শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

বাংলাদেশ ও ইউটিউব-টীকটক ধান্দা


বাংলাদেশের চলমান অশ্লীলতা ও ইউটিউব সভ্যতা!

এদিক-ওদিক চাইতে চাইতে হারিয়ে গেছে  বাঙ্গালী সভ্যতা কখন, কোথায়, কিভাবে এবং তার কার্যকারিতার বিধি-বিধান এবং যোগ্য কর্তৃপক্ষসহ। আর এই সবকিছুর অভাবেই জাতীয় সভ্যতা ও মানসিকতার বর্তমান নাজায়েজ পরিস্থিতি বলে দেশের গুণীজনরা মনে করেন।

সহজাত প্রশ্নঃ বর্তমান বিবেক কি সেই কথা ভাবেন?

বাংলাদেশের গণ্যমাণ্য বিবেকের সামনে যদি তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের ইউটিউব মিডিয়াকে, তাঁরা কি দেখতে পাবেন?

এখানে বিশেষ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য যে আন্তর্জাতিক গুগলের ভিডিও-মিডিয়া "ইউটিউব" কিন্তু খুব সোচ্ছার শিশু বিষয়ে, অন্তত তাদের প্রগ্ৰাম সর্বক্ষেত্রে সেভাবেই সেট করা দেখা যায়!

অনুসন্ধানী সংবাদকর্মীরা বাস্তবেও খুঁজলে দেখতে পায় যে ইউটিউব স্টুডিওতে সব ভিডিওর আপলোডের পুর্বশর্ত বা একটা সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে যে চিত্র, ভিডিও বা বিষয়টি শিশুতোষ কিনা?


এই ক্ষেত্রের অনুসন্ধানের প্রয়োজনে ইউটিউব মিডিয়ার বাংলা ভার্সনে গিয়ে বাংলা ভাষায় কিছু সাধারণ শব্দ যেমন নোংরা, লুইচ্চা, সেক্সি ইত্যাদি লিখে সার্চ দিলে বেড়িয়ে আসে ভয়াবহ নোংরা অশ্নিল যৌনতার খোলা বাজার!  

বাঙ্গালীদের নিয়ে, বাঙ্গালী মেইড, এইসব ইউটিউব মিডিয়া চালায় আসলে  এরা কারা ও তারা কোন নিয়ম নীতি অবলম্বন করে এমন সব ভিডিও তৈরি করে? 

সহজাত প্রশ্নঃ বাঙ্গালী ভিজ্যুয়াল মিডিয়া সভ্যতা তাহলে কোন দিকে যাচ্ছে?

ডিজিটাল দুনিয়ায় দেশের জাতীয় সভ্যতার উপর ভিত্তি করে মিডিয়া নিয়ন্ত্রকরা এবিষয় নিয়ে কে কি ভাবছেন?

সামাজিক অবক্ষয়, কিশোর গ্যাং, মাদকজগত, দেহব্যবসা একাকার এখন টিকটক থেকে ইউটিউবে, প্রেক্ষাপট 'বাংলাদেশ'। 

দেশের খুন-খারাবি, পেনিক -এর কাজটায় সবচেয়ে মারাত্মক ভুযিকায় এখন কিশোর গ্যাং আর নাবালিকা কিশোরী থেকে সববয়সের নারীদের দেহ প্রায় বিবস্ত্র দেখিয়ে অবাদে ইন্টারনেট মিডিয়ায় বিজ্ঞাপনের মতো(মূল লক্ষ্য‌ও) করে চলছে বেশ্যাবৃত্তির প্রথম ধাপ, দ্বিতীয় ধাপে বাস্তব দেহব্যবসা এবং এই সবকিছুর জন্য সবচেয়ে জরুরী যে বিকৃত মানসিক ক্ষুধাটির দরকার সেই ক্ষুধার একমাত্র খাদ্য হচ্ছে মাদক। মাদক ছাড়া এদের চলেই না বলা চলে!

অনুসন্ধানে প্রকৃতপক্ষে মেলে যে মাঠপর্যায়ের মাদক ব্যবসার প্রধান কর্মচারী হচ্ছে কিশোর গ্যাং ও এসব নোংরা নারী ব্যবসায়ীরা ও নায়িকা মডেল হবার স্বপ্ন দেখা সববয়সের নষ্টনারীরা।


ইউটিউব ও বাংলাদেশ

যখন বাংলাদেশে চলছে মিডিয়া নিয়ে হাজার রকম জটিলতা তখন হাতে হাতে ব্যবহৃত হয় 'ইউটিউব চ্যানেল' নামে খুল্লামখুল্লা নারীর শরীর নিয়ে নোমায়েশ, প্রকাশ্যে শাড়ি চুড়ির বিজ্ঞাপন, শর্টফ্লিল্ম, ভিডিও নামের অজুহাতে ভারতীয় ধাঁচে নারীর শরীর নিয়ে বানিজ্য।

ভারতের কথা বলার কারণ সারাবিশ্বে এই ব্যবসাটি করে ভারত তার দেশে সবচেয়ে বেশী বৈদেশিক মুদ্রা আনছে। এক্ষেত্রে বাঙ্গালীদের কখনোই ভুলে গেলে হবে না যে ভারত ও বাংলাদেশ এক‌ই প্রকৃতির দেশ নয়, ভারত, বাংলাদেশের মানুষের ধর্ম ও কর্ম বিশ্বাস এদু'টো‌ও কোনো ভাবেই এক নয়। 

যে কথা না বললেই নয় যে একশ্রেণীর পাপিষ্ট, ভন্ড শয়তানরা যারা কাঁটা তারের ওপারে শেয়ালের মতো লুকিয়ে জীবনের নারী তসলিমার প্রেমী ও মনারা এদেশের বিশাল শতাংশের নারী সমাজের মনে তাদের নিজেদের শরীরের ক্ষুধা সংক্রান্ত ভাবনাগুলো পঁচিয়ে ফেলার পাঁয়তারা করছে এবং বহুলাংশে কামিয়াব‌ও। যে কামিয়াবির প্রমাণ বাংলা ইউটিউব-টিকটক ধান্দা।

বাংলাদেশের মিডিয়াকে ও দেশের তরুণ প্রজন্মের চরিত্র স্খলন রোধে একটি নির্ভরযোগ্য সেন্সরবোর্ড তৈরি করে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, তার কোনো বিকল্প নাই।।

'শাড়ী' বাঙ্গালী নারীর জাতীয় পোশাক এবং শাড়ী এমন একটি পোশাক যায় সঠিক ব্যবহারে একজন নারী তার শরীরকে এতো নিখুঁত ভাবে ঢেকে রাখতে পারে যে, এমনকি ইসলাম ধর্ম পর্যন্ত একে আদরে গ্ৰহন করতে বাধ্য, আলহামদুলিল্লাহ (ধন্য বাঙ্গালী) ও যার উদাহরণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাড়ী পরা। 

বঙ্গবন্ধু কন্যার  একমাত্র পোশাক ও বাঙ্গালীর 'জাতীয় নারী পোশাক' শাড়ীসহ নারীকে প্রকাশ্যে ইউটিউব মিডিয়ায় তুলে ধরা হচ্ছে যেভাবে তাতে করে অচিরেই এদেশ হারিয়ে ফেলছে তার শাড়ী-সভ্যতা ও নারী-চরিত্র।

এপার ওপার বাংলার সৃষ্টি চলচ্চিত্র ও বাংলাদেশী সভ্যতায় বিকৃতি,


 


বাংলাদেশের তৈরি হাজার হাজার ভিডিও ক্লিপ লক্ষ লক্ষ ভিউয়ার্স, এইসব ভিউয়ার্স‌ও ৯০ ভাগ বাংলাদেশী। 

সারাদেশে যে ইন্টারনেট চলে তাতে 3G থেকে 4G, 5G করে এলিয়ে যাচ্ছে ছবি ও ভিডিওচিত্রের মানগত দিক আর নীচে নামছে এর রূচিবোধ।

বাংলাদেশের হাঁটে মাঠে, গ্ৰামেগন্জে, অজোপাড়াগায় দেখা যায় চব্বিশ ঘণ্টা আবাল বৃদ্ধ বণিতা মোবাইল চালাচ্ছে। ঝোপের ধারে, বাঁশের ঝাড়ে বা ক্ষেতের আড়ালে বসে, কেউ উঠান ঝাড়ু দিতে দিতে বা রান্না ঘরে বসে আপন মনে একা একা দেখছে ইউটিউব ভিডিওস। বিদেশী নয়, সব দেশী আইটেম। এইসব দেখে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বালক বালিকা বয়সেই সাধারণ শিশুদের চরিত্র। তাছাড়া কিশোর কিশোরী,যুবক যুবতী, মধ্যবয়সীরা তো আছেই। 

একটিপেই পেয়ে যায় এইসব সেমিনগ্ন ভিডিও। কানে হেডফোন লাগিয়ে বা শব্দ বন্ধ করে সবাই দেখছে ঘরে-বাইরে বসে চলাচলে। পাশে বসা মা, বাবা ভাই বোন বড়োছোটরা কেউ টের‌ই পায় না পাশে বসে মোবাইলে হচ্ছেটা কি আসলে!

এইভাবে দেখতে দেখতে যখন জৈবিক চাহিদা বেপরোয়া হয়ে ওঠে তখন‌ই ঘটে অঘটন। নিজের শরীরের কাছে নিজেই পরাজিত হয়ে করে বসে শিশু ধর্ষণ অথবা শিশু বয়সেই ধর্ষন। প্রবাসীর স্ত্রী তার ঘরে ছেলেমেয়ে রেখে, বিদেশে থাকা সোহাগের স্বামীর সব অনুদান ভুলে গিয়ে পালিয়ে যায় রাড়ির রাখালের হাত ধরে, সঙ্গে নিয়ে যায় সোনাদানা, টাকা পয়সা অর্থ সম্পদ। 

"লুইচ্চা" শব্দটি ইউটিউবে লেখার সাথে সাথে বাংলাদেশি তৈরি হাজার হাজার ভিডিও ক্লিপ চলে আসে। যার মধ্যে আছে, কাপড় বানানোর টেইলার্স থেকে, শিক্ষক, শিক্ষিকা, বন্ধু, ভাই, বোন, শশুড় শাশুড়ি এমন কি মা ছেলে বা লুউচ্চা বাবা বা মেয়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা ইউটিউব ভিডিও। যা দেখলে ভাবাই যায় না যে এগুলো সব এই দেশের তৈরি কি করে হতে পারে!?

মূলপ্রশ্নঃ একটাই এইসব অপসভ্যতাকে পাহারা দেবার মতো এই দেশে কি কোনো পদক্ষেপ নেই সরকারের কাছে?

কিছুদিন আগের আলোচিত উপর তলার মক্ষীরানী মুনিয়ার শেষ টিকটক ভিডিওর ছবি এটা। মুনিয়া কুমিল্লা, একটি টিন এইজড মেয়ে ছিল, মারা গেছে। এই বয়সেই মুনিয়া এতো বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলো, এমন দুঃসাহস ছিলো তার যে একা একটা মেয়ে একটা অচেনা শহরে থেকে হেন্ডেল করতো অগনিত সংখ্যার পুরুষ মানুষকে। যাদের কে কেমন কি তার কিচ্ছু জানা থাকতো না তার কিন্তু ইন্টারনেটের বদৌলতে সে সাবালিকা হবার আগেই নষ্ট করে ফেলেছে তার চরিত্র। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান অপ্রাপ্ত বয়সেই প্রাপ্ত বয়স্কদের শারীরিক ক্ষুধাটি তার শরীরে নিয়েছিলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে। অবৈধ ছবি আর ভিডিও দেখে তার কিশোরী শরীরেই জ্বলে উঠেছিল অবৈধ আগুন। যে আগুন নেভাতে গিয়ে বোঝার আগেই সব হারিয়েছে, অবশেষে প্রাণটাও। মুনিয়া একাধিক বার বিয়ে করেও চেষ্টা করেছে সেই আগুন নেভাতে কিন্তু যারা তার জীবনে সেই জাহান্নামী আগুন নেভাতে এসেছে তারা সবাই তাকে শুধু ব্যবহার‌ই করেছে নিজে তাপ নিতে। কারণ নষ্ট চরিত্রকে কেউ কখনো নিজের আপন করে ভাবে না।


(ধন্যবাদ দেশপত্র)

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ