![]() |
| (ছবি: সংগৃহীত) |
বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের দুর্নীতির পরিস্থিতি কোন সেক্টরে কেমন কি? এটা জানতে গিয়ে দেখা যায়, দেশের প্রধান দুর্নীতিবাজ সেক্টর সমূহের লিস্টে পাসপোর্ট এক, দুই, তিনের মধ্যে কোনো না কোনো পজিশনে বছরের পর বছর ধরে বহাল তবিয়তে আছেই। ফলে বাংলাদেশের পাসপোর্ট ও পাসপোর্ট অফিস যতই ডিজিটাল বা সুপার ডিজিটাল হোক না কেন কিছুতেই সাধারণ গ্রাহকরা রক্ষা পাচ্ছে না দালালদের অর্থনৈতিক হয়রানি মূলক ব্যবস্থার হাত থেকে।
এদিকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যতটা সহজ ও সুযোগ করে দিয়েছে দেশের নাগরিক অধিকার পাসপোর্ট সেবা পাওয়ার তরিকা টিকে তাতে করে যে কোন লোক অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে শুধুমাত্র তার এন আই ডি কার্ডের কপি ও সরকারের পাসপোর্ট এর জন্য নির্ধারণ করে দেয়া ফি-এর টাকা জমা করে তার রশিদ একত্র করেই অত্যন্ত সহজেই পাসপোর্ট পেয়ে যাবার কথা কিন্তু কার্যত তা কোথাও হয় না এমন অভিযোগে হরহামেশাই মিলছে।
এমতাবস্থায় আমাদের একজন সাংবাদিক বন্ধুর নিজের জন্য একটি পাসপোর্ট এর প্রয়োজন হলে সে তার নিজ জেলা গাজীপুরের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে তার সংগ্রহ করেন। আর এই পাসপোর্ট সংগ্রহকে কেন্দ্র করেই আমাদের অনুসন্ধানী দল গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতির বাস্তব পরিস্থিতি সরজমিনে অনুসন্ধান করে আসেন।
অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় উল্লেখিত পাসপোর্টটি পেতে তাদের সেই বন্ধুটি ঢাকা থেকে গাজীপুরে যাই। সেখানে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে ১০০% সাধারণ মানুষের মতোই মুখ বন্ধ করে তার পাসপোর্ট সেবা পাবার কাজটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ করেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয় গোপন করে গ্রাহক তার ইচ্ছা মোতাবেক তারই পরিচিত গাজীপুরের স্থানীয় লোক বাড়ির পাশের আত্মীয় দালালের সাথে প্রথমে গিয়ে দেখা করে। উক্ত দালালের সাথে দেখা করার পরে দালাল তাকে পেছনে পেছনে রেখে পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটা দোকানে নিয়ে কিছুক্ষণ বসে একটা ফাইল তৈরি করে হাতে ধরিয়ে দিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার লাইনে দাঁড়াতে বললে সেও যথারীতি তাই করে। সে লাইন রক্ষা করে সবার সাথে সিরিয়াল মেন্টেন করে কোনরকম লেনদেন বা ঝামেলা ছাড়াই তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও ছবি তুলে দিয়ে একটি ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে চলে আসেন এবং স্লিপ টা নিয়ে তিনি তা তার ফাইলে রেখে বলেন, এখন তুমি যাও ডেলিভারি তারিখে গিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসবা"তখন সে তার বাবার কাছ জানতে পারে যে ৪৮ পৃষ্ঠার ইং পাসপোর্ট ১০ বছর মেয়াদ Regular Delivery করতে তিনি তার গ্রামের বাড়ির পাশের বাড়ির সেই দালালকে ১৪ হাজার টাকা দিয়েছেন, যা সরকার ঘোষিত ফি এর পরিমাণ ৮০৫০ টাকা মাত্র।
অনুসন্ধানী দল পুনরায় পাসপোর্ট সংগ্রহের নির্ধারিত তারিখ মতো সেদিন ভোরে গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে হাজির হয়, অপরদিকে তাদের সাংবাদিক বন্ধু ও (গ্রাহক) তার বাবার দেয়া কিছু কনভেন্সের জন্য টাকা আর স্লিপটা নিয়ে ভোরেই জয়দেবপুর স্টেশন ধরে এমন একটা ট্রেনে চেপে জিয়া হাজির হয় এবং যথারীতি কাঙ্খিত পাসপোর্ট রিসিভ করে আনতে সক্ষম হন।
সেদিন পরিচয় গোপন রাখা সাংবাদিকের কথা থাকলেও তার পাসপোর্ট রিসিভ করতে ডেলিভারি কক্ষে না গিয়ে সে তার সঙ্গীয় আরেক সাংবাদিক বন্ধুকে সাথে নিয়ে আগে উপর তলায় যান উপ-পরিচালকের রুমে এবং যথারীতি অনুমতি নিয়ে ভিতরে গিয়ে বসেন।
সাংবাদিকরা অফিসের দায়িত্বে থাকা উপ পরিচালকের কাছে প্রথমবারের মতো তাদের পরিচয় প্রকাশ করে, উপপরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন সাহেব তাদের পরিচয় জানার পরে তাদের প্রতি যথাবিহিত মর্যাদা রেখেই কথা বলতে বলতে নিজ আগ্রহে ডেলিভারি চেয়ে নিয়ে তাঁর পিএ দিয়ে পাসপোর্টটা আনিয়ে দেন, যা নিঃসন্দেহে একটা দারুণ সম্মান প্রদর্শন, যাকে একজন ক্যাডার সার্ভিসের অফিসারের একজন সাংবাদিকের প্রতি একটি কাটিসিও বলা চলে।
উল্লেখ্য গণমাধ্যম কর্মীরা নিজের একজনের একটি পাসপোর্ট এর উসিলায় গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে সেখানকার কাজের সিস্টেম ও দালালদের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখে এসে উপ-পরিচালক জনাব মোঃ আফজাল সাহেব একজন মেধাবী অফিসার বলে মন্তব্য করেন। তারা জানান, গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসের সামনে দেখা যায় কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের মত অফিস বানিয়ে কিছু লোকজন বসে আছেন, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ইত্যাদি নিয়ে ধান্দা করতে প্রতিটি অফিসে গ্রাহকদের সমাগম তাদের নজর আসে কিন্তু কথা হচ্ছে, বর্তমান সরকার যে অত্যন্ত সহজ পদ্ধতিতে পাসপোর্ট সেবা চালু করেছেন তাতে করে তো শিক্ষিত বা অশিক্ষিত যেকোনো লোকেরাই ওইসব দালালদের শরণাপন্ন হওয়ার দরকার পড়ার কথা নয়, তাহলে দালালের হাতে নিজেদের তুলে দিয়ে সরকারের ঘোষিত ফি এর ডাবল রিডবল টাকা খরচ করার আসলে কারণ কি।? তারা সরেজমিনে দেখতে পায়, যতই ডিজিটাল পদ্ধতির কথা বলা হোক না কেনো, এদেশে পাসপোর্ট পেতে হলে এখনো সাধারণ গ্রাহকদের অত্যাধুনিক এন আইডি কার্ডের কপি দেওয়ার পরও আরো কিছু কাগজপত্রের শর্ত জুড়ে দিয়ে একটা ফাইল তৈরি করার পুরনো সিস্টেমটি বহাল তবিয়তে চালু রাখা হয়েছে, আর এই ফাইলই গ্রাহকদের বাধ্য করে দালালের কাছে আত্মসম্পন্ন করতে।
একাধিক শিক্ষিত নারী পুরুষ গ্রাহকদের সাথে কথা বললে তারা প্রশ্ন করেন, যেহেতু এনআইডি কার্ডেই যেকোনো লোকের সকল প্রকারের সঠিক তথ্য, পরিচয় পাওয়া যায়, তাহলে এনআইডি কার্ডের পরেও আরো কিছু কাগজপত্র মিলিয়ে আলোচ্য ফাইলটি তৈরি করার পুরনো ট্রেডিশনটা কেন অমূলক বলে মনে হচ্ছে না!?
সরে জমিনে দেখা যায় গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় কিছু অসাধু দালালরা তাদের নিজ নিজ পরিচিত লোকদের মধ্যে যাদের পাসপোর্ট প্রয়োজন তাদেরকে এনে অযথা ওইসব অফিসে বসিয়ে অনলাইনে ফর্ম পূরণ, টাকা জমা করার সহ অনাকাঙ্ক্ষিত ফাইল রেডি করছেন, মূলত এটাই প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার আসল কৌশল। শুধুমাত্র ফাইল তৈরি পুলিশ ভেরিফিকেশন, এই দুটি বিষয় সংযুক্ত রয়েছে বলেই অনৈতিক পথে টাকা খরচ করতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ জনগণ।
এদিকে গাজীপুর পাসপোর্ট অফিসে সরে জমিনে গিয়ে দেখা গেছে যে উক্ত অফিসের সকল সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এদিক -ওদিকে কোন দিকেই কোন প্রকার নজর না দিয়ে শুধু কাগজপত্র জমা নেওয়া, ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেয়া, ছবি তোলা, ডিলিভারি দেয়া ইত্যাদি আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে। এছাড়াও দেখা যায় অফিস অভ্যন্তরে কারো সাথে কারোর কোন প্রকার কোন কথাও বলতে হয় না কাঙ্খিত পাসপোর্ট পেতে।
অফিসে এত সুন্দর একটা ব্যবস্থা চালু থাকার পরও উৎকোচ দেয়া -নেয়ার পরিস্থিতি যেহেতু অব্যাহত রয়েছে তাহলে এর জন্য কাকে দায়ী করা উচিত বলে মনে করেন?"এ প্রশ্ন রাখা হয় ও পরিচালক বরাবরে। তিনি বলেন, এত সহজে পাসপোর্ট করার উপায় সৃষ্টির পরও পাসপোর্ট সেক্টরে যে দুর্নীতি চলে এটার জন্য সাধারণ মানুষের অযথা দালালের উপর নির্ভরশীল মানসিকতাই সবচেয়ে বেশি দায়ী বলা যায়। দুষ্ট চক্রের কিছু মানুষ মিলে সম্ভবত সিন্ডিকেট করে সাধারণ গ্রাহকদের ভুলের মধ্যে রেখে বোকা বানিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকার বারবার একাধিকবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন আপনারা সাংবাদিক আপনারা নিশ্চয়ই অবগত আছেন। এই অফিস পাসপোর্ট সেবা গ্রহীতাগণের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং সেবা গ্রহীতা গনের জন্য আমার দরজা সব সময় উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। উনার দরজার সামনে লিখে রেখেছেন কোন অনুমতির প্রয়োজন নেই অফিস প্রধানের দরজা সকলের জন্য উন্মুক্ত শুধুমাত্র সিরিয়াল ঠিক রেখে প্রবেশ করুন। অনুসন্ধানী দলের প্রধান উপস্থিত থাকা অবস্থায় বেশ কয়েক আবেদনকারী তাদের বিভিন্ন সমস্যা যেমন পুরাতন পাসপোর্টের সাথে আইডি কার্ডের নামের মিল নেই, বানান ভুল , বয়স ভুল, পিতা/মাতার নাম সঠিক নয়, পূর্বের ভিন্ন ভিন্ন নামে/পরিচয় একাধিক পাসপোর্ট গ্রহণ ইত্যাদি সমস্যা নিয়ে অফিস প্রধানের কক্ষে প্রবেশ করেছেন এবং অফিস প্রধান জনাব আফজাল হোসেন সাহেব তাদের সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে ভুল তথ্যের পাসপোর্ট গ্রহণ না করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে করে বলেন আপনারা জাতির বিবেক আপনারা ইনভেস্টিগেশন করে দেখুন আমার অফিস সম্পূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত। গণপ্রজান্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জিরো টলারেন্স ঘোষণা বাস্তবায়নে বদ্ধ পরিকর।

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা