শেষ খবর

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widge

Responsive Advertisement

১৪ বছর আগে বিক্রি করে আজ‌ও দখল দেয়না জুয়াড়ি গিয়াস

'দলিল যার জমি তার', এসব ফালতু কথা বলে মনে করেন শিবচরের গিয়াস মাতবর!

(দলিল ও জমির ছবি; সংগৃহীত)

মঞ্জুর মোর্শেদ/এস‌এম জজ মিয়া : দাপুটে অবৈধ ভূমিদস্যুকে এক যুগের‌ বেশি সময় ধরে চেষ্টা করেও উচ্ছেদ যাচ্ছে না বলে অভিযোগ মিলেছে শিবচর উপজেলার এক নিরীহ পরিবারের পক্ষ থেকে। তারা জানান, এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, বিচার শালিসি, এমনকি থানা পুলিশ বা নেতাদের‌ও কোনো তোয়াক্কা করে না এই গিয়াস মাতবর। তার যা ইচ্ছা সে করে, ভুক্তভোগীর কাছে জমি বিক্রি করে ১৪ বছর যাবৎ দখল দেয় না, সে আসলে কোনো কাজেই কাউকে পরোয়া করে না, নেতানেত্রী ও থানা পুলিশ সে তার পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় বলে নিজের মুখেই প্রকাশ্যে বলে। আর এসব কিছুর সত্যতার প্রমাণ মিলেছে যখন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে যে ভুক্তভোগীরা বছরের পর বছর থানা পুলিশ থেকে শুরু করে সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অভিযোগ দিলেও তাদের চলাফেরা করার রাস্তার জন্য ক্রয় করা জমির অধিকারটি বুঝে পাচ্ছেন না কোনো ভাবেই!

তথ্য ও প্রমাণ মতে ভুক্তভোগী দাদন মাতবর ও তার পরিবার গত ১৪ বছর আগে তাদের বসতবাড়ির রাস্তা বানাতে গিয়াস মাতবর গং-এর কাছ থেকে সাফকবলা দলিলে একখন্ড ক্রয় করে কিন্তু আজপর্যন্ত তার দখল বুঝে পায়নি। এনিয়ে দাদন মাতবর ও তার পরিবার শিবচর উপজেলা পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো ভাবেই তাদের ন্যায্য অধিকার বুঝে পায়নি গিয়াস মাতবর গং-এর কাছ থেকে। তারা বলেন, গিয়াস মাতবরের অদৃশ্য হাতের ক্ষমতার কাছে সবাই হেরে গিয়ে ভয়ে চুপ মেরে থাকে, সমাধানের লক্ষ্যে যার কাছেই যাই সবাই একে অপরকে দেখিয়ে দেয়, যেনো কারো কিচ্ছু করার নাই! শিবচর যেনো মগের মুল্লুকের মতো 'গিয়াস মাতবরের মুল্লুক'!

কে এই গিয়াস মাতবর?

(ছবি: গিয়াস মাতবর; সংগৃহীত)
অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের দল মাদারীপুর শিবচর উপজেলায় সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে সাধারণ মানুষের কাছে জানতে পারে যে‌ গিয়াস মাদবর এককালের ধনী বাবার অনৈতিক পথে চলে যাওয়া সন্তান কিন্তু সে মূলতঃ একজন 'জাত-জুয়াড়ী'। জুয়া খেলে সে বাপদাদার অনেক সহায়-সম্পত্তিও নষ্ট করেছেন। আর এই জুয়া খেলার সুবাদেই তার সাথে গুন্ডা বদমাইশ, সন্ত্রাসী দুষ্কৃতিকারীদের সাথে খুব দহরমমহরম এবং একারণেই তাকে সবাই ভয় পায়! তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে যায় না মান ইজ্জত আর জানমালের নিরাপত্তার কথা ভেবে। জানা যায়, এখনও গিয়াসের উঠাবসা জুয়া আর নাশকতার জগতেই, জীবনে সে জুয়া খেলা, লোক ঠকানো ছাড়া আর কিছুই করেন নাই। একাধিক লোক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "ও মারাত্মক খারাপ লোক।"

অনুসন্ধানী প্রতিবেদকের দল শিবচর ঘুরে এসে জানায়, দীর্ঘ ১৪ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও বৈধভাবে ক্রয় করা জমির দখল পাচ্ছেন না অসহায় ভুক্তভোগী দাদন মাতবর ও পরিবার। তারা এমতাবস্থায় অধুনায় গিয়াস মাতবরের বিরুদ্ধে একটি সাত ধারায় মামলা দায়ের করলে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করতঃ এই মর্মে মুসলেকা রেখে ছেড়ে দেয় যে সে উক্ত জমির বিষয়ে আর কোনো প্রকার অবৈধ দখলদারিত্ব বজায় রাখবে না, কাউকে কোনো প্রকারের হুমকি ধামকি দেয়া থেকে বিরত থাকবে কিন্তু গিয়াস মাতবর মহামান্য আদালত‌কেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লাগাতার হুমকি ধামকি দিয়েই চলেছে, দখল বুঝিয়ে দেয়া তো দূরের কথা ইদানিং সে প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে যে সে সবার বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা করে শায়েস্তা করবে। আশেপাশের লোকজন জানায়, আদালত তাকে সকল প্রকারের হুমকি ধামকি দেয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়ার পরে থেকে সে আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দিনরাত চেঁচামেচি ও চিৎকার করে সবাইকে গালাগালি করে চলেছে, অনেকের মতে এসব আসলে তার উস্কানি মূলক কর্মকান্ড, সে চায় দাদন মাতবর পরিবারের কেউ অতিষ্ঠ হয়ে তার প্রতিবাদ করে একটা হাঙ্গামা সৃষ্টি করুক। ওদিকে নিরীহ দাদন মাতবর পরিবারের সদস্যরা তার এইসব চিৎকার, চেঁচামেচি, গালাগালি মুখ বুজে দিনের পর দিন সহ্য করে যাচ্ছে।


'দলিল যার জমি তার' সরকারের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ:

গ্রহীতাবাদি দাদন মাদবর বয়স ৭১; পিতা: মৃত নুরুদ্দিন মাদবর; সাং: রাজারচর ফরাজীকান্দি; ইউপি: সন্ন্যাসী চর; থানা: শিবচর; জেলা: মাদারীপুর তার বাড়ির থেকে যাতাযাতের রাস্তার প্রয়োজনে গত ১৪ বছর আগে দাতা: ১) গিয়াসউদ্দিন মাদবর; বয়স: ৫০; পিতা: মৃত পাঞ্জু মাদবর; ২) সাদ্দাম মাদবর; বয়স: ৩০; পিতা: গিয়াস উদ্দিন মাতবর; উভয়ের সাং: রাজারচর ফরাজি কান্দি; থানা: শিবচর; জেলা: মাদারীপুর -এর কাছ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দেশের আইনানুযায়ী দলিল করে একখন্ড জমি ক্রয় করে যার সাক্ষীরা হলেন,‌ ১) মানিক মোল্লা; ২) সফি মাদবর; ৩) হারুন মাদবর; ৪) তৈয়ব মোল্লা; ৫) ম‌ইনুদ্দীন মাতবরসহ আরো অনেকেই। সরেজমিনে সাক্ষী প্রমাণ ও তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায় যে মোকাম শিবচর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি আদালত হাজির হয়ে দলিলদাতা গিয়াসউদ্দিন মাদবর ও সাদ্দাম মাতবর যথাবিহিত আইনানুযায়ী হলফনামা পূর্ণ করে সকল নিয়ম-কানুন মেনে মোসাম্মদ জাহানারা খাতুন; স্বামী দাদন মাদবরের কাছ থেকে ভূমির বাজার মূল্যের টাকা পরিশোধ বাবদ গ্ৰহন করে সাফ কবলা দলিল গ্রহণ করে দেয়। এমতাবস্থায় সরকারের 'দলিল যার জমি তার' এই ঘোষণাকে তোয়াক্কা না করে এলাকায় ক্রিমিনাল ও জুয়াড়ি বলে পরিচিত গিয়াসউদ্দিন মাদবর গং ভূমি সাফকবলা দলিল করে দেয়ার পরও দখল বুঝিয়ে দেয় না। উপরন্তু ভিন্নভাবে বয়সে বৃদ্ধ দাদন মাদবর এবং তার স্ত্রী মোসাম্মৎ জাহানারা খাতুনকে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে গুন্ডাপান্ডা সঙ্গী সাথীদের নিয়ে। 

দলিল করে দেয়ার পরেও ভিটি ভূমি দখল দিতে তালবাহানা করতে করতে ১৪টি বছর পার করে দিয়েছে গিয়াস মাতবর কিন্তু আজ‌ও সেই জমির দখল বুঝে পায়নি ভুক্তভোগী দাদন মাতবর পরিবার। বিষয়টি  নিয়ে এলাকার গ্রাম্য চেয়ারম্যান মাতবর, সাহেব সরদার, পুলিশ প্রশাসনের নিকট বিচার চেয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরে ফিরেও কোন প্রতিকার নি তারা।

এ বিষয়ে সাং রাজারচর পরাজিকান্দির এক শিক্ষিত জন প্রতিনিধিদের বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টির একটা ফয়সালা দেওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু আমরা তো কিছুই করতে পারছি না, মূলতঃ এখানকার কিছু গ্রাম্য ক্রিমিনাল, বাটপার, ঘুষখোর সাহেব সর্দারদের কারণেই বিষয়টি ফায়সালা দিতে পারছি না। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন যে বর্তমান আওয়ামী সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই নাই এমন প্রায় ২০ লক্ষ মানুষদের জন্য বাড়ি ঘর করে দিচ্ছেন। আর এখানে হতভাগা দাদন মাতবর নিজের পরিশ্রমের টাকা দিয়ে জমি কিনেও তার দখল পায় না! একেমন কথা? দেশে তাহলে পুলিশ প্রশাসন থাকার কি মানে?

তিনি আরো বলেন, "আপনারা সাংবাদিক আপনারা অবশ্যই জানেন যে উপজেলার নির্বাহী অফিসার এসিল্যান্ড তিনি একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট‌ও বটে, তিনারা তথা আমাদের শিবচর উপজেলার সরকারি কর্মকর্তারা তো ইচ্ছা করলেই 'দলিল যার জমি তার' সরকারের এই স্লোগানের উপর ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক এই সমস্যার সমাধান করে ক্রিমিনাল, জুয়াড়িদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়ে সমাজে নজির স্থাপন করতে পারেন। এছাড়াও জমিটি ক্রয় করা হয়েছে রাস্তা তৈরি করার জন্য এবং বাংলাদেশ সরকারের আইনে কারো চলার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার কোনো সুযোগ নাই, তাহলে এতো কিছুর পরেও কেনো ১৪ বছরেও রাস্তার জমির অধিকার বুঝে পায় না বেচারা দাদন মাতবর ও তার পরিবারের সদস্যরা! তবে কি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেয়া সকল প্রতিশ্রুতির চেয়েও জুয়ড়িকেই প্রাধান্য দেয় শিবচরের পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা? নাকি‌এটা অন্য কোন লেনদেনের নতিজা!? নয়তো চলাচলের রাস্তা নির্মাণের উদ্দেশ্যে ক্রয় সুত্রের অধিকারী জমি কেনো ১৪ বছরেও দখল পাবে না ক্রেতারা!?

উল্লেখ্য 'দলিল যার জমি তার' এই শ্লোগানের উপর ভিত্তি করে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করা শুধুই যথাযথ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেয়া সময়ের ব্যাপার। সকলেই মনে করেন, ভূমিদস্যু যত বড় শক্তিশালীই হোক না কেন বর্তমান সরকারের আমলে অবৈধভাবে কেউ কারো জমি দখল করে রাখতে পারবে না কোনো ভাবেই যদি চেয়ারম্যান মেম্বার, উপজেলার পুলিশ প্রশাসন যথাযথ দায়িত্ব এড়িয়ে না চলে। পরের সম্পত্তি জমিজমা অবৈধ দখলবাজি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, সরকার বর্তমানে এবিষয়ে অত্যন্ত সোচ্চার। বিষয়টি নিয়ে শিবচরের সকল শ্রেনী ও পেশার মানুষের সাথে আলাপকালে একজন চল্লিশ উর্দ্ধ বয়সের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি বলেন, "গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রজাতন্ত্রের জায়গা জমির দখল নিয়ে কোর্টকাছারিতে যেসব মামলা মোকদ্দমা রয়েছে তা প্রতিটা জেলার উপজেলা সমূহের এসিল্যান্ডের হাতে সোপর্দ করা একান্ত প্রয়োজন। যেহেতু বাংলাদেশ সরকার এসিল্যান্ডকে ভূমির বিষয়ে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়েছে তাই তাদের পক্ষে জমিজমা সংক্রান্ত এহেনো সমস্যার সমাধান সহজে সমাধান সম্ভব। এমতাবস্থায় যেহেতু একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট‌ও বটে তাই তিনি সরজমিনেম মোবাইল কোর্ট বসিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করে ইচ্ছা করলেই সরকারি সার্ভার দ্বারা আমিনশীপ করে খুঁটি পুঁতে দিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি করতে পারেন।

অনুসন্ধানে আরও মিলেছে, ভুক্তভোগী দাদন মাতাবরের বড় ছেলে নোয়াব মাতবর এবিষয়ে বিগত ১৬/৮/২০২৩ইং তারিখে সহকারী কমিশনার(ভূমি) শিবচর, মাদারীপুর -এর বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

নোয়াব মাতবর বলেন, "সহকারী কমিশনার সাহেব আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।"

উক্ত এলাকার অপর এক মুরুব্বি বলেন, "আমি মনে করি যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমি মন্ত্রণালয় জমিজমা সংক্রান্ত সর্বাধিক ক্ষমতা এসিল্যান্ডকে দিয়েছেন অত‌এব শিবচর উপজেলার এসিল্যান্ড মহোদয় ইচ্ছা করলেই দাদন মাতবর ও তার পরিবারের ১৪ বছরের সমস্যাটি নিমিষেই সমাধান দিয়ে এলাকায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারেন, পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু কন্যার দেয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একটি কার্যকর ভূমিকা বলেও প্রমাণিত হবে।"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ