যারা জনতা তথা আওয়ামী লীগ বিএনপি কিছু করে না, পেটনীতি করে, তাদের কথা হচ্ছে, "দেখছো শেখের বেটি বিশ্ববাসীরে কি দেখাইলো? 'খালি একদিনের জন্য তাদের হাতে শহর ছাইড়া দূরে গিয়া দেখাইলাম তারা কি পারে? কি করে? ক্ষমতায় গেলে কি করবে? দেখেন!?', বুঝ শেখের বেটির ব্রেন...." ম্যারাডোনা আর ক্যানিজি তাদের সহ ১১ জনের একটা টিম নিয়ে ফুটবলে বিশ্ব জয় করে আসতেন জাতির জন্য, সেখানে তারা প্রায়ই অফসাইডের ফাঁদে ফেলে পৃথিবীর অনেক কঠিন কঠিন শক্তিশালী ফুটবলারদের দেশকে যেমন হারিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এবার তাঁর বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের একটা অফসাইডে ফেলে গোল করে দিলেন, সময়টা ছিলো গতকাল আরেকটা ঐতিহাসিক ২৮ অক্টোবর, ২০২৩ইং তারিখ, ভয়ংকর খুনখারাবির দিনে। এই ২৮ অক্টোবর নিয়ে গত কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশের সরকারী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ঝগড়াঝাঁটি মূলক বক্তৃতায় বাঙালী জাতিসহ বিশ্ববাসী আগে থেকেই নিশ্চিত ছিলেন যে এই দেশের মানুষের উপর তারিখ দিয়ে আরেকটা গজব লাগিয়ে দেখানো হবে, থাকবে রাজনীতির সাইনবোর্ড লাগিয়ে খুনোখুনির আইটেম। আওয়ামী নেতা ও. কাদের সাহেব ক্যানিজির ভূমিকায় থেকে এবারের ২৮ অগাস্টের ঘোষণা করা রাজনৈতিক খেলার দিনের আগে ও উপলক্ষ্যে নিজমুখে জনসমক্ষে যা যা বলেছেন তার প্রতিটি লাইন ইতিহাসে অবশ্যই রেকর্ডেড। ফকরুল দল বনাম কাদের দল গত কয়েকমাস ধরেই এবারের ২৮ অক্টোবর নিয়ে জনসমক্ষে যে যে পরিস্থিতিতে যা যা বলেছেন তার প্রতিটি ইতিহাসে দিন, ক্ষণ, তারিখসহ লেখা আছে, পালাবার পথ নাই। যে জলিল সাহেবের সামনে শেখ হাসিনা খুকি, যে জলিল সাহেব ছিলেন বাঘ নেতা সেই জলিল সাহেবও শেষ বয়সে নাকে খৎ দেবার মতো অবস্থা, যে দাদা বলেছিলেন, "বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে, শেখ হাসিনা ধরলে...", তার কোনো আদাপড়াই কাজে লাগে নাই, তাঁর গাড়িতেই মেলে টাকার বস্তা... মান্নান সাহেবের কথা বলে কালক্ষেপণ কি দরকার, হাওয়া ভবন ছিলো বিশ্ব বেয়াদবের স্পট, যারা বাপমায়ের সাথে রাজনীতি করেছেন, যারা বাপমাকে পথ ধরে দিয়েছেন তাদের সাথেই চরম বেয়াদবির ক্লাস চলতো, কে না জানে!? যাই হোক। ফকরুল বনাম কাদের দলের কয়েকমাস ব্যাপি ওই ঝগড়াঝাঁটির মধ্যে গ্ৰামের মহিলারা যেমন ইমোশনালি যা খুশি তাই বলে ফেলেন (রাগেগোস্যা), মুখ ফসকে, তেমনি এবার মীর্জা ফখরুল সাহেবও কথায় কথায় বলে ফেলেছিলেন যে '২৮ তারিখে... না হলে হাতে চুড়ি পরে...' ইত্যাদি ইত্যাদি, তার সেই কথা মতো নিজের হাতে নিজে চুড়ি পরে না যাওয়া লাগলেও তাকে হাতে সরকারি চুড়ি তথা হাতকড়িই পরতেই হয়েছে আজ সকালে, সিরিয়ালে আছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের অনেকেই। তবে সাধারণ মানুষের ইমোশন হচ্ছে, আমরা বুঝি, কে কি বোঝে না বোঝে, আমাদের নিজেদের হাতে বাজার সদাই করে সংসার চালাতে হয়, ভব সংসারে আমরা না বুঝলে কি বাঁচতে পারতাম এই রাক্ষস খোক্ষসের মনোভাবের মধ্যে!? আমরা বুঝি, গতকাল টানেল উদ্বোধন করতে গেলেন শেখ হাসিনা কয়েকজন লোকজন নিয়ে, বাকি সবাই মাঠেই সেটিং করা, বিরোধী দল একারা ঘোষণা করে এমন ভাবে মাঠে নামলেন যাতে করে ঢাকা শহর মানেই বিএনপি জামায়াত মনে হয়েছে সকলের কাছে, আসলে যা ছিলো মেধাবী রাজনীতির তৈরি করা ছক। সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশে থাকা জামায়াত যেমন হঠাৎ একটা জায়গায় মিছিলের জন্ম দিতে পারেন টাইমিং করে বেরিয়ে এসে, তেমনি গতকাল বিএনপি জামায়াতের যেসব লোকজন মাঠে নেমেছিলেন তাদের সাথে তাদের বিরোধীরাও এমন ভাবে টাইমিং করে মিশে ছিলেন যে কোনটা খাসির টুকরা কোনটা ছাগির টুকরা আলাদা করা যায় নি। কেনো গতকাল কি ঢাকা শহরের স্বাভাবিক জীবন যাপন ভিন্ন ছিলো? মোটেও না, গতকাল কেবলমাত্র ওইটুকু জায়গায় ওইটুকু সময় রাজনৈতিক ঘোষণা করা খুনখারাবি হয়েছে। এমতাবস্থায় কেউ একথা অস্বীকার করতে পারবেন না যে গতকাল বাংলাদেশের সরকারী ও বিরোধী দলের জাতীয় রাজনীতিকরা তারিখ দিয়ে আবার একবার এমন রাজনীতি করে দেখালেন যেখানে বলেকয়ে লাশ বিছানো হয়! এই দেশের ৯৯.৯৯৯% লোক গত মাসতিনেক আগে থেকেই জানতেন সরকারি ও বিরোধী দল, ২৮ তারিখে মানুষ মানুষকে মারবে এমন একটা রাজনীতির খেলা খেলবে এবং বাংলাদেশের সরকারী ও বিরোধী দলও সফলতার সাথেই তাদের সেই খেলা খেলেছেনও বটে। কেননা এতোগুলো লাশ পরে গেলো, সরকারী ও বিরোধী দলের যারা ঘোষণা করে এই খেলাটি খেললেন তারা তো এই খেলার গোল হচ্ছে খুন জানেনই, নাকি!!! সাফকথা
0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা