শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

“প্রধানমন্ত্রীর অনুদান পেয়েছি, ভোগ করতে আপনার দয়া চাই”


সাইদুর রহমান রিমন : রাষ্ট্রের কাছে করুণা প্রার্থী হয়ে সহায়তা পাওয়া সাংবাদিক সহকর্মীদের নিয়ে আলোচনা সমালোচনার মাধ্যমে সামাজিক ভাবে তাদের কতটা হেয় করা হচ্ছে... তা কি ভেবে দেখেছেন? কর্মস্থলে মাসের পর মাস বেতন ভাতাহীনতা, কারণে অকারণে ছাটাইয়ের শিকার, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সাংবাদিকের মৃত্যুজনিত কারণ এবং ধারাবাহিক করোনা বিপর্যয়ে সাংবাদিকদের একেকটি পরিবারের জীবনযাত্রা বদলে গেছে, চরম বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এসব অসহায় পরিবারের সদস্যরা লোকলজ্জায় কারো কাছে নিজেদের দৈন্যদশার কথা তুলে ধরতে পারে না, সাহায্যের আর্তি জানাতে পারে না।

চক্ষু লজ্জায় পেটে ক্ষুধা রেখে জীবন ধারনকারী সাংবাদিক পরিবারগুলো মেইলে সাহায্য প্রাপ্তির ফরম পেয়ে চুপিসারে তা পূরণ করে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ভেবেছিল, চুপিসারে পাঠানো আবেদন যাচাই বাছাই শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান বরাদ্দ হলে সেটাও বুঝি আরো গোপনে ঘরে ঘরে ত্রাণের মতো পৌঁছে দেয়া হবে।

কিন্তু না, বারো টাকা দেয়ার মুরোদ না থাকলেও আমাদের কল্যাণ ট্রাস্ট ‘ভিক্ষুকদের লাইন ধরিয়ে যাকাত ফেৎরার শাড়ি লুঙ্গি’ দেয়ার মতো অনুদান প্রাপ্তদের তালিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার জঘণ্যতা প্রদর্শণে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেনি। আবার সাংবাদিক সমাজ সে তালিকাকে পুঁজি করে নানা আলোচনা, সমালোচনা ও বাদানুবাদ শুরু করে দিলেন। ফলশ্রুতিতে কি দাঁড়ালো? দাঁড়ালো এই যে, প্রত্যেক সহায়তা প্রার্থীর নাম ধাম পরিচয় ভিক্ষুকের মতো চিহ্নিত করেই সমাজ ও রাষ্ট্রে জানান দেয়া হলো। এহেন অবস্থায় অনুদান পাওয়া অসহায় পরিবারগুলো চোখ ভরা পানি নিয়ে মৃদু স্মরে শুধু বলতে চাইছে: ‘ভিক্ষা চাই না বাবা তোমার কুত্তা সামলাও।’

সারাদেশের আপামর মানুষের কল্যাণে সর্বোচ্চ সহানুভূতি দেখানো সাংবাদিক সমাজ এবার চোখ বন্ধ করে একটু ভেবে দেখুন তো!! নিজ পরিবারের মতো সহকর্মি পরিজনদের প্রতি কি কোনরকম সহমর্মিতা দেখাতে পারলেন কী?

এমন অনুদানের অর্থ আপনারও পাওয়া দরকার ছিল? আপনার পাশের সাংবাদিক বন্ধুটি আরো নিরীহ...তার দরকার ছিল আরো বেশি? সে জন্য আপনি দাবি তুলুন, আরো সবার সমর্থনযুক্ত আবেদন আবারও পৌঁছে দিন কণ্যাণ ট্রাস্টে। তাই বলে যিনি অনুদান পেয়েছেন তারটা বাতিল করে সেই অনুদানের চেক আপনাকে নিতে হবে? সাংবাদিকতার পাশাপাশি এমন অমানুষ হয়ে উঠলেন কবে থেকে, কেমন করে? প্রধানমন্ত্রীর অনুদান সম্মানের সঙ্গে ভোগ করতে অসহায় পরিবারগুলো এখন বিতর্ক সৃষ্টিকারী সাংবাদিকদের দয়া কামনা করছেন।

সব সরকার বরাবরই সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মুখস্ত পরামর্শ দেয়ার ওস্তাদি দেখিয়েছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের বাস্তব সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নানা উদ্যোগে আমরা মুগ্ধ। সফলতার সেসব উদ্যোগে সৌন্দর্যের পালক হিসেবেই যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুদান ও ঈদ উপহার। সামাজিক ভাবে বিশেষ মর্যাদায় আসীন তবে অসহায় সাংবাদিক পরিবারগুলোকে অনুদান সহায়তা প্রদানের পদ্ধতিটা আরেকটু সম্মানজনক হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ পদ্ধতি আবিস্কারের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর নয়, দায়িত্বটি হচ্ছে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ও সাংবাদিক সংগঠনগুলোর। কেমন মর্যাদায় সাংবাদিকদের ঘরে ঘরে প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতি পৌঁছানো যায় সে কৌশল আবিস্কার করুন। আমরা তালিকা প্রকাশের নামে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার বিদঘুটে প্রক্রিয়া আর দেখতে চাই না। কুলাউড়ার মতো একটি পৌরসভার মেয়র যদি রাতের অন্ধকারে অভাবী মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছে দিতে পারেন, আমরা কেন পারবো না? নাকি ওই যোগ্যতার সক্ষমতাটুকুও আমরা হারিয়ে ফেলেছি.....???

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ