শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

করুনা হয় এ আর রহমানের জন্য! লজ্জা লাগে ভারতের করুন দশা দেখে!!

আবার সভ্যতা বিকৃতি! আবারও হিন্দুস্তানিদের চুরি চোট্টামি!!

(ছবি: প্রতীকী)


মঞ্জুর মোর্শেদ : ঢাকার শাহজাহানপুর এলাকা নিবাসী ফজলুল হক চৌধুরী সাহেব উপরোক্ত কথাগুলো বলতে বলতে আরও বলেন, হিন্দুস্তানিরা মিসকিন ছিলো তাই বলে একোন ভ্রষ্টাচারীতা? বাঙালীরা এর আগে একবার দেখেছে তাদের বাংলা সাহিত্যের অমর সম্পদ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস "দেবদাস" নিয়ে হিন্দুস্তানের হিন্দী সিনেমার পরিচালক সঞ্জয় লীলা বনশালি'র নষ্টামির নমুনা। এবার আবার এ আর রহমান। 

ধার করা আর চুরি করে যারা শিল্পী হয়েও সীনা টান টান করে চলেন তাদের কথা বলতে গেলে আগের আরেকজনের নাম আসে, হিন্দুস্তানের আন্নু মালিক, যিনি চুরি তো চুরি তার উপরে সেকি সিনা জুরিটাই না করতেন, মাশাআল্লাহ।"

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি করা ইতিহাসের অদ্বিতীয় বিপ্লবী গান 'কারার ঐ লৌহ কপাট' -এর কম্পোজিশন খিলখিল কাজী(রেসপেক্ট)'র কাছে না বলে-কয়ে ভেঙ্গে এবার হিন্দুস্তানের এ আর রহমান যে ধৃষ্টতার পরিচয় দিয়েছেন তাতে করে তিনি শুধু আন্তর্জাতিক আইন‌ই ভঙ্গ করেন নাই। তার একাজ পৃথিবীর যেকোন সুর সাধনার দর্শনেও 'গুরুবিদ্যা অমান্য করা' 'অভিশপ্ত কাজ বলে গণ্য হয়। 

সুর সাধনার দর্শন ও ভেদ মতে, শিল্পী ও সাধক মনের কর্মকাণ্ডের কিছু পূর্ব শর্ত আছে যুগ যুগ ধরে এবং সেই মতে এহেনো কর্মের কারণে শিল্পী প্রাণীদের উপর অতিপ্রকৃতির যে শক্তি নিহিত থাকে যা প্রকৃতির দান তা মহান মালিক কখনও কখনও কেড়েও নিয়ে থাকেন, দেখা গেছে! 

একজন বাঙালী সাধকপ্রাণ গাতক বলেন, "মহান আল্লাহ এ আর রহমানের উপর মহাসাগরে যতো পানি আছে তার চেয়েও বেশী ভালোবাসা দিয়েছেন সুরের দেশে কিন্তু হঠাৎ এআর রহমানের উপর একোন গজব নাজিল হোল তা আরশিল আজিম‌ই ভালো জানেন। নজরুল একটা চির-জীবন্ত সাধনা, নজরুলকে সাধনা করা যায়, যে ভাংতে যায় সে সীমা লঙ্ঘনকারী বলে ঘৃণিত হয়ে যায়, মালিকের দরবারের আইন অমান্য করে যেভাবেই আবেদ ঘৃণিত হয়েছে।

🔘 কারার ঐ লৌহ কপাটের ছোট্ট করে ইতিহাস:

উল্লেখ্য ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় পত্রিকা ‘বাঙ্গালার কথা’। ইতিহাসে তখন মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে একের পর এক ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামীরা কারারুদ্ধ হচ্ছিলেন তখন। একপর্যায়ে চিত্তরঞ্জন দাশও কারাবন্দী হন এবং তাঁর স্ত্রী বাসন্তী দেবী দ্বারস্থ হন ২২ বছর বয়সী কাজী নজরুল ইসলামের। তাঁর আগমনে তাঁর কথা শুনে আবেগ আপ্লুত বিদ্রোহী কবি নজরুল ক্ষোভে আক্রশে লিখলেন কালজয়ী লেখা, ‘শোষকের শেকল ভাঙার গান’—‘কারার ঐ লৌহকপাট’। তাঁর লেখা সেই গানটি সেসময় তোলপাড় তুলে দেয়। তার তানে নড়ে উঠে বৃটিশ মসনদ!

🔘 সম্প্রতি সেই ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ গানটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এ আর রহমান কম্পোজিশন আইন ভেঙ্গে গানটিতে নতুন সুর দেওয়ার কারণে। 

🔘 এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এ গানের আসল প্রেক্ষাপট খানিকটা বলতে চাই: 

তৎকালীন সময়ের দুই বাংলায় সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব হিসেবে খ্যাত কমরেড মুজফ্ফর আহমদের ভাষ্য হলো, "আমার সামনেই দাশ-পরিবারের শ্রীসুকুমাররঞ্জন দাশ 'বাঙ্গালার কথা'র জন্যে একটি কবিতা চাইতে এসেছিলেন।"

সেখান থেকে আরও জানা যায়, শ্রীযুক্তা বাসন্তী দেবী তাঁকে কবিতার জন্যে পাঠিয়েছিলেন বিদ্রোহী কবির কাছে। তখন তার স্বামী দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ জেলে ছিলেন। "...অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নজরুল তখনই কবিতা লেখা শুরু করে দিল। সুকুমাররঞ্জন আর আমি আস্তে আস্তে কথা বলতে লাগলাম। বেশ কিছুক্ষণ পরে নজরুল আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তার সেই মুহূর্তে রচিত কবিতাটি আমাদের পড়ে শোনাতে লাগল।..."

নজরুল “ভাঙার গান” লিখেছিল ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের কোনো এক তারিখে। “ভাঙার গান” “বাঙ্গালার কথা”য় ছাপা হয়েছিল।’— [কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতিকথা]

ইতিহাসে মিলেছে, ১৯২৪ সালে কাব্যগ্রন্থ আকারে প্রকাশিত হয় ‘ভাঙ্গার গান’। তবে এর আগেই একবার ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ কবিতা আকারে ছাপা হয়েছিল, যার কথাই বলছেন মুজফ্ফর আহমদ। শোনা যায়, হুগলির জেলে দেশবন্ধুর সঙ্গে এই অন্য বন্দীরাও গেয়ে উঠতেন ‘কারার ঐ লৌহকপাট’, যা ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। এর প্রলয়ংকরী সুর ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলো শাসক শ্রেণীর মনে। অতঃপর ‘বিদ্রোহী’র পাশাপাশি ‘ভাঙ্গার গান’ও নিষিদ্ধ করে ইংরেজ সরকার।

তবে সকল নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল এক সময়ে এই গানের শক্তিকে আরও বেগবান করে তোলে মহামালিকের দেয়া সুরের শক্তিতে! 

তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এ গান আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের জুগিয়েছে দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা। 

ইতিহাস মতে, এরপর ১৯৭০ সালে মুক্তি পায় জহির রায়হান পরিচালিত সিনেমা ‘জীবন থেকে নেয়া’। সেই চলচ্চিত্রে দেখা যায়, পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে কারারুদ্ধ বাঙ্গালী রাজনৈতিক বন্দীরা যখন গেয়ে ওঠেন

... ‘কারার ঐ লৌহকপাট

তখন যেন সেই গানের তানে সব বাঙালীর রক্ত টগবগ করে ওঠে আরও একবার! 

আলতাফ মাহমুদের সুরে এবং খান আতাউর রহমানের সংগীতায়োজনে আজও এ গান মুক্তিকামী বাঙালীর সংগ্রামী চেতনার প্রতীক রয়েছে, যতোদিন রবে, পদ্মা মেঘনা যমুনা গৌরি বহমান, ততদিন এই গান আপন সুরে বাজবেই সে প্রাণ যদি হয় বাঙ্গালী প্রাণ...

ঐতিহাসিক সেই গান এ আর রহমান অধুনায় তার নিজের মতো, নতুনরূপে হাজির করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেন, তিনি ভারতের একজন শিল্পী। 

উল্লেখিত অস্কারজয়ী এই সংগীত-পরিচালক বাংলাদেশেও তুমুল জনপ্রিয়। তিনি বাংলা গান নিয়ে আগেও কাজ করেছেন। তিনি ‘নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস: আ ফরগটেন হিরো’ সিনেমার জন্য রবীন্দ্রসংগীত ‘একলা চলো রে’ -এর সংগীতায়োজন করেছেন। এ ছাড়া ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ গানটিও নিজের মতো করে সুরারোপ করেছেন এ আর রহমান। তবে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে এ আর রহমানের এটাই প্রথম কাজ। সরেজমিনে দেখা গেছে, দক্ষিণ ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুরকার এ আর রহমান তার প্রকাশিত গানে ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ গানের মূল সুরের ছিটেফোঁটাও রাখেননি। আরও দেখা গেছে, তিনি তার গানে একতারা আর বাঁশির সুরে গ্রাম বাংলার একটা আবহ সুর তৈরির চেষ্টা করার অপচেষ্টাও করেন অথচ মূলতঃ ওটা একটা গান‌ই নয়, একটা কালজয়ী বিদ্রোহী শ্লোগান‌ও বটে! 

এ আর রহমান এমনকি খিলখিল কাজী(রেসপেক্ট)'র সাথেও কোন প্রকার কথা না বলে কপি রাইট বিধি লঙ্ঘন করে লোকগীতির একটা সুরেলা রোমান্টিক ঢং তুলেছেন তার সংস্কারে। যা কেনো অনৈতিক বলে গণ্য হবেনা? -জানতে চায় বাঙ্গালী!

একজন গাতক কবি বলেন, "এ আর রহমান একটা গণজাগরণের বিক্ষোভের ইতিহাস না জেনে, এই গানের মানে না বুঝে, আপন মনে গানটি যে আদলে বানিয়েছেন, তা জারি সারি গানের কথাই মনে করিয়ে দেয়। কেউ কেউ নাকি বলেছেন, শ্রমিকেরা ছাদ পিটিয়ে কিংবা বইঠার তালে তালে অথবা কাস্তের ঘাইয়ে যেভাবে গান গায়, যেন সেভাবেই শিল্পীরা কারাগারের তালা ভাঙতে চাইছেন। আসনে তার অনুভূতি কাজ করে নাই।"

তথ্যমতে এ আর রহমানের কঠিন ভাবে সমালোচিত এই সংগীতায়োজনের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন যে সব হতবুদ্ধি বাঙালী শিল্পীরাই! যাঁদের মধ্যে আছেন তীর্থ ভট্টাচার্য, রাহুল দত্ত, পীযুষ দাস, শালিনী মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

সংবাদে প্রকাশ, এদিকে গানটি ইউটিউবে প্রকাশের পরই রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পরেন বাঙালী শ্রোতারা। তাতে শুরু হয়ে যায় কমেন্টের পর কমেন্ট! 

ওদিকে প্রত্যেকেই যার যার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে যাচ্ছেন এ আর রহমানের বিরুদ্ধে। আসছে বিচিত্র রকমের মন্তব্য, সময় যাচ্ছে দেখে কেউ কেউ এখন ধিক্কার জানায় অনেককেই, এপার ওপার বাংলা'র।

জানা গেছে সমালোচিত এ গানের যে রোমান্টিক সংস্করণ এ আর রহমান তৈরি করলেন, তা নাকি বাজবে এমন একটি সিনেমায়, যার প্রেক্ষাপট‌ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ! এটা কি বাঙ্গালী ইতিহাস বদলে দেবার কোনো কারিক্রম?

উল্লেখ্য, এ আর রহমানের গানটি ইস্তেমাল করে রাজাকৃষ্ণ মেনন পরিচালিত ‘পিপা’ সিনেমাটি স্ট্রিম করা হয়েছে অ্যামাজন প্রাইমে ১০ নভেম্বর থেকে। এ আর রহমান কি ভেবে এবং কেন গানটির এহেনো একটি সংস্করণ তৈরি করলেন, তা হয়তো সিনেমাটি দেখলেই বোঝা যাবে! 

কিন্তু ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ গানের সুর থেকে বিপ্লবী আবহ মুছে দিয়ে ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ কি আদতেই ভাঙতে পারলেন এ আর রহমান? -এ প্রশ্ন সারা পৃথিবীতে থাকা প্রায় প্রত্যেকটা বাঙ্গালীর।

এ আর রহমানকে প্রতিবাদ জানিয়ে আমাদের বাঙালী প্রযোজক রানা সরকার তার ফেসবুক স্টাটাসে লিখেছেন, ‘রেসপেক্টটেড লিজেন্ড এ আর রহমান স্যার, “কারার ঐ লৌহকপাট” ভাঙতেই হবে, এই দিব্যি আপনাকে কে দিয়েছিল? নজরুল ইসলামকে নাহয় ছেড়েই রাখতেন। ক্ষমা করবেন কাজী নজরুল।’

এ ঘটনার পর অনেক ঘন্টা কেটে যাবার পরেও এ আর রহমানের বুদ্ধির উদয় হয় না দেখে হতবুদ্ধি হয়ে বলতে হয়ে অবশ্যই এ আর রহমান একজন জিনিয়াস, তবে তার কারণে মনে পরে সেই কবিতার লাইনটি, 'বেটা সাধু, চোর‌ও বটে...

সাফকথা 


#এ_আর_রহমান

#কারার_ঐ_লৌহ_কপাট'

#A_R_Rahman

#Respect

#Khilkhil_Kazi

#খিলখিল_কাজী

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ