আইসিডির জায়গা কি করে এভাবে প্রকাশ্যে ইস্তেমাল করে? এই প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার বলেন, "মাগনা নাকি, ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করি। ঘাটে ঘাটে টাকা পয়সা দেই।" এমন সময় শাহজাহানপুরের একটি পুলিশ টিম রেলগেইটের ঘুন্ডিঘরে বসা ছিলো, আনোয়ার তাদের দেখিয়ে বললেন, "হাড্ডি দেই বলেই চুপচাপ বসে থাকে, নাইলে শান্তি দিতো...!"
এদিকে খোঁজ নিয়ে তথ্য মিলে, আনোয়ারের নেতৃত্বে একটি চোর সিন্ডিকেট অনেক বছর যাবৎ আইসিডির বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীটি অবৈধভাবে ভেঙ্গে তারা তার ভিতরে চব্বিশ ঘন্টা আসা যাওয়া করে। অথচ এখান থেকেই মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার মূল্যের মালপত্র ক্লিয়ারিং ফরোয়ার্ডিং এজেন্সির মাধ্যমে আমদানি ও রপ্তানি হয় বিশ্বময়। ফলে একথা বলাই বাহুল্য যে এটি একটি অত্যন্ত সেনসেটিভ জোন এবং শুধু আমাদের রাষ্ট্রীয় আইনেই নয় বরং সারা পৃথিবীর সকল দেশের আইন মোতাবেক সকল আইসিডি ক্যাম্পাসগুলোই যেকোনো মন্ত্রী-মিনিষ্টারের বাড়ীর চেয়েও অধিকতর নিরাপত্তায় ঘেরা এলাকা হয়ে থাকে। একই ভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন এরিয়ার অংশবিশেষ অধিগ্ৰহণ করে তৈরি করা আইসিডিটিও ঠিক তাই।
তাহলে 'কাঠ-আনোয়ার' ও তার চোরের দল কি করে আইসিডি এলাকায় চব্বিশ ঘন্টা বিচরণ করে? তাদের বৈধতা কি? আর আইসিডির নিরাপত্তা ব্যাবস্থা!?
কাদের কাছ থেকে আনোয়ার আইসিডি'র জায়গা ভাড়া নিয়ে এই অবৈধ কারবার চালায়? এই প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারের ম্যানেজার বহুল পরিচিত নাম বাবুজী বলেন, "আমাকে কেনো জিজ্ঞেস করেন, যান আইসিডির কতৃপক্ষের কাছে জিজ্ঞেস করেন! মাসের শুরুতেই ভাড়ার টাকা নেয়ার জন্য আইসিডি ওয়ালারা ঘুর ঘুর করতে থাকে। ভিতরে আমাদের মিলন আছে। তার কাছে যান, সে সবার সাথে কথা বলিয়ে দিবে।
উল্লেখ্য আইসিডির এই একমাত্র অবৈধ চোরা কারবারী সিন্ডিকেটের অপর একজন ডন মিলন। এই মিলন আইসিডির ভিতরে কন্টেনারের মধ্যেই তার অফিস ও সংসার করে। তার মোটর সাইকেলের পার্কিংয়ের জন্য রয়েছে আলাদা কন্টেনার। ভিতর থেকে সকল মালামাল কালেকশন করে মিলন আনোয়ারকে জানালে আনোয়ার তার সাঙ্গপাঙ্গদের দিয়ে ভ্যানগাড়ি ভরে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে তার দোকানে। তারপর তা তার অবৈধ দোকানে থরে থরে সাজিয়ে বিক্রি করা হয় চড়া মূল্যে। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন মানপত্রের সাথে আসা এইসব কাঠ সে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় সাপ্লাইও করে থাকে। আর এসব কিছুই চলে আইসিডির একটি গেট স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে তার সামনে আনোয়ারের তথাকথিত ভাড়া করা দোকানে।
অনুসন্ধানী কর্মীরা, এবিষয়ে খবর নিতে যায় আইসিডি কর্তৃপক্ষের কাছে। তাদের প্রশ্ন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দেশের কোন আইনে আইসিডির সংরক্ষিত জায়গা কে বা কাহারা চোরাই মাল বিক্রি করার জন্য আনোয়ার গং-এর কাছে ভাড়া দেয়?
প্রাথমিক ভাবে অনেক চেষ্টা করেও কর্তৃপক্ষের কারো মুখ খোলানো সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় তারা আইসিডি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের সরনাপন্ন হলে, তিনি বিষয়টি সম্পুর্ন অস্বীকার করে বলেন, আশু তদন্তের ব্যবস্থা করছি কিন্তু দীর্ঘ একটি মাস অতিবাহিত হবার পরেও দাপুটে আনোয়ারের অবৈধ দোকানের টিকিটিও নড়ে নি এমনটাই দেখা গেছে।
মূলতঃ কমলাপুর আইসিডি'র নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে তোয়াক্কা না করে একদল অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবৈধ কাঠ-আনোয়ার সিন্ডিকেটের সাথে মিলেমিশে বছরের পর বছর চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ ব্যবসা ও চুরিধারী...
এবিষয়ে আমাদের অনুসন্ধানী সাংবাদিকের দল উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত একটি কার্যকরী ব্যবস্থা গ্ৰহন করার কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য করেন।




0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা