শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

বাংলাদেশ ও রঙ্গিন সাংবাদিক !


অধুনা সাংবাদিকতা বা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও কৃতকর্ম নিয়ে স্বয়ং সাংবাদিক সমাজ‌ই কিংকর্তব্যবমূঢ়! আর তাই বাধ্য হয়েই এদেশের সাংবাদিক মহল সাংবাদিকতাকে বিভিন্ন রঙ্গের নাম দিয়েছেন নিজেরাই! এক্ষেত্রে "হলুদ সাংবাদিক" বিশেষণটি সবার কাছে বহুল পরিচিত বিষয়।
মূলতঃ সাংবাদিকতার নামে ব্যক্তিগত বা একশ্রেণীর সমষ্টিগত চক্রান্তমুলক বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অথবা স্বার্থান্বেষনের জন্য সাংবাদিক সেজে সাংবাদিকদের নীতি ও আদর্শ এবং আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে একাধিক শ্রেণীর তথাকথিত সাংবাদিকতা হয়ে থাকে আমাদের বাংলাদেশে, যাকে সাংবাদিকতা বললেও হয়তো সাংবাদিক নামক মহান মানুষদের মহান কর্মধারাকে অবমাননা করা হবে।
বর্তমান বাংলাদেশে হাটে, ঘাটে,মাঠে,শহর,গ্ৰাম,বন্দরে, বিশেষ করে ফেইসবুক, ইন্টারনেট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সবচেয়ে বেশি চরিত্র মিলে যাদের তারা তাদের নিজেদেরকে সাংবাদিক, রিপোর্টার, সংবাদকর্মী ইত্যাদি হিসেবে পরিচয় দিয়ে চলে যাচ্ছেন।
'বাংলাদেশ প্রতিদিন'-এর বিখ্যাত সিনিয়র রিপোর্টার যিনি একজন "ষ্টার" বললেও কম বলা হবে অথচ নিজেকে একজন সাধারণ রিপোর্টার বলে মনে করেন তিনি বহুবার, বহুভাবে, বহু স্থানে এই সাংবাদিক নামের সাংঘাতিকদের চিহ্নিত করে ও কেটে বাদ দিয়ে সাংবাদিকতা পেশাটিকে পরিচ্ছন্ন করতে অনেকবার অনেক মুল্যবান কথা বলেছেন আর লিখেছেন তো অসংখ্য লেখা। অবশ্য ফলাফল, তথাস্তু!
প্রশ্নঃ হচ্ছে এদেশে বর্তমানে কেন মানুষ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিতে পছন্দ করে?
উত্তরটা সংক্ষিপ্তভাবে এমন যে সাংবাদিককে সবাই ভয় পায়, এড়িয়ে চলে, তোয়াজ করে কারণ কাল যদি গিয়ে সে কৃত অপকর্মের কারনামা প্রকাশ করে দেয়?
বলা হয়ে থাকে যে বাংলাদেশ পুলিশ নাকি কাউকে "খেরাজ" দিয়ে চলে না। অনেক বার পুলিশ সদস্যদের কেউ কেউ তো নিজেই বলেছে, "পুলিশের চেয়ে কোন বড়ো গুন্ডা এই দেশে নাই "! কিন্তু সাংবাদিক নামের উপর ঐ পুলিশ বাহিনীও কিন্তু "খিছ"! এই দেশে। একটাই ভয়, "যদি প্রকাশ করে দেয়"?
স্বাভাবিক ভাবেই যেকোন দুর্নীতিগ্ৰস্ত ও অপরাধীর একটাই ভয় থাকে যে তার কৃতকর্মটি যদি ফাস হয়ে যায়! আর যেহেতু সাংবাদিকের কাজ‌ই হচ্ছে সত্য উদঘাটন ও প্রকাশ করণ তাই, সাংবাদিকদের প্রতি সবার, এমনকি যাদের উপর বড়ো গুন্ডা নাই খ্যাত সেই স্বঘোষিত পুলিশ বাহিনী পর্যন্ত সাংবাদিক দেখলেই এড়িয়ে যায় ও যা করার সবিনয়ে তাও করে থাকে, গোপনে! ভয়! যদি বলে দেয়?
দুর্নীতিগ্ৰস্থ মানসিকতায় প্রায় ভরপুর এই বাঙ্গালী জাতির ভিতরে সাংবাদিক একটা "ত্রাস"-এর নাম। এই দেশে খাদ্যদ্রব্য, তেলপানি, মসলাপাতি, কাপড়চোপড়, থালাবাটি,লেপকম্বল, সহায়সম্বল, যেকোন পেশার, যে কোন শ্রেণীর, যেকোন স্থানের, যেকোন ধর্মের মধ্যে দুর্নীতি আর জোচচুরি সবচেয়ে বেশি। আর এই দুরবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিতে এইদেশে দলে দলে মানুষ সাংবাদিক হচ্ছে। তারা সাংবাদিক হবার নামে প্রথমত সাংবাদিক হিসাবে একটা, কেউ কেউ একাধিক আইডি কার্ড সংগ্রহ করে। আজকাল বাজারে বিভিন্ন দামের সাংবাদিক হিসাবে আইডি, ভিজিটিং কার্ড, ক্যামেরা,মাইক্রোফোন এমন কি গাড়ি ও টিম পর্যন্ত ভাড়ায় পাওয়া যায়, বিপদে পড়লে তথাকথিত সম্পাদক‌ও কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী ব্যাকাপ‌ও দেয়। আর এই সব ভাড়া ও ব্যাকাপ নিয়ে এই দেশে অসংখ্য মানুষ বর্তমানে "মাইনা ছাড়া চাকরি" সাংবাদিক হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে সর্বপর্যায়ে, সর্বস্তরে, সর্বস্থানে আর করছে "ধান্দা"! ধান্দা মানে 'দুর্বলতা প্রকাশ করে দেব'- এই শীতল হুমকির বিনিময়ে যে যার কাছ থেকে যা পারে হাতিয়ে নিচ্ছে "চিকনে"! আর দুর্বলতাওয়ালাও সে যেই হোক না কেন, নেতা-হাতা-খাতা, বস-চামচা, ডাক্তার-ইন্জিনিয়র-উকিল-মোক্তার আর ব্যারিস্টার, পুলিশ-আর্মী-র্্যাব, যেকোন পেশার, যেকোন দোকানদার সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেলেই সবকিছু নিয়ে লুকায়ে পরে আর তা না পারলে একটা দফারফা করে বেঁচে যায় এবং পুর্বের আকাম-কুকাম পুনরায় দুর্বার গতিতে চালিয়ে যায়। সাথে সাথে, যে সাংবাদিককের কাছে সে বা তারা 'দড়িছাড়া বান' খাওয়া থাকে তাকে মাসে বা সপ্তাহে এমনকি দৈনিক একটা হাপ্তা দিতে থাকে। আর ঐ হাপ্তার টাকা তথাকথিত সাংঘাতিক সাংবাদিকের যদি অফিসিয়ালি রেসু থাকে তবে সেইমতো ভাগাভাগি করে, আবার অনেকে ফ্রিল্যান্স খায়। ফ্রিল্যান্সারা সৌদি আরবের কপিলদের যেমন "কাফালা" দিয়ে আকামা রিনিউ করতে হয় তেমনি তারাও তাদের আইডি বা প্যাকেজ সামগ্ৰী বছরে বা মাসে কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী রিনিউ করে নেয়।
আবার এই ধান্দায় অনেক ক্ষেত্রে ধান্দা বেশি হবার চান্স থাকলে স্পটের ভিডিও বা অন্য আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে আসে, পরে দরকষাকষি হয়। অনেক সময় টার্গেট পুরণ না হলে তা ফেইসবুক বা ছোট খাটো কোন পত্রিকা বা অনলাইনে প্রকাশ‌ও করে দেয়। তবে সে ক্ষেত্রে তারা খুব সাবধান থাকে যাতে করে প্রকাশিত বিষয়টি যেন বেশি দুরে না যায়, শুধু অপরাধিকে সেমপল হিসাবে দেখিয়ে পেনিক বাড়ায়! আর যা প্রকাশ হোল তা' কে করলো, কাকে করলো তাও যেন চিন্হিত না করা যায় সে বিষয়েও তারা খুব সাবধান থাকে, পাছে অপরাধীর অপরাধ ধরা পরে যাবে অন্যকারো কাছে, সেই ভয়ে। কেননা ধরা পরে গেলে তার মুরগি (অপরাধী) হাত ছাড়া হয়ে যাবে, নয়তো তার সাজা হয়ে যাবে বা বন্ধ হয়ে যাবে অপরাধ। এক্ষেত্রে ঐ হলুদ, লালচে বা বিদিক সাংবাদিকের তো আর কোন লাভ হবার চান্স নাই।



  এটি এই প্রতিবেদনের সাথে মিল রেখে উদাহরণ স্বরূপ একটি ভিডিও ক্লিপ।






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ