তাই ছদ্দবেশে ফেনী পাসপোর্ট অফিসে যায় আমাদের ওই টীম। তারা তাদের নিজেদের এক লোক (ফেনীর বাসিন্দা) তার জন্য একটি পাসপোর্ট করতে যায় এবং দেখে আসে ফেনী পাসপোর্ট অফিস কি করে দালালদের দখলে!
তারা বলেন, "টাকা ছাড়া কোনো কাজ হওয়া তো দূরের কথা, কোনো লোক কাজ ছাড়া ফেনী পাসপোর্ট অফিসের আশেপাশেও দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, কারণ দালালরা এসে প্রশ্ন করে কেনো কি? এখানে কেনো? কাজ না থাকলে ওখান থেকে সরে যেতে ঠান্ডা মাথায় হুমকি দেয় দালালরা!"
এসকল অবস্থা দেখে আসার পরে আমাদের অনুসন্ধানী দলের প্রধান কথা বলতে ফোন দেন ফেনী পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান সাহেবকে। দলপ্রধান বলেন, "তাকে তো মোবাইলে ও হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিতে দিতে রীতিমতো পেরেসান! তিনি যেনো অমাবশ্যার চাঁদ, তিনি কিছুতেই ফোন ধরেন না। অতঃপর একবার ফোন ধরে আর ধরেই হুমকি! ধমক দিয়ে জিজ্ঞেস করেন পরিচয় এবং সরাসরি জানিয়ে দেন যে তিনি এসব বিষয়ে কোনো সাংবাদিকের সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক নন এবং কেনো তাকে ফোন দেয়া হয়েছে!? আর পুনরায় ফোন দিলে তিনি নাকি পুলিশ সুপারের স্বরণাপন্ন হবেন বলে জানান!"
প্রশ্ন হচ্ছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দেশের একটি জেলায় পাসপোর্ট অফিসের একজন উপ-পরিচালকের কি করে এমন হিম্মত হয় যে সে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে পুলিশের হুমকি দেয়?
ফেনী পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান কি মানেন না যে তিনিও সাধারণ মানুষের ঘামের পয়সা দিয়ে পালা একজন সরকারী চাকর মাত্র?
সাংবাদিকরা সরেজমিনে দেখে আসেন যে তার অধীনস্থ ফেনী পাসপোর্ট অফিসটি একটি দুর্নীতির আখড়া, এমতাবস্থায় তা থেকে মুক্তির উপায় কি এবং এ লক্ষ্যে সাংবাদিকরা তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো কথা না বলে সরাসরি হুমকি ধামকি দেন!
এসময়ে উপস্থিত থাকা একজন সুধীজন আক্ষেপ করে বলেন, "বলি, আমরা তো এমনটি আজও শুনি নি যে কোনো পাসপোর্ট অফিস কারো পৈত্রিক সম্পত্তি, তাহলে উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমানের এহেনো আচরণবিধি মতলব কি?" তার এতো সাহস কি করে হয় যে তিনি সাংবাদিকদের সাথে কু-আচরণ করেন, তার এই অপশক্তির উৎস কি জানতে চায় ফেনীবাসী ও সারা দেশের সাধারণ মানুষ।
(সাফকথা)

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা