শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

রবীন্দ্রনাথই প্রথম 'সোনার বাংলা' কথাটি বলেছিলেন

যে কলকাতায় তিনি জন্মেছিলেন সেটিও বাংলা।কিন্ত এদেশে জমিদারি করতে এসে তাঁর চোখেই প্রথম ধরা পড়েছিল--এ বাংলা তার জন্মস্থান কলকাতার বাংলা নয়।এ হলো সোনার বাংলা!এ মাটি সোনার মাটি,এ মাটিতে সোনা ফলে, মানুষগুলোও সোনার, তরীও সোনার!

দেখেছিলেন ষড়-ঋতুর বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর একমাত্র দেশের ছয়-ঋতুর রূপ। সেই রূপ আস্বাদনও করেছিলেন প্রাণভরে।গীতবিতানের ছয় ঋতুর প্রতিটি গানসহ অসংখ্য লেখা তার স্বাক্ষ্য দেয়।

তিনি এ দেশকে 'মা' বলে সম্বোধন করেছিলেন।


দেখেছিলেন মায়ের মুখের মধুর হাসি,আবার তার মলিন মুখ দর্শনে নয়নজলে ভেসেছিলেন।নদীকূলের বটের শোভায় মুগ্ধ হয়েছিলেন,তার ছায়াতে স্নেহ-মায়া অনুভব করেছিলেন।ফাগুন মাসের আমের বোলের গন্ধে পাগলপারা হয়েছিলেন।


দেশের মাটি বলতে এদেশকে বুঝেছিলেন,তার কোলে মাথা ঠেকিয়েছেন,শ্যামল-বরণ কোমল মূর্তিটি মর্মের মাঝে গেঁথেই গিয়েছিল তাঁর।

তাঁর কাছ থেকে আমরা দেশের রূপ ও দেশকে ভালবাসতে শিখেছি,চিনতে শিখেছি।

জন্ম কলকাতায়।বালক বয়সে পিতার সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে ঘুরে বেড়িয়েছেন।প্রথমবার বিলাতযাত্রা ১৭ বছর বয়সে। সে-ও ওই বালক বয়সেই।তার আগে কিছুদিন মাদ্রাজে মেজদাদা সত্যেন্দ্রনাথের কাছে ছিলেন।তারপর ২২ বছরে বিয়ে এবং পরিবারসহ পাকাপাকিভাবে পূর্ববঙ্গে চলে আসা।

অর্থাৎ, ততদিনে দেখে ফেলেছেন ভারতবর্ষের বহু জায়গা এবং বিলাত।কিন্ত মাথা ঠেকালেন জমিদারি করতে এসে এ মাটিরই কোলে।অকুন্ঠচিত্তে বললেন, 'সোনার বাংলা'--'তোমায় ভালবাসি'।

নোবেল পুরস্কারের সবটাই (প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার)
দান করেন তার প্রতিষ্ঠিত কৃষি ব্যাংকে।সমবায় প্রথা চালু,পতিসরে আধুনিক চাষের যন্ত্র অর্থাৎ ট্রাক্টর, পুত্রকে আমেরিকায় কৃষি বিষয়ে পড়তে পাঠানো,১ লক্ষ টাকার উপরে খাজনা মওকুফ,১৪০০ একর ভূমি দান করা গো-মহিষের চারণের জন্য--এখনকার সিরাজগঞ্জ অঞ্চলে দুগ্ধখামার গড়ে উঠেছে যে ধারাবাহিকতায়--সবই এ 'জমিদার' কবির কর্ম।

গবেষক যারা আমার চেয়ে তারা আরও ভাল বলতে পারবেন।

ভারতের টিভিগুলো ২২ শ্রাবণে সামান্য কী না কি করেছে বলছেন কেউ কেউ। তারা কিছুই যদি না-ও করতো কী এসে যেত এ মাটির?

অথবা আমাদের--কিংবা তাঁর?

লেখাটা শেষ করবো লেখক হুমায়ূন আহমেদ-- এর লেখার একটা অংশ বা ভাষ্য দিয়ে: এক শিক্ষক ক্লাসের ছাত্রদের প্রশ্ন করলেন,বল্ তো রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু কবে?এক ছাত্র দাঁড়িয়ে উঠে বলল,২২শে শ্রাবণ।

শিক্ষক ঠাস করে তার গালে এক চড় বসালেন।বললেন,
"ভুল!রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু নেই..........।"

(চন্দন মণ্ডলের ওয়াল থেকে)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ