বন্ধুগো আর বলিতে পারি না বড়ো বিষজ্বালা এই বুকে....
মঞ্জুর মোর্শেদ : ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক রাজনীতির মুখে একদলাথুথু ছুড়ে দিলো এপ্রজন্মের ছাত্রলীগের তথাকথিত নেতা-নেত্রীদের অবহেলা ও রাজনীতির নামে প্রহসন! অথচ আমরা কোনোদিন স্বপ্নেও দেখি নাই, এই বাংলার বুকে কোনো মায়ের সন্তানের এমনও হিম্মত হতে পারে! অথচ আজ এটাই বাস্তব, এটাই প্রমাণিত সত্যকথা!
আজ প্রমাণিত হোলো যে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে দশ টাকার চা, সিঙারা ও সমোচা ছাড়া কিছুই নাই, আর তাই, এরজন্য ভিসি স্যার দশ টাকায় চা, সিঙারা ও সমোচা মেলাতেই মহাখুশি! এছাড়া এখানে আর তো দেখি কিছুই নাই...
আখতারুজ্জামান আজাদের 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি নষ্টভ্রষ্ট ব্রয়লার প্রজন্ম' শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয়েছিল সম্ভবত ১৪ই জুলাই ২০১৪ সালে।
লেখক লিখেছেন,
"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার আপাদমস্তক জুড়ে আছে। একে আমি দেখছি, অনুভব করছি অর্ধযুগ ধরে। ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেছে, তবু প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় টিএসসির দেয়ালের চায়ের টঙে বসতে না পারলে নৈমিত্তিক কাজের কী যেন অপূর্ণ থেকে যায়! দেয়ালে বসে মানুষ দেখি, মানুষের অঙ্গভঙ্গি দেখি, কথা শুনি, গান শুনি। অনেক সময় লক্ষ করি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঁচ বছর পড়ার পরেও অনেকে 'মধুর ক্যানটিন' চেনে না; ডাকসু চেনে না, ডাকসু (DUCSU) বানান জানে না, নাম শোনেনি 'স্বোপার্জিত স্বাধীনতার'! অনেককে বলতে শুনি, "দোস্ত, রাস্তার মাঝখানে কতগুলা মূর্তি আছে না? আমি ঐখানে।" এরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগত আড্ডার্থী। এরা ঐতিহাসিক ভাস্কর্যসমূহের নাম জানে না। ভাস্কর্যগুলো এদের কাছে 'রাস্তার মাঝখানের মূর্তি'! এই হচ্ছে আমার প্রজন্ম! আমার প্রজন্ম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে বাদামের খোসা ছিলতে, প্রেমলীলা চালাতে, বেপরোয়া বাইক চালাতে, মাংসের তুফান দেখাতে, চামড়ার প্রদর্শনী করতে! আমার প্রজন্ম জানে না 'রাজু ভাস্কর্যের' রাজু কে, 'মিলন চত্বরের' মিলন কে, 'হাকিম চত্বরের' হাকিম কে, 'মধুর ক্যানটিনের' মধু কে! আড্ডার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আড্ডা দিয়ে ক্যাম্পাসকে নোংরা করে চলে যায়, একবার ঢুঁ মেরে দেখে না ডাকসু সংগ্রহশালা, যেখানে সংক্ষেপে সাজানো আছে ঢাবির ৯১ বছরের ইতিহাস, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস।"
(লেখার অংশবিশেষ তুলে ধরা হয়েছে।)
আসলে আমরা এসব দেখতে দেখতে কেমন যেনো সম্বিত হারা একটা জাতিতে রূপান্তরিত হয়ে গেছি, নপুংশক যেনো! আমাদের আর যেনো কিচ্ছু হবার কোনো সুযোগই নেই! আমাদের গণমাধ্যমে চোখ বুলালেই চোখের সামনে যা দেখি তাতে অবাক হয়ে যাই! ভাবি আমরাও কি একটা জাতি? একেমন জাতি হে!?
পোস্টের ভিডিওতে যে মেয়েগুলোকে দেখছি তারা আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠতম মানব গড়ার বিদ্যাপিঠ, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা, নিঃসন্দেহে ওরাই বাঙালী জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। আর ওরা যে লাইনে দাঁড়িয়েছে তা এজাতির ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ লাইন কিন্তু একোন দশা!!! এই জাতির ভবিষ্যতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম দেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ লাইনে দাঁড়িয়ে আমাদের জন্য এ কি বার্তা দিয়ে গেলো? এর মানে কি? কোথায় গিয়েছে দেশের শিক্ষা, সভ্যতা, মানবতা ও ভবিষ্যৎ?
আমরা এভাবে আর কতোদিন ধ্বংসের দিকে অতিবাহিত হবো? আমাদের এই ধ্বংসের পথে চলা থামানো দরকার, নয়তো অচিরেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে গজবে!
আমাদের এই মূহুর্তে একজন কান্ডারী দরকার যে এই পথ থেকে আমাদের সরিয়ে এনে সঠিক পথে পরিচালিত করবে।
কে সে? আমাদের বাঙালী মায়েদের গর্ভে এমন একজন সন্তানও কি আর পয়দা হয় নি যে এই দেশ ও জাতিটাকে ভালোবেসে তার দিক নির্দেশক হবার মানসিকতা রাখেন?
"ধিক্কার জানাই আমি আমার এই জানবজন্মের! আমার এই জাতির ডাক্তার, কবিরাজ, বুদ্ধিজীবী, কেরানি, সাংবাদিক অথবা কবিদের প্রতিবন্ধী জীবন দেখে আফসোস করছি, করুনা প্রকাশ করি তাদের প্রতি!
আমার সন্তানদের জন্য খুব কষ্ট হচ্ছে, আহারে ওরা কোথায় থাকবে? কোথায় রেখে যাচ্ছি ওদেরকে....
(সাফকথা)

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা