শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

'গ্যালাক্সি লিডার' জাহাজটি ইয়েমেনের হোদেইদাহ বন্দর এলাকায় জব্দ: মালিক পক্ষ

(ছবি: গ্যালাক্সি লিডার, পণ্যবাহী জাহাজ, সংগৃহীত)

মঞ্জুর মোর্শেদ : গত রোববার (১৯ নভেম্বর) খবরে প্রকাশ, লোহিত সাগরে একটি বিশাল বাণিজ্যিক জাহাজ ইয়েমেনি হুথি বিদ্রোহীরা জব্দ করেছে। তাদের দাবি, জাহাজটির আংশিক মালিকানা এক ইসরায়েলি ধনকুবের।

জব্দ করা বাণিজ্যিক জাহাজটিতে গত ১৯ নভেম্বর একটি হেলিকপ্টারের মাধ্যমে সামরিক কর্মীরা অবৈধভাবে চড়েছিলো এবং এটি বর্তমানে ইয়েমেনের হোদেইদাহ বন্দর এলাকায় রয়েছে বলে গত ২০ নভেম্বর সোমবার জাহাজটির মালিক পক্ষ একথা জানিয়েছে। (লন্ডন থেকে রয়টার্স)

(ছবি: হাউথি সামরিক হেলিকপ্টার গ্যালাক্সি লিডার কার্গো জাহাজের উপর ঘোরাফেরা করছে যখন হাউথি যোদ্ধারা লোহিত সাগরে জাহাজের ডেকের উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে ২০ নভেম্বর, ২০৩৩ সালে প্রকাশিত এই ছবিতে। হুথি সামরিক মিডিয়া/হ্যান্ডআউট REUTERS এর মাধ্যমে লাইসেন্সিং অধিকার অর্জন করে; সংগৃহীত)

জব্দকৃত জাহাজটির অবস্থান গত ৪ দিন আগে লোহিত সাগরে AIS দ্বারা নির্দেশ করা হয়েছিলো যে জাহাজটি সমুদ্রপথ দিয়ে পিপাভাভ বন্দরে যাচ্ছে, এটি ১৭.৫ মিনিট গতিতে চলমান রয়েছে এবং আগামীকাল মঙ্গলবার ২৩ নভেম্বর, ২০২৩ইং তারিখের ২৩:০০ টার দিকে সেখানে দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

মেরিন ট্র্যাফিক ট্র্যাকিং সাইট‌ও নিশ্চিত করে, "গ্যালাক্সি লিডার তুরস্কের কোরফেজ থেকে রওনা হয়েছিলো এবং ভারতের পিপাভাভ যাওয়ার পথে ছিলো। শনিবার সৌদি আরবের জেদ্দার দক্ষিণ-পশ্চিমে অফলাইনে গিয়েছিলাম।"

(ছবি: গুগল থেকে সংগৃহীত)

উল্লেখ্য গ্যালাক্সি লিডার (IMO 9237307, MMSI 311408000) একটি যানবাহন কোম্পানির বিশালাকৃতির জাহাজ। ২১ বছর বয়সী জাহাজটি ২০০২ সালে নির্মিত হয়, যা বর্তমানে ইয়েমেনের হোদেইদাহ বন্দর এলাকায় রয়েছে বলে গত সোমবার জাহাজটির মালিক পক্ষ জানায়।

আইল অফ ম্যান নিবন্ধিত গ্যালাক্সি মেরিটাইম লিমিটেড নামক বিশুদ্ধ গাড়ির ক্যারিয়ার গ্যালাক্সি লিডারের মালিক একটি বিবৃতিতে বলেছেন, "পরবর্তীতে জাহাজটির সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।" তারা এঘটনাকে কোম্পানী ও আন্তর্জাতিক শিপিং-এর জন্য একটি মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হিসাবে মত প্রকাশ করে, তবে রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি নয়।

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এভাবে জাহাজ জব্দ করাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে নিন্দা করার পাশাপাশি জাহাজ ও এর ক্রুদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, "লোহিত সাগরে যানবাহন বহনকারী জাহাজ গ্যালাক্সি লিডারকে হুথিদের জব্দ করা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা জাহাজ এবং এর ক্রুদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি এবং আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আমাদের মিত্র এবং জাতিসংঘের অংশীদারদের সাথে পরামর্শ করবো।"

উল্লেখ্য, এর আগেও একবার ২০২১ সালে ওমান উপসাগরে বিস্ফোরণের সম্মুখীন হয়েছিলো ইসরায়েলি এ ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জাহাজ। ইসরায়েলি গণমাধ্যম সেসময়‌ও এ ঘটনার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছিলো।

(ছবি: হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগরে গ্যালাক্সি লিডার কার্গো জাহাজের ডেকে পজিশন নিচ্ছেন ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর প্রকাশিত এই ছবিতে। হুথি মিলিটারি মিডিয়া/হ্যান্ডআউট REUTERS এর মাধ্যমে লাইসেন্সিং অধিকার অর্জন করে; সংগৃহীত)

গ্যালাক্সি মেরিটাইম জানিয়েছে, বাহামা-পতাকাযুক্ত গ্যালাক্সি লিডারের ক্রুরা বুলগেরিয়া, ইউক্রেন, ফিলিপাইন, মেক্সিকো এবং রোমানিয়ার নাগরিক। জাহাজটি জাপানের নিপ্পন ইউসেন দ্বারা চার্টার্ড।

গ্যালাক্সি মেরিটাইম আরও বলেছে, "মালিক এবং পরিচালকরা বিশ্বাস করেন যে এই জাহাজটি আটক করা বিশ্ব বহরের জন্য যাতায়াতের স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন এবং এঘটনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য একটি গুরুতর হুমকির প্রতিনিধিত্ব করে। এই মুহুর্তে প্রধান উদ্বেগের বিষয় হল এই অপরাধমূলক কাজের অপরাধীদের দ্বারা বর্তমানে বন্দী ২৫ জন ক্রু সদস্যের নিরাপত্তা"।

(ছবি: হুথি যোদ্ধারা লোহিত সাগরে গ্যালাক্সি লিডার কার্গো জাহাজের ডেকে পজিশন নিচ্ছেন ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর প্রকাশিত এই ছবিতে। হুথি মিলিটারি মিডিয়া/হ্যান্ডআউট REUTERS এর মাধ্যমে লাইসেন্সিং অধিকার অর্জন করে; সংগৃহীত)


ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথিরা এর দ্বায়ভার স্বীকার করে গত সোমবার একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে, 

বিদ্রোহীরা রবিবারে দখল দেখানোর জন্য সোমবার যে ভিডিওটি প্রকাশ করে তার ফুটেজে দেখা যায় যে মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তিরা হেলিকপ্টার থেকে যখন জাহাজে ঝাঁপ দেন জাহাজটি তখনও চলছিলো এবং তারা ক্রু সদস্যদের বন্দুকের মুখে ধরে রেখেছে। এছাড়াও দেখা যায়, জাহাজে ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনের পতাকা উত্তোলন করা হচ্ছে (ক্লিপটি তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি)।

উক্ত ভিডিও ফুটেজের এক বার্তায় হুথি বিদ্রোহীরা জানান যে তারা লোহিত সাগরে যে জাহাজটি আটক করেছে তা একটি ইসরায়েলি পণ্যবাহী জাহাজ এবং সতর্ক করেছে যে ইসরায়েলের সাথে যুক্ত সমস্ত জাহাজ তাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।

এছাড়াও হুথি বাহিনী এক্স-এর এক বিবৃতিতে গ্রুপের একজন মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেছেন, "গাজার বিরুদ্ধে আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত, গাজা এবং পশ্চিম তীরে আমাদের ফিলিস্তিনি ভাইদের বিরুদ্ধে কুৎসিত অপরাধ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি শত্রুদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে।"

(ছবি: লোহিত সাগরে জাহাজের ডেকে ককপিটের দরজা খুলছে হুথি যোদ্ধারা ২০ নভেম্বর, ২০২৩ সালে প্রকাশিত এই ছবিতে। হুথি মিলিটারি মিডিয়া/হ্যান্ডআউট REUTERS এর মাধ্যমে লাইসেন্সিং অধিকার অর্জন করে; সংগৃহীত)


হুথিদের ভয়ে পথ পাল্টিয়েছে দুই ইসরায়েলি জাহাজ

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলি মালিকানাধীন 'গ্যালাক্সি লিডার' নামক জাহাজটি জব্দের পরে ভয় পেয়ে গত মঙ্গলবার ২১ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে পথ পাল্টেছে একই কোম্পানির অন্য দুটি জাহাজ। শিপিং ডেটা ও ব্রিটিশ মেরিটাইম কোম্পানি কোম্পানি আম্ব্রের সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

জাহাজটি ব্রিটিশ মালিকানাধীন: ইসরাইল

ইসরায়েল এক বিবৃতিতে জানায় যে জব্দকৃত জাহাজটি ব্রিটিশ মালিকানাধীন এবং জাপানি-চালিত পণ্যবাহী জাহাজ ছিলো। পাশাপাশি তারা এ ঘটনাটিকে "ইরানের সন্ত্রাসবাদ" হিসাবে বর্ণনা করেছে যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।

তবে মেরিটাইম সিকিউরিটি কোম্পানি অ্যামব্রে'র বরাত দিয়ে জানা যায়, জাহাজের মালিকানা 'রে কার ক্যারিয়ার হিসাবে তালিকাভুক্ত'। আর এই কোম্পানিটি মূল মালিক আব্রাহাম 'রামি' উঙ্গার, যিনি একজন ইসরায়েলি ব্যবসায়ী।

এছাড়াও আল-জাজিরার খবরেও বলা হয় যে পাবলিক শিপিং ডেটাবেসে জাহাজটির মালিকানা সম্পর্কিত বিবরণে রে কার ক্যারিয়ার্সের নাম রয়েছে। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা আব্রাহাম ‘রামি’ উঙ্গার, যিনি ইসরায়েলের একজন অন্যতম ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।

(ছবি: গ্যালাক্সি লিডার, যানবাহন বহনকারী জাহাজ; সংগৃহীত)

আর উঙ্গার বার্তা সংস্থা এপি’কে জানায়, তারা হুথিদের হাতে জাহাজ জব্দের ঘটনা সম্পর্কে অবগত। তবে এ বিষয়ে তাদের তরফ থেকে এর বাইরে বিস্তারিত কোন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য প্রকাশ করতে রাজি নয়।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এক এক্স-এ লিখেছে, "দক্ষিণ লোহিত সাগরে ইয়েমেনের কাছে হুথিদের দ্বারা একটি কার্গো জাহাজ ছিনতাই সারা বিশ্বের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা"।

সেখানে আরও লেখা হয়েছে, "জাহাজটি তুরস্ক থেকে ভারতের দিকে রওনা হয়েছিল, এতে ইসরায়েলি সহ বিভিন্ন জাতীয়তার বেসামরিক লোকজন স্টাফের দায়িত্বে ছিলো। তবে এটি ইসরায়েলি জাহাজ নয়।"

এবিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাসের কানানি বলেন, ইসরায়েলের অভিযোগগুলো "অবৈধ" এবং তারা যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন তা থেকে বাঁচার জন্য এসব তাদের একটা বাহানা মাত্র।

তিনি আরও বলেন, "আমরা বারবার ঘোষণা করেছি যে এই অঞ্চলের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলি তাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং সিদ্ধান্ত নেয়, তারা তাদের দেশের স্বার্থের ভিত্তিতে কাজ করে।"

ওদিকে হুথিরা সম্প্রতি গাজা উপত্যকায় হামাসের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জলপথে ইসরায়েলি জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। তেহরানের মিত্র হুথিরা হামাসের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন‌ও নিক্ষেপ করছে।

তাদের প্রশ্নঃ ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে আশেপাশের দেশগুলো কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

এদিকে গত সোমবার জাপানের শীর্ষ সরকারের মুখপাত্র নিপ্পন ইউসেন-চালিত গ্যালাক্সি লিডারকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জাহাজটি এবং এর ক্রুদের দ্রুত মুক্তির উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসার জন্য সৌদি, ওমানি এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের সহায়তা চাওয়ার সময় তারা হুথিদের কাছেও মুক্তির দাবিতে আবেদন করে।

জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিরোকাজু মাতসুনো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা এই ধরনের কাজের তীব্র নিন্দা করি।" এছাড়াও জাহাজের ক্রুদের মধ্যে কোনো জাপানি নাগরিক যে ছিলো না একথাটিও তিনি নিশ্চিত করেন।

জাপানের নিপ্পন ইউসেন (এনওয়াইকে নামেও পরিচিত) জানিয়েছে যে ফিলিপাইন, বুলগেরিয়া, ইউক্রেন, রোমানিয়া এবং মেক্সিকো থেকে আসা ২৫ জন ক্রুর নিরাপত্তা সহ আরও তথ্য সংগ্রহের জন্য সংস্থাটি একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। একজন মুখপাত্র বলেছেন, "জাহাজটি, একটি গাড়ি বহনকারী, এটি কোন পণ্য ছাড়াই ইউরোপ থেকে ভারতের দিকে যাচ্ছিল।

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয় যে একটি জাহাজ (যার নাম উল্লেখ করা হয়নি) জব্দ করা হয়েছে। সেখানে কোনো ইসরায়েলি ছিল না এবং যার মালিকানাও ইসরায়েলের নয়, এমনকি এর অপারেশনেও কোনো ইসরাইলি জড়িত ছিলো না বলে তার অফিস তাকে নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও তিনি বলেন যে তার অফিস বলেছে, "এটি ইরানের আরেকটি সন্ত্রাসবাদী কাজ যা মূলত মুক্ত বিশ্বের নাগরিকদের বিরুদ্ধে ও বৈশ্বিক শিপিং রুটের নিরাপত্তার সাথে এবং একযোগে আন্তর্জাতিক প্রভাবের সাথে ইরানের যুদ্ধ ঘোষণার বার্তা বহন করে।"

গত ১৪ নভেম্বর, হুথি বিদ্রোহী নেতা, আব্দুল মালিক আল-হুথি এক বিবৃতিতে বলেন যে উক্ত গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি জাহাজগুলি, এমনকি যেগুলাতে ইসরাইলি পতাকাও বহন করে না তবে ইসরাইলের বানিজ্যিক প্রয়োজনে লোহিত সাগরের পানিপথে অত্যাবশ্যকীয় তারা সেগুলোরও সন্ধানে আছে।

বিদ্রোহীদের আল-মাসিরাহ টিভি স্টেশনে সম্প্রচারিত এক বক্তৃতায় তিনি আরও বলেন, “যেকোনও ইসরায়েলি জাহাজকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের জন্য আমাদের চোখ খোলা রয়েছে।"


আটকৃত জাহাজের ডেকে হুদিদের আনন্দ নৃত্যের একটি ভিডিও ফুটেজ:



(রয়টার্স এবং এজেন্স ফ্রান্স-প্রেস এই প্রতিবেদনে অবদান রেখেছে।)


সাফকথা 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ