ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে প্রথমে ১০ হাজার টাকা নেয়। তারপর আরও তিন লাখ টাকা দাবী করে। সেই টাকা দিতে না পারায় নির্দোশ শানুকে পিটিয়ে হত্যা করে থানার মধ্যে লাশ ঝুলিয়ে রাখে দুই ওসি এবং ডিউটি অফিসার। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে হত্যাকান্ড অস্বীকার করে বলে আত্মহত্যা করেছে। ওসির রুমে আত্মহত্যা করার কোন কারনই হতে পারে না। এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।
করোনা আতঙ্কের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলে টক অব দ্যা টপিক হয়ে ওঠা আমতলী থানায় ওসির কক্ষে সন্দেহভাজন আসামীর লাশ উদ্ধারের ঘটনা সাজানো দাবী এমন কথাই বলছিলেন নিহতের ছেলে সাকিব হোসেন।
তিনি আরও বলেন, বিনা অপরাধে আমার বাবাকে ওসি ধরে এনে তিন লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছে। আমি ওসির দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমার বাবাকে নির্যাতন করেছে। বাবার ওপর নির্যাতন যাতে বন্ধ হয় সেজন্য মঙ্গলবার দুপুরে আমি ওসিকে ১০ হাজার টাকা দেই। কিন্তু টাকায় ওসি তুষ্ট হয়নি। নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। বুধবার সকালে আমি বাবার সঙ্গে দেখা করতে থানায় আসি। কিন্তু আমাকে দেখা করতে না দিয়ে ওসি আবুল বাশার ও ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়। ওসি বলে, টাকা নিয়ে আস, তারপর দেখা করতে দেবো।
আমতলী উপজেলা গুলিশালালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, শানু হাওলাদারকে বাড়ি থেকে ধরে এনে নির্যাতন করেছে। আত্মহত্যার ঘটনা পুলিশের সাজানো।
উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘থানার ওসি মো. আবুল বাশার টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি।’
আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান বলেন, পুলিশ পরিকল্পিতভাবে শানুকে নির্যাতন করে খুন করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, নিহত শানু হাওলাদারের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছ। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে না।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামে ২০১৯ সালে বছর ৩ নভেম্বর ইব্রাহিম নামের একজনকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই হত্যা মামলার এজাহারে নিহত শানু হাওলাদারের সৎ ভাই মিজানুর রহমান হাওলাদারকে আসামি করা হয়। ওই আসামির ভাই শানু হাওলদারকে গত সোমবার (২৩ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সহেন্দভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমতলী থানা পুলিশ ধরে নিয়ে আসে।
শানুর ছেলে মঙ্গলবার থানায় এসে তাকে খাবার দিয়ে যান। বুধবার পরিবারের লোকজন এসে শানু হাওলাদারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ দেখা করতে দেয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে থানা থেকে খবর দেওয়া হয় শানু হাওলাদার ওসি তদন্তের কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
আমতলী থানার ওসি মো. আবুল বাশার বলেন, আসামী শানু হাওলাদার বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে ওয়াশ রুমে যাওয়ার জন্য বলে। সে ওয়াশ রুম থেকে ফিরে এসে এক ফাঁকে হাজত খানার ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
কিন্তু হাজতখানায় কোনও ফ্যান নেই সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পূর্বের কথা পাল্টে বলেন, ‘ওসি (তদন্ত) মনোরঞ্জনের কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। টাকা না দেওয়ায় তাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জবাব এড়িয়ে যান।
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা