শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

‘কক্সবাজারের পাপিয়া’ খ্যাত নারী বীথিদের দুইনম্বর ব্যবসা এখনও থামে নাই,

 

(ছবি: সংগৃহীত)
বিশেষ প্রতিবেদন : শেখ হাসিনার দেয়া প্রণোদনার ২৫০০ টাকার প্রকল্পের প্রায় কোটি টাকাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি অনুদানের কোটি কোটি টাকা ভুয়া কাগজপত্র করে হাতিয়ে নিয়ে গায়েব হয়ে গেছেন এক তথাকথিত নারী সমাজসেবী, -এমন অভিযোগ মিলেছে চট্রগ্রামের কক্সবাজার থেকে। এছাড়াও এই নারীর বিরুদ্ধে আরও অনেক রকমের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে, তাকে প্রতারণার দায়ে একবার গ্ৰেফতার‌ও করা হয়েছিল বলে জানায় স্থানীয় লোকজন।


(ছবি: অবৈধ সংগঠনের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান)

জানা গেছে, করোনাকালের শুরু থেকেই কক্সবাজারে মোছাঃ শামসুন্নাহার (বীথি মোস্তফা) নামের এক নারীকে মাঠ পর্যায়ে খুব ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। স্থানীয় একাধিক লোক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “খুলনার মেয়ে বীথি এই ঘোরাঘুরি করতে করতে‌ই সমাজসেবীও বনে যায়, -একটি অবৈধ সংগঠনের সাইনবোর্ডের ছায়া তলে, যা মূলতঃ একটা অনৈতিক সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটটি তৈরি করে তারা বিভিন্ন রকমের ধান্নাবাজ লোকজনদের একত্রিত করে দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দেয়। তারা হতদরিদ্র বাঙালী ও রোহিঙ্গাদের সাথে চলাফেরা শুরু করে, সমাজ সেবার নাম করে এক পর্যায়ে তাদেরকে মূলধনে রুপান্তরিত করে।”

(ছবি: অবৈধ সংগঠনের লোগো; সংগৃহীত)

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের মোস্তফা নামের এক ছেলেকে বিয়ে করার সুবাদে কক্সবাজারে গিয়ে সমাজ সেবার নামে বীথি তার সিন্ডিকেট নিয়ে কক্সবাজারের হাজার হাজার হতদরিদ্র পরিবারের হক কেড়ে খায়। বীথিরা তাদের অবৈধ ও তথাকথিত সংগঠনের ব্যানারে দেশের বিভিন্ন নামীদামী লোকজন সহ পুলিশ প্রশাসন, এমনকি এন‌এস‌আই, ডিজিএফ‌আই -এর বড়ো বড়ো পোষ্টের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাদের সম্পৃক্ততার মিথ্যা তথ্য ও ছবি জুড়ে দিয়ে বিভিন্ন রকমের কার্ড ও পোষ্টার বানিয়ে ছড়িয়ে দিয়ে লোক চক্ষে ধুলো দিতে থাকে, পাশাপাশি কক্সবাজারের একাধিক সেক্টরের একাধিক প্রশাসনিক টেবিলে টেবিলে ঘোরাঘুরি শুরু করে, মূলত লাইন-ঘাট খুঁজতে। তাদের ওই সিন্ডিকেটের টার্গেট রোহিঙ্গাদের অনুদান আত্মসাৎ, অবৈধ আইডি কার্ড, পাসপোর্ট বানানোর কন্টাক্ট নেয়া ও বাঙালী হতদরিদ্র মানুষের জন্যে করোনাকাল থেকে যেসব সরকারি ও বেসরকারি অনুদান ও প্রণোদনাসমূহ প্রদান করা হয়েছে সেগুলো গিলে খাওয়া।

(ছবি: সংগৃহীত)

স্থানীয়রা আরও জানায়, যখন থেকে কক্সবাজারে করোনার টিকা দান শুরু হয় তখন থেকেই বীথি ও তার সিন্ডিকেট কক্সবাজারের ডিসি অফিস পর্যন্ত দাবড়ে বেড়ানো শুরু করে দেয়। তারা অনুদানের মাস্ক থেকে শুরু করে খাদ্য, বস্ত্র, ওষুধ, কম্বল পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় ভুয়া সংগঠনের নামে। এছাড়াও তারা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাহায্যের নামে চাঁদাবাজিসহ এমনকি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রণোদনার ২৫০০ টাকার সেই প্রকল্পেও ভাগ বসায়। এছাড়াও তারা বিভিন্ন রকম তদবির বানিজ্য, জমিজমা দখল, টাকা-পয়সা আদায় করে দেয়া, দেনদরবার ইত্যাদি বহুবিধ কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে চালায় “তথ্যের সন্ধ্যানে, জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট দুর্নীতি দমনে তথ্য প্রকাশনী সংস্থা” নামের একটি অবৈধ সংগঠনের সাইনবোর্ডের আড়ালে। জানা যায় এই সংগঠনটি আসলে পল্লব কান্তি রায় নামক এক ব্যক্তির নামে রেজিষ্ট্রারকৃত। এবিষয়ে জানতে চাইলে বীথি জানায়, “এই সংস্থার প্রক‍ৃত চেয়ারম্যান পল্লব কান্তি রায় নিজেই।

(ছবি: সংগৃহীত)

সরেজমিনে মিলেছে, আব্দুল মান্নানসহ আরও কয়েকজন হোতারা মিলে এই সংগঠনের বিধিমালা ও লোগো কপি করে নিজেদের নামে প‍্যাড ও আইডি কার্ড বানিয়ে প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে, মানুষকে বোকা বানিয়ে আইডি বিক্রি করে প্রতিনিধি বানিয়েও হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

(ছবি: সংগৃহীত)

অতঃপর বীথির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে বীথি বলেন, “আমার কাছ থেকে যা নিয়েছে তার ডকুমেন্টস আমার কাছে আছে। আমি যখন সত‍্য জানতে পেরে সংগঠনে থাকব না বলেছি তখনই মান্নান আমাকে নিয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ২০২২ সালে আমার নামে একটা মিথ্যা মামলা হয়েছিল যা আপোসের মাধ‍্যমে শেষও হয়েছে, সেই মামলার কপি সংযুক্ত করে মানুষের মনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সংস্থার মূল মালিক পল্লব কান্তি রায় ভূয়া চেয়ারম্যান মান্নানের নামে ওয়ারেন্ট ইস‍্যু করেছে।”

(ছবি: সংগৃহীত)

ওদিকে তথ্য মিলেছে, ওই অবৈধ সংগঠনটির চেয়ারম্যান মোঃ আব্দুল মান্নান, নির্বাহী পরিচালক এসএম আকাশ, তথ্য মিলেছে তিনি চট্রগ্রাম লামায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিশাল বাড়ি করেছেন, তার চাঁদাবাজি সন্ত্রাসীদের‌ও হার মানায়, ভারতে তার এক ভাই থাকে সেখানেও সে অর্থ পাচার করেন। এছাড়াও রয়েছেন, কক্সবাজারের আব্দুর রহিম বাবু, তৌহিদ, বরিশালের সোলায়মান, গাজীপুরের আশরাফুল, রফিকুল ইসলামসহ অনেকেই। এরা সবাই মিলে ওই ভূয়া সংগঠনের নামে চাঁদাবাজি করে, আইডি কার্ড বিক্রি করে সাথে চলে তদবির বানিজ্য। এছাড়াও যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পেইজ খুলে, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে গ্ৰুপ বানিয়ে ২৪ ঘন্টা তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

(ছবি: সংগৃহীত)

এদিকে জানা যায়, আসলে টাকা ভাগাভাগি নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হলে তাদের লোক‌ই তথ্য প্রকাশ করে দিয়ে প্রণোদনার টাকা আত্মসাতের দায়ে বীথির বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় একটা অভিযোগ‌ দায়ের করে যেকারণে বীথি একবার এরেষ্ট হয় কিন্তু চতুর বীথি বিভিন্ন কূটকৌশলে তা থেকে মুক্ত হয়ে কক্সবাজার থেকেই রীতিমতো গায়েব হয়ে গেছে। যাবার সময় সে তার অবৈধ কাজের সঙ্গী-সাথীদের ভাগের কোটি কোটি টাকাও নিয়ে পালিয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বীথি এখন ঢাকায় থাকে এবং সেখানে থেকে সে সে তার তথাকথিত নারী সংগঠন চালিয়ে যাচ্ছে যার অন্তরালে চলে বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ।

(ছবি: সংগৃহীত)

অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজারে‌র বেশকিছু সমালোচিত নারীদের নিয়ে ঘোরাঘুরি ছিলো বীথির, সে নিজেও একটা বিতর্কিত চরিত্র কিন্তু তার অবৈধ লম্বা হাত ও সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করে না। এছাড়াও তার নিজস্ব একটা নারী সংগঠন‌ও আছে যার উপর ভিত্তি করে সে এখনও বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে, জেলায় জেলায় মেলা করে বেড়ায়। তার সাথে রয়েছে বিভিন্ন বিতর্কিত চরিত্রের নারীদের সম্পর্ক, রয়েছে বিভিন্ন ষ্টার, সেলিব্রিটি, সিআইডি, ডিবি, পুলিশ, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাদের সাথে খুব‌ দহরমমহর। একাধিক সুত্র থেকে জানা যায়, বীথি তার ব্যক্তিগত কাজে তাদের কাছ থেকে সুবিধা ভোগ করে উৎকোচের বিনিময়ে ও নারী সাপ্লাই করে খুশি রেখে।

(ছবি: সংগৃহীত)

অনুসন্ধানে মিলেছে, বীথির ব্যক্তিগত চরিত্র ও চালচলন কখনোই ভালো ছিলো না বিধায় তার স্বামী সংসার সন্তান সব কিছু হারাতে হয়েছে। মা-বাবা, ভাই-বোন কারও সাথেই বর্তমানে বীথির কোন সম্পর্ক নাই ওই একই কারণে। বিতর্কিত, ‘কক্সবাজারের পাপিয়া’ বলে খ্যাত বীথি কক্সবাজার থেকে পালিয়ে গিয়ে ঢাকায় এখন তার দলবল নিয়ে সারা বাংলাদেশে মেলা করে ঘুরে বেড়ায়। তথ্য সূত্র জানিয়েছে, তার এই মেলার অন্তরালেও অনেক অনৈতিক কায়কারবার চলে। মেলার কারণে সারা দেশের চেনা অচেনা অনেক বিচিত্র চরিত্রের রাঘববোয়ালদের সাথে বীথির যোগাযোগ হয়ে যায়, তারপর বীথি নারী হয়ে নারী নিয়ে অনেক অনৈতিক কারবার করে, -এমনটাই জানা গেছে।

(ছবি: সংগৃহীত)

উল্লেখ্য কক্সবাজার একটি পর্যটন এলাকা, সারা বাংলাদেশের লোকজনসহ বিভিন্ন দেশের লোকজন এখানকার সমুদ্র সৈকতে অবসর যাপনের উদ্দেশ্যে সারা বছর আসা যাওয়া করে। এখানে রয়েছে অসংখ্য হোটেল, মোটেল, কটেজ, রেস্টুরেন্ট আর এসবের মধ্যে বিভিন্ন রকম অবৈধ কার্যকলাপ‌ও চলে, -এমন কথা প্রতিনিয়ত‌ই পত্রিকাতে আসে যা স্থানীয় লোকজনেরাও অস্বীকার করতে নারাজ। এবিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থার নাম করে কক্সবাজারে অনেক অবৈধ লোকজন নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে। এদের ছত্রছায়ায় কক্সবাজারে মদ, নারী, মাদক জুয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে বেপরোয়া ভাবে। প্রশাসন যেনো তাদের হাতের পুতুল, দেখেও দেখে না ভাব! ফলে কিছুতেই থামছে না এইসব সিন্ডিকেটের অবৈধ প্রতাপ। এরফলে প্রিয় কক্সবাজার দিনদিন হয়ে উঠেছে একটি নিরাপত্তাহীন জোন। বীথিদের মতো লোকজনেরা এখানে এসে এদের মতো লোকজন জুগিয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে আঁতাত করে ইয়াবা বানিজ্যসহ রোহিঙ্গাদের সাথে অবৈধ যোগাযোগ স্থাপন করে যাচ্ছে। স্থানীয় সাধারণ লোকজন এদের হাতে জিম্মি তারা এথেকে মুক্তি চায়। এবিষয়ে তারা প্রশাসনের ব্যর্থতা দেখে হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে কোনো কূলকিনারা না পেয়ে শেষভরসা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

(ছবি: প্রতীকী)

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তদন্ত সংস্থা যেমন র‍্যাব সিআইডি, ডিবি, পিবিআই, ডিজিএফ‌আই -এর সমন্বয়ে কমিটি গঠন সাপেক্ষে জনস্বার্থে একটি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের নির্মূল করা সম্ভব। সরকারের প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এই সমস্ত অপরাধীদের অতি শীঘ্রই আইনের আওতায় গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আসল রহস্য উন্মোচন করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা জরুরী বলে সকলের প্রত্যাশা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ