শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

'দলিল যার জমি তার', -এসব ফালতু কথা বলে মনে করেন ঘুজিয়া খাইল গ্ৰামের সিরাজ

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এস এম জজ মিয়া : দীর্ঘ প্রায় একযুগের‌ও বেশি সময় ধরে নিরীহ মানুষের জমিজমা জোর জবরদস্তি করে দখল করে রেখেছেন এক ভূমিদস্যু এমনটাই অভিযোগ মিলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাতলপাড় ইউনিয়ন থেকে। অভিযোগে জানা যায়, ওই সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু 'দলিল যার জমি তার' এইসব কথা মানতে নারাজ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাছির নগর থানা এলাকার ঘুজিয়া খাইল গ্ৰামের কয়েকটি নিরীহ পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, উক্ত 

এলাকার বিচার শালিসি এমন কি থানা পুলিশ বা নেতাদেরও কোনো প্রকারের তোয়াক্কা করেন না কুখ্যাত ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী সিরাজ। সে কোন আইন বা নীতি নিয়ম মানে না, তার যা ইচ্ছা সে তাই করে থাকেন এবং কোনো কাজেই কাউকে পরোয়া করে না। থানা পুলিশকে সে তার পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বলে নিজের মুখেই প্রকাশ্যে বলে বেড়ান। 

এরপর সরেজমিনে গিয়ে নাছির নগর থানা এলাকার ঘুজিয়া খাইল গ্ৰামের সিরাজ মিয়া পিতা- মৃত তাহের মিয়া নামক কুখ্যাত দাপুটে ভূমি দস্যু সিরাজ বাহিনীর অন্যতম নেতা সিরাজের এইসব কুকীর্তির কথা এলাকাবাসীর কাছ থেকে সরাসরি জানা যায়।

সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভুক্তভোগীরা বছরের পর বছর থানা পুলিশ থেকে শুরু করে সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অভিযোগ দিলেও তারা কোনো ভাবেই তাদের ক্রয় করা জমিজমা তথা মাথা ঠাঁইটুকুও বুঝে পাচ্ছেন না। 

এছাড়াও তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমি খেকো সিরাজ তার মায়ের ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া দুই শতাংশ জায়গার স্থলে আট শতাংশ জায়গায় জোর পূর্বক অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছে। এনিয়ে একাধিকবার সামাজিক সালিশ দরবার হয়েছে এবং উক্ত সালিশ দরবারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিনজন বিশিষ্ট আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, সেখানে সম্মিলিত এলাকার সাহেব সর্দার এবং আইনজীবীগণ সিরাজ মিয়াকেই অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করেন কিন্তু সে শালিস বৈঠক না মেনে সেখান থেকে উঠে গিয়ে সবাইকে টপকে নাছির নগর থানায় নিরীহ ২৪ জন মানুষের নামে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দায়ের করেন। সুত্র থেকে গেছে, উক্ত মামলার যে ১০জনকে সাক্ষী হিসেবে হাজির করা হয়েছে তারা সকলেই কুখ্যাত প্রতারক ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী সিরাজ বাহিনীর সদস্য। 

এদিকে এলাকার সাহেব সর্দাররা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, আমরা নিরুপায় অসহায়, আমাদের ন্যায্য কথার কোনো মূল্যে নেই সিরাজ বাহিনীর কাছে। এবিষয়ে ঘুজিয়া খাইল গ্ৰামের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিরাজ বাহিনীর সদস্যরা এলাকার চিহ্নিত গুন্ডা, বদমাইশ, সন্ত্রাসী দুষ্কৃতিকারীদের সাথে খুব দহরমমহরম এবং এ কারনেই তাকে সবাই ভয় পায় এবং তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে যায়না মান ইজ্জত আর জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে। 

(ছবি: ধর্ষক মুক্তা মিয়া ও ধর্ষিতা নুসরাত; সংগৃহীত)

এছাড়াও অনুসন্ধানে জানা যায়, সিরাজ মিয়ার তৃতীয় ছেলে মুক্তার মিয়া (২২) এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার স্কুল পড়ুয়া (১১) বছরের নুসরাতকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষন করে।

জানা যায়, উক্ত ছাত্রীর বাবা নাছির নগর থানায় মামলা দায়ের করেছেন বটে কিন্তু কুখ্যাত দাপুটে ভূমি দস্যু সিরাজের অবৈধ উপায়ে ইনকামের টাকার কাছে সেই মামলা ফাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। অতঃপর বাধ্য হয়ে হার মেনে মুখ বুজে সহ্য করে যাচ্ছেন অসহায় ধর্ষিতার বাবা জাহাঙ্গীর। এদিকে একটি নাবালিকা মেয়েকে ধর্ষণ করার পরেও এলাকায় বীরদর্পে বুক ফুলিয়ে চলাচল করে ধর্ষক মুক্তার। 

এবিষয়ে থানা পুলিশ কেন মুক্তাকে গ্ৰেফতার করতে দ্বিধাবোধ করে? এই প্রশ্নটি রাখেন এলাকার সাধারণ মানুষ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের কাছে।

উল্লেখ্য যে এই সিরাজ মিয়া বড় ছেলে মোঃ ফারুক একজন ইটালি প্রবাসী এবং তার দ্বিতীয় ছেলে তাবারক মালয়েশিয়া প্রবাসী, অত‌এব তার টাকার গরম অনেক বেশী, আর এ কারণেও সে কাউকে তোয়াক্কা করে না! যখন যেখানে যা প্রয়োজন টাকা দিয়ে সে সবকিছু ধামাচাপা দেয় নির্দ্বিধায়!

(ছবি: সিরাজ বাহিনীর হাতে আহত সাধারণ মানুষ; সংগৃহীত)

এছাড়াও কুখ্যাত দাপুটে চাঁদাবাজ সিরাজ মিয়ার নিজের ছেলেরা বিদেশে আছে এই মর্মে সে আশেপাশের বেশকিছু নিরীহ মানুষের বেকার যুবকদের বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। সরেজমিনে গিয়ে এই সমস্ত ভয়ংকর বিষয়গুলোর গুঞ্জন এলাকার সাধারণ মানুষের মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে।

সকলের মতে, ভূমিদস্যু সন্ত্রাসী সিরাজ বাহিনীর সদস্যরা মিলে এমন কোনো অবৈধ কাজ নেই যা তারা করতে পারে না।

এছাড়াও জানা যায়, কিছুদিন আগে সিরাজ বাহিনীর সদস্যরা রাস্তায় ওৎ পেতে থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ১) অলাদ মিয়া; ২) হাবিব উল্লাহ; ৩) জামাল মিয়া; ৪) কুদ্দুস মিয়াকে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে।

এবিষয়ে ঘুজিয়া খাইল গ্ৰামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ

পুলিশ প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় হাজির করার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ