও না কোথাও ফেঁসে যাবে আর আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই আল্লাহ তাদের বিচার করবেন, তারা আল্লাহর গজবে কোনো এক অপরাধে এমন ভাবে ফেঁসে যাবে যে যেখান থেকে তাদের পরিত্রাণের কোনো উপায় থাকবে না। তারা আজীবন যা যা অপরাধ করেছে আমাদের সাথে তার কড়ায় গন্ডায় হিসেব না দিয়ে কোনো উপায় খুঁজে পাবে না, ইনশাআল্লাহ। পাইলট অবশ্যই অপরাধী, সে অপরাধ করেছে অবশ্যই কিছু আমি ছোটবেলায় শিখেছি, 'পাপকে ঘৃণা করো পাপীকে নয়', তাই আমি একটা সঠিক সময়ের অপেক্ষায় আছি যে আমাকে সঠিক সিদ্ধান্তের পথ তৈরি করে দিবে।
[ছবি: পাইলট সানজিদার কাঁধে মাথা রেখে কাঁদছে; সংগৃহীত]

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা