মঞ্জুর মোর্শেদ : কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের ওয়েবসাইট থেকে একটি প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, সারা দেশে আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়ক মিলিয়ে প্রায় ৯ হাজার কিলোমিটার সড়কের দায়িত্বে রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। যদিও পুলিশের এই ইউনিটের রয়েছে জনবল সংকট। এ জন্য এই সড়কগুলোর প্রায় ৩ হাজার কিলোমিটার দেখভাল করতে পারছেন বাহিনীটির কর্মকর্তা ও সদস্যরা। বাকি ৬ হাজার কিলোমিটার সড়কে নিরাপত্তার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে জেলা পুলিশ, স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য ইউনিট।
উক্ত প্রতিবেদনে এছাড়াও বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে বিভিন্ন সময় ডাকাতি কিংবা চলন্ত বাসে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয় টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনা। এমন ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য হাইওয়ে পুলিশ গণপরিবহন-সংশ্লিষ্ট, বিশেষ করে চালক, সহকারী, কাউন্টার ম্যানেজারদের ওপর বিশেষ নজরদারি রাখছে। এ ছাড়া রাত-দিন বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কে যাত্রী চলাচল নিরাপদ করতে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন হাইওয়ে পুলিশের প্রত্যেক সদস্য।
প্রতিবেদনটিতে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বা ৯৯৯-এও কেউ ফোন করে না, দুর্ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বা ৯৯৯-এও কেউ ফোন করে না
হাইওয়ে পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে বলে জানায় তারা।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে কর্মকর্তারা সকলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন সময় যেসব বাসে ডাকাতি কিংবা ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে, সেসব বাস মূলত আঞ্চলিক মহাসড়কের চলে এবং সেগুলো লোকাল বাস। রাতের বেলায় স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের আনা-নেওয়ার সময় বিভিন্ন অসাধু ব্যক্তির লালসার শিকার হয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এসব ঘটনা যখন ঘটে, তখন কেউ এগিয়ে আসে না অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বা ৯৯৯-এও কেউ ফোন করে না।
তারা বলেন, রাজধানী থেকে দূরপাল্লার বিভিন্ন গণপরিবহন দিনে কিংবা রাতের বেলায় যখন ছেড়ে যায়, তখন নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা যাত্রীদের ছবি তুলে রাখেন। তবে যেসব লোকাল গাড়ি বিভিন্ন মহাসড়কে চলাচল করে, সেগুলোয় নিরাপত্তার অনেক ঘাটতি থেকে যায়।
তবে এহেনো কোনো কার্যক্রমের বাস্তবতার অস্থিত্ব পরিলক্ষিত হয়নি সরেজমিনে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা এমনটাই জানিয়েছেন।
বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট করে তল্লাশি চালানো হয়, তখন মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয় হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে যে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে, এমনকি ডাকাতির মতো ঘটনা ঠেকাতে মহাসড়কগুলোর নির্জন স্থানগুলোয় টহল বাড়িয়েছে হাইওয়ে পুলিশ। এখন রাতের বেলায় পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে মহাসড়কে অবস্থান করেন হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। যদিও রাতের বেলায় মহাসড়কগুলোতে দ্রুতগতির বাস চলাচলের সময় ভেতরে কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে কিনা, তা বাইরে থেকে দেখা কিংবা বোঝা সম্ভব হয় না। আবার যখন বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট করে তল্লাশি চালানো হয়, তখন মহাসড়কগুলোয় যানজট সৃষ্টি হয়। তারপরও যান চলাচলে যেন বিঘ্ন না ঘটে, সেসব বিষয় মাথায় রেখেই বিভিন্ন সময় চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি গণপরিবহন চালক, সহকারী, ম্যানেজারদের ওপরও নজরদারি রাখা হয়।
কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন রুটের গণপরিবহনে চালক-হেলপার এবং মালিকদের সঙ্গে সচেতনতামূলক কর্মসূচি করা হচ্ছে। যাত্রী নিরাপত্তার পাশাপাশি বাসে থাকা চালক ও হেলপারদের নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়গুলো সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। রাতের বেলায় বাস চালানোর ক্ষেত্রে রাস্তা থেকে যাত্রী না ওঠানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সচেতন করার জন্য প্রতিনিয়ত প্রতিটি বাস টার্মিনাল ছাড়াও মফস্বল এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক কর্মসূচি করা হচ্ছে। শুধু পরিবহন-সংশ্লিষ্ট নয়, সড়কে যাতায়াত করা যাত্রীদেরও সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তাদের সঙ্গেও প্রতিনিয়ত কথা বলছেন হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তারা।
হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, মহাসড়কগুলোয় যেকোনও ধরনের অপতৎপরতা ঠেকাতে সচেতনতার বিকল্প নেই। আমাদের নিজস্ব জনবলের ঘাটতি থাকার পরও জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয় করে মহাসড়কগুলোয় যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য সবার সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যাওয়া গণপরিবহনে রাস্তা থেকে যাত্রী ওঠানোর বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
রাতে বাস চালানোর ক্ষেত্রে রাস্তা থেকে যাত্রী না ওঠানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছেরাতে বাস চালানোর ক্ষেত্রে রাস্তা থেকে যাত্রী না ওঠানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যেকোনও ধরনের অসংগতি দেখলে ৯৯৯-এর মাধ্যমে অভিযোগ জানালে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে মনে করেন হাইওয়ে পুলিশের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ ছাড়া মহাসড়কগুলোতে ডাকাতি কিংবা ধর্ষণের মতো ঘটনা ঠেকাতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি যাত্রীদের সচেতন হওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।
কিন্তু পরিবহন শ্রমিকদের দাবি হাইওয়ে পুলিশের আচরণ অনেকটাই যেনো রুপকথার ডাকাতের মতন। তারা জানায় তারা সবসময় হাইওয়ে পুলিশের আতংকে থাকে কখন তারা ধাওয়া করে এসে গাড়ি থামিয়ে তাদের কাছ থেকে জোর করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ঢাকা চট্টগ্রাম হাইওয়েতে এমন একাধিক ঘটনার তথ্য প্রমাণ দেন তারা। এমনকি সাংবাদিকদের সহায়তা নিয়ে এমন একাধিক ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশের ছিনিয়ে নেয়া টাকাও ড্রাইভাররা উদ্ধার করেছেন বলে তারা প্রমাণ দিয়েছেন। তাছাড়া রাস্তায় অযথা গাড়ি থামানো, বিনা কারণে গাড়ি থানায় নিয়ে যাওয়ার হুমকি সহ মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দেবার কথাও জানিয়েছেন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের একাধিক কাভার্ডভ্যান ড্রাইভাররা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্রগ্রামের একজন ড্রাইভার বলেন, “বদ্দা আরার কতো দিন ভান ন খাই গাড়ি চালান পরে বদ্দা তার কোনো হিসাব নাই!”
-এর কারণ জানতে চাইলে সে বলেন যে হাইওয়ে পুলিশের প্রতারণার ফাঁদে পরে তাদের বাধ্য হয়ে খোরাকির টাকা হাইওয়ে পুলিশকে দিয়ে হেলপার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়। সোহেল নামে এক ড্রাইভার বলেন, “আমরা লেখাপড়া জানি না, গরিব ড্রাইভার, তাই আমাদের শোষণ করে সবাই। রাস্তায় পোশাক পরে আমাদের লুন্ঠন করে পুলিশওয়ালা, এসব টাকা যায় আমাদের পকেট থেকে, মালিক বা কোম্পানি কখনো একটা পয়সার ক্ষতি নিজেদের ভাগে ষেয় না। অথচ আমাদের কষ্টের কামাই দিয়েই আমাদের ভাইয়েরা কেউ পুলিশ হয় কেউ মালিক হয় আর আমরা আজীবন তাদের লালন পালন করে একসময় তাদের লোকজনের হাতেই সবকিছু হারাই। আমরা ভয়েও কিছু বলি না, কারণ তারা রাস্তার রাজা, তাদের কাউকে ক্ষপিয়ে আমাদের পক্ষে কি রাস্তায় গাড়ি নিয়ে বের হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন?”
এমতাবস্থায় সবকিছু দেখেশুনে আমাদের একদল সংবাদকর্মীরা বেশকিছুদিন ধরেই বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের আওতায় থাকা সড়কগুলো পর্যবেক্ষন করে যাচ্ছেন এবং হাইওয়ে পুলিশের সকল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন তাদের কাছে একটি সাধারণ প্রশ্ন রেখে তার উপরে তাদের মন্তব্য জানতে চাইছে।
আমাদের প্রশ্ন, “এমতাবস্থায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আর কি কি সুবিধা দিলে তার পক্ষে তার আওতাভুক্ত অধীনস্থ অফিসারদের কর্তব্যরত অবস্থায়ও বাগে রাখতে পারবেন এবং তাদের যার যার দায়িত্বে থাকা রাস্তাঘাট পোশাকী চাঁদাবাজির কবল থেকে মুক্ত রাখতে পারবেন?"

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা