শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

পেলে: ফুটবল জগতের ঈশ্বর


পেলে ফুটবল বিশ্বে এমন একটি নাম, ফুটবল খেলার ফ্যান অথচ এই নামটি শোনেননি এমন হতেই পারে না। ফুটবল জগতের ঈশ্বর তিনি। কিন্তু এত সব তার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। কঠোর পরিশ্রম আর দৃঢ় মনোবল তাকে এই সম্মান এনে দিয়েছে।



জিরো থেকে হিরো হওয়ার এক মহাকাব্য পেলের জীবনী

৩ অক্টোবর, ১৯৪০ সালে ব্রাজিলের এডসন অ্যারান্টেস ডো নাস্কিমেন্টোতে পেলে জন্মগ্রহন করেন। তাঁর পিতাও ছিলেন একজন ফুটবল খেলোয়াড়। পা ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে খেলা থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন তিনি।

ফুটবল জগতের ঈশ্বর পেলে; Image Source: starsandstripesfc.com


তাই পেলেকে দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করে বেড়ে উঠতে হয়েছে। পরিবারকে আর্থিকভাবে সহায়তার করার জন্য জুতা পালিশ করতে শুরু করেন তিনি।ছেলেবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি ছিল তার অসীম আগ্রহ। স্থানীয় ক্লাবে খেলার মাধ্যমেই পেলে প্রথম সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সহজে জেতার আনন্দ কোথায়? বাধা যত বিশাল, বিজয়ের আনন্দও ততোই বাঁধভাঙ্গা!
পেলে


১১ বছর বয়সে তিনি জাতীয় দলের খেলোয়াড় ওল্ডেমার ডি ব্রিটোর নজরে পরেন। ব্রিটো পেলেকে ফুটবল ক্লাবের পরিচালকদের দেখিয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছিলেন , একদিন পেলে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল খেলোয়াড় হবে। তিনি তার কথা সত্যিকার অর্থে বিশ্বাস করে বলেছিলেন কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ থাকলেও তার কথা সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

সান্তসে পেলে প্রথম নিজেকে যথার্থ প্রমাণ করেন তার প্রথম মূলধারার খেলায়। তার জীবনের প্রথম গোল সেই ম্যাচেই করেন তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে। ম্যাচটি ছিল করিন্থিয়ানস এফসি’র বিরুদ্ধে।

পেলের বাবা হেডশটে দক্ষ ছিলেন, তিনি তার বাবাকে সম্মান জানাতে এক ম্যাচে ৫টি হেডশট গোল করেন; Image Source: .folha.uol.com



পেলের যখন ১৭ বছর বয়স তখন সারা দুনিয়ার ফুটবল ভক্তরা নড়েচড়ে বসেন। পেলে জানান দেন তার অভিষেক হয়েছে এবং ফুটবলকে তিনি অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে এককভাবে ৬ গোল করেন তিনি পুরো সিরিজে এবং অনেকটা তার হাত ধরেই প্রথম বারের মত ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতে নেয়।

অতঃপর তার প্রতিভার আলোয় উদ্ভাসিত হয় ফুটবল দুনিয়া। ক্লাবগুলো উঠে পরে লাগে তাকে নিজেদের ক্লাবে খেলানোর জন্য। কিন্তু ক্লাবগুলোর অস্বস্তিকর আগ্রহ দেখে ব্রাজিল সরকার এই তারকা ফুটবলারকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেন এবং ব্রাজিলিয়ান ক্লাব বা দল ছাড়া অন্য দেশের ক্লাবের হয়ে খেলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।


মাঠে দর্শক দেখতে পেতেন পেলে কী চমৎকার দক্ষতার সাথে বল শাসন করে লক্ষ্যের দিকে নিয়ে এগিয়ে চলে। তিনি শুধু বল পরিচালনাতেই দক্ষ ছিলেন না, তার কিক এবং হেড করার দক্ষতাও ছিল অতুলনীয়।
১৯৫০এর ফিফা বিশ্বকাপ উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিল পরাজিত হলে বাবাকে কাঁদতে দেখে পেলে বলেছিলো, ‘চিন্তা করো না। একদিন আমি এটা জিতবো।’; Image Source: castlefineart.com


১৯৬২ সালের বিশ্বকাপ থেকে বাদ পরে পেলে। কারণ টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই মারাত্মকভাবে আহত হন। অতঃপর ১৯৭০ সালে, পেলে তৃতীয় বারের মতো তার দেশের হয়ে বিশ্বকাপ ঘরে তোলেন।

তিনি দলের হয়ে ব্রাজিলের ১০০তম বিশ্বকাপ গোলটি করেন। তিনি এই গোলটি করেন মাথা দিয়ে। পেলের বাবা হেডশটে দক্ষ ছিলেন, তিনি তার বাবাকে সম্মান জানাতে এক ম্যাচে ৫টি হেডশট গোল করেন।


পেলের স্কোর বোর্ড আশ্চর্য হবার মতো। সব মিলিয়ে এই মাস্টার ফুটবলার ১২৮০ গোল করেছেন। পেলে গড়ে প্রতিটি আন্তর্জাতিক খেলায় একটি গোল করেন। তার ঝুলিতে ৯২ টি হ্যাট্রিক এবং ৯৭ টি আন্তর্জাতিক গোল তাকে পরিসংখ্যানের শীর্ষে স্থান দেয়।




অবসর গ্রহণের পরও মাঠ ছাড়েননি তিনি



অবসর গ্রহণের পর, উত্তর আমেরিকায় ফুটবলকে উন্নত করার জন্য পেলে দুই বছরের জন্য ফুটবলে ফিরে আসে। এ সময় তিনি এই চমৎকার খেলাটির প্রতি আমেরিকানদের আকৃষ্ট করার জন্য উত্তর আমেরিকান সকার লিগের হয়ে খেলেন।

তিনি কসমস এবং সান্তসের মধ্যে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন। যার প্রথমার্ধে কসমসের হয়ে এবং দ্বিতীয়ার্ধ সান্তসের হয়ে খেলেন। খেলার মাধ্যমে প্রেম ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

অবসর গ্রহণের পর পেলে কসমস এবং সান্তসের মধ্যে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন। যার প্রথমার্ধে কসমসের হয়ে এবং  দ্বিতীয়ার্ধ  সান্তসের হয়ে খেলেন তিনি; Image Source: Soccertoday.com


ফুটবলের জনপ্রিয়তা জন্য পেলে প্রচুর সময় ব্যয় করেন। তিনি আত্মজীবনী রচনা করেন এবং ফুটবল বা ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে নিজের জীবনের উপর তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন। একটি ডকুমেন্টারি ধরনের চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন তিনি।


ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষে, পেলে তার অভিনয় দক্ষতারও প্রমাণ রাখেন ডকুমেন্টারিটিতে। তিনি একজন সঙ্গীতজ্ঞও ছিলেন। ফুটবল সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে আর্থিক ভাবেও প্রচুর ব্যয় করেছেন তিনি।

সাধারণ দৃষ্টিতে দেখলে যে বিষয়টি সকলের চোখে পরবে তা হচ্ছে পেলের অসাধারণ সফলতা। কিন্তু এই সফলতার কাব্য রচিত হয়েছে নিরলস চেষ্টা আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে। খেলতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে পেলে অশ্রুসিক্ত হয়ে বিদায় নিয়েছেন পরবর্তী ম্যাচে আগের চেয়ে ভালোভাবে ফিরে আসতে।

পেলে এমন একজন ফুটবল খেলোয়াড় যার কাছে ফুটবলই সব; Image Source: espn.com
পেলে এমন একজন খেলোয়াড় যিনি কেবলমাত্র খ্যাতি বা অর্থের জন্য খেলেননি। ফুটবল ছিল তার সবকিছু। ১৯৫০ সালের ফিফা বিশ্বকাপে উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিল পরাজিত হলে বাবাকে কাঁদতে দেখে, তিনি তাকে বলেছিলেন, ‘চিন্তা করো না। একদিন আমি বিশ্বকাপ জিতবো।’ তিনি কথা রেখেছেন। অন্য কোন ফুটবল কিংবদন্তী তার দলকে তিনবার বিশ্বকাপ জেতানোর দাবি করতে পারে না। পেলে আমাদের শিখিয়েছেন একজন সফল মানুষ শিক্ষার অংশ হিসাবে ব্যর্থতা গ্রহণ করে এবং এগিয়ে যায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ