মঞ্জুর মোর্শেদ :
এদেশের নীতিনির্ধারকরা আসলে কতোটা চরিত্রহীন? স্বজাতির কোমর ভেঙে দেয়াটাই কি একমাত্র পাঁয়তারা নাকি এতে অন্য কোনো ষড়যন্ত্রও রয়েছে!? -এসব যদিও অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রশ্ন কিন্তু যখন প্রক্ষাপট আইন ও আদালত নিয়ে এবং প্রশ্নবিদ্ধ পরিস্থিতিতে উপলব্ধ, তখন অন্যকোনো কোনো কিছুরই কোনো মানে থাকেনা আর থাকলেও তা গ্ৰহনযোগ্য নয়।
![]() |
| (ছবি: প্রতীকী; সংগৃহীত) |
উল্লেখ্য দেশের হাইকোর্টে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ১৭জন অতিরিক্ত বিচারকের মধ্যে ৯জনই এলএলবিতে তৃতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে তথ্য মিলেছে। বাকি ৮ জনের মধ্যেও কেউই এলএলবি বা এলএলএমে প্রথম শ্রেণী পাননি। এ ছাড়া দেশের বেশির ভাগ অতিরিক্ত বিচারকরাই তাঁদের শিক্ষাজীবনের একাধিক পরীক্ষাতেই তৃতীয় বিভাগে পাস করা, -এমনটাই জানা যায়।
দেশের ৩জন অতিরিক্ত বিচারকের অন্তত তিনটি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণী রয়েছে। দৈনিক প্রথম আলোর অনুসন্ধানে এ তথ্য জানা গেছে।
তথ্য ঘেঁটে মিলেছে, ওদিকে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে বর্তমান সরকারের আমলে নিয়োগ দেওয়া ২১১জন সহকারী বিচারকের মধ্যে কারও কোনো পরীক্ষার ফলাফলে তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণী নাই। বরং দেখা গেছে এদের মধ্যে এলএলবিতে ১৫ ও এলএলএম পরীক্ষায় ২৮ জন প্রথম শ্রেণী পেয়েছেন।
যদিও সুপ্রিম কোর্টের নীতিমালায় বিচারক হবার পূর্বশর্ত হিসেবে 'উৎকৃষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা’র কথা বলা আছে। তবে সদ্য নিয়োগ পাওয়া ১৭ অতিরিক্ত বিচারকের মধ্যে ১৫ জনই তাঁদের জীবনবৃত্তান্তে শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করেননি।
প্রশ্ন হচ্ছে, নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত ও শিক্ষাগত যোগ্যতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশিত না করেও বিচারকের পদপদবি নিয়ে বিচারকার্যে অংশগ্রহণ করা কেনো দন্ডবিধি আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবেনা?
বিচারক নিয়োগ নীতিমালার অন্যতম শর্ত, প্রার্থীকে আপিল বিভাগেও স্বতন্ত্রভাবে মামলা পরিচালনায় অভিজ্ঞ হতে হবে। ১৪জন বার-সদস্যের মধ্যে মাত্র ৬জন আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত। আপিল বিভাগে স্বতন্ত্রভাবে মামলা চালানোর অভিজ্ঞতার কথা অনেকেই উল্লেখ করেননি, অর্থাৎ তথ্য ধামাচাপা দেয়ার অপরাধের অপরাধী হিসেবে গণ্য।
গত ১৮ এপ্রিলের শপথ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ১৭ অতিরিক্ত বিচারকের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করে।
উল্লেখ্য প্রধান বিচারপতি নিম্ন আদালতের প্রত্যেক বিচারকের সম্পদ, দায়দেনা ও শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ যে ১৩ ধরনের তথ্য চেয়েছেন, অনেকে এখনও তা দেননি। এজন্য সম্প্রতি কড়া ভাষায় তাগাদাপত্র গেছে বলে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত তাগাদাপত্রে তথ্য না দিলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কঠোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বলে জানা যায়। কোনো তথ্য অসত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অসদাচরণের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।
ওদিকে বিদায়ী রেজিস্ট্রার শওকত হোসেন ও কৃষ্ণা দেবনাথ ওই তথ্য দেননি বলে জানা যায়।
🔘 নিম্নে আলোচ্য বিচারকগণের নিজেদের পেশ করা স্ব স্ব শিক্ষাজীবনে অর্জিত ফলাফল তুলে ধরা হয়েছে:
১) রেজিস্ট্রার শওকত হোসেন: তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক সম্মান ও এমএ ডিগ্রি নেন। তাঁর জীবনবৃত্তান্ত অনধিক ৩০০ শব্দের। এতে কোনো পরীক্ষার ফলাফল উল্লেখ করেননি। আইনে তাঁর একমাত্র ডিগ্রি এলএলবি। কিন্তু সেটি কোন প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া, তা কোনো গোপনীয় নথিতেও মেলেনি! সম্মান ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষাতেও তিনি দ্বিতীয় শ্রেণী পান এসংক্রান্ত মিললেও তাঁর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসংক্রান্ত কোনো তথ্য জানা যায়নি।
২) কৃষ্ণা দেবনাথ: তিনি ছিলেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ। তিনি তাঁর এক পৃষ্ঠার বৃত্তান্তে কোনো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেননি। যদিও তিনি সব পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ পেয়েছেন বলে মৌখিক তথ্য মিলেছে।
৩) অতিরিক্ত বিচারক মো. ফারুক: এসএসসি ও এইচএসসি বাদে অন্য তিনটি পরীক্ষার ফলাফল জীবনবৃত্তান্তে প্রকাশ করেছেন। তিনটিতেই দ্বিতীয় শ্রেণী। তাঁর আইনে একমাত্র ডিগ্রি 'এলএলবি'। ১৭ জনের মধ্যে তিনিই জ্যেষ্ঠ। তিনি হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে মামলার পরিসংখ্যানও প্রকাশ করেন। এখানে যে কথাটি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য তা হচ্ছে, বার কাউন্সিলের প্রত্যেক সদস্যের এসএসসি ও এলএলবি'র সনদদ্বয় যদিও সত্যায়িত অনুলিপি থাকা বাধ্যতামূলক কিন্তু তাঁর এসএসসির সনদ টাইপ করা, সইবিহীন ঐ এলএলবির সনদটি হাতে লেখা।
৪) এ এন এম বশির উল্লাহ: তিনি ছিলেন ঢাকা মহানগর জজ। ৩জেলা জজদের মধ্যে একমাত্র তিনিই সুপ্রিম কোর্টে তাঁর তথ্য দেন। তিনি এসএসসিতে প্রথম ও এইচএসসিতে দ্বিতীয় বিভাগ এবং এলএলবি সম্মান ও এলএলএমে ‘কৃতিত্বের’ সঙ্গে উত্তীর্ণ হন বলে উল্লেখ করেন। অবশ্য জীবনবৃত্তান্তে এ ২টি পরীক্ষার ফলাফলের বৃত্তান্ত তিনি দেননি। তবে মৌখিক ভাবে জানা যায়, দুটোতেই তাঁর দ্বিতীয় শ্রেণী রয়েছে।
৫) এফ আর এম নাজমুল আহসান: তাঁর নামের পূর্ণরূপ জানা যায়নি, তাঁর এসএসসির সনদেও এর কোনো উল্লেখ নেই। তাঁর বৃত্তান্ত এক পৃষ্ঠার। এতে তিনি ৪টি সম্মেলনে যোগদানের তথ্য দিয়েছেন। তবে কোনো মামলা পরিচালনা সংক্রান্ত তথ্য তিনি সেখানে তিনি উল্লেখ করেননি। নিজ-শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে শুধু লিখেছেন: বিএ অনার্স, এমএ, এলএলবি। জানা যায়, ১৯৭০ সালের এসএসসি পরীক্ষায় তিনি ‘পাস’ করেন। এর এক যুগ পর এলএলবি ডিগ্রি নেন (তৃতীয় শ্রেণী)। ১৯৮৪ সালে তিনি অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন।
৬) আবদুর রব: তিনি নতুন বিচারক, তিনিও তাঁর কোনো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেননি। জানা যায়, আইনে তাঁর একমাত্র ডিগ্রি এলএলবি, তৃতীয় বিভাগ। তিনি ওকালতি পড়েন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেওয়ার সাত বছর পর। স্কুলের ছাত্র ইউনিয়ন শাখা বা হল সংসদের জিএস থাকা, এমনকি ব্যক্তিগত শখের তথ্যও তিনি প্রকাশ করলেও তাঁর স্বাধীনভাবে মামলা পরিচালনা সংক্রান্ত কোনো তথ্য দেননি।
৭) কাজী রেজাউল হক: তথ্য মতে তিনিই সবচেয়ে তুখোড়। তিনি তাঁর প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল যথাযথভাবে প্রকাশ করেন। তাঁর কোনো তৃতীয় বিভাগ/শ্রেণী নেই। পিএইচডি, এমবিএ ও এলএলএমে তাঁর বিদেশি ডিগ্রি আছে। তবে আপিল বিভাগে স্বতন্ত্রভাবে মামলা পরিচালনার কোনো তথ্য তিনি দেননি।
৮) আবু জাফর সিদ্দিকী: তাঁর দুই পৃষ্ঠার বৃত্তান্তটি অত্যন্ত চমকপ্রদ। তিনি ক্ষুদিরাম থেকে লালন শাহ পর্যন্ত কুষ্টিয়ার সব মনীষী ও প্রসিদ্ধ স্থানের নাম উল্লেখ করার পরে বলেন যে এ রকম একটি জেলাতেই তাঁর জন্ম। তিনি যদিও তাঁর স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন কিন্তু নিজের সম্পর্কে এবিষয়ে দেননি। জানা যায়, এসএসসিতে তিনি তৃতীয় বিভাগ পান। কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক থাকার তথ্যটি তিনি চেপে গেছেন। এছাড়াও তাঁর কুষ্টিয়ায় এপিপি এবং বিশেষ পিপি হিসেবে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতাও তিনি প্রকাশ করেননি। আপিল বিভাগের আইনজীবী তিনি নন। তবে তার তথ্যে মোটা হরফে উল্লেখ করা মেলে যে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় সরকার নিযুক্ত অন্যতম কৌঁসুলি হিসেবেও আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।
৯) এ কে এম জহিরুল হক: তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে ঠিকাদার এবং মেয়ের জামাই পিএইচডি করার মতো তথ্যও দেন বটে কিন্তু অজানা কারণে তিনি তাঁর নিজের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল গোপন রাখেন। জানা যায়, এইচএসসি পাসের চার বছর পর তিনি বিএসসি ডিগ্রি নেন, যদিও এর ফলাফল জানা সম্ভব হয়নি এবং আইনে তাঁর একমাত্র ডিগ্রি এলএলবি (তৃতীয় শ্রেণী)। ওদিকে তথ্য অনুসন্ধানে মিলেছে, গত ২৯শে আগস্ট ১৯৮৪ইং, তিনি বার কাউন্সিলে তার করা এক আবেদনে উল্লেখ করেন, ‘আমি গত বছর অনুষ্ঠিত অ্যাডভোকেটশিপ পরীক্ষায় পাস করিনি। আমাকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দিন।’ উল্লেখ্য গত বছর জুলাইয়ে তিনি অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হন। জহিরুল হক অবশ্য দাবি করেন, তিনি হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেছেন। এর মধ্যে তিনি নির্দিষ্টভাবে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও পঞ্চম সংশোধনী মামলার কথা উল্লেখ করেন।
১০) জাহাঙ্গীর হোসেন: তাঁর জীবনবৃত্তান্ত এক পৃষ্ঠার। ’৯২ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারে তালিকাভুক্ত হলেও ঢাকা বারে তিনি সক্রিয় ছিলেন। তিনি পিপি হিসেবে বিশেষ পরিচিত। তবে আপিল বিভাগে আইনজীবী হতে তাঁর আবেদন মঞ্জুরও হয়নি। শিক্ষাগত যোগ্যতা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমকম ও এলএলবি উল্লেখ করেন। জানা যায়, এসএসসিতে তৃতীয় বিভাগ ও এলএলবিতে পেয়েছেন তৃতীয় শ্রেণী। তিনি দুটি মামলা পরিচালনার তথ্য দেন। তাঁর কথায়, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আপিল বিভাগে সহায়তা এবং একই মামলায় দায়রা আদালতে বিশেষ পিপির দায়িত্ব পালন করেন। তথ্য মতে, ’৮৫ সালে আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় তিনি অকৃতকার্য হন।
১১) শেখ মো. জাকির হোসেন: তিনিও তাঁর কোনো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেননি। এসএসসি ও এলএলবিতে তৃতীয় বিভাগ পান এবং এইচএসসি পাস করতে তাঁর তিন বছর লেগেছে বলে জানা যায়, তবে তার ফলাফলটি জানা যায়নি। অভিজ্ঞতা হিসেবে লেখেন, তিনি ‘হাইকোর্টের অধস্তন বিভিন্ন কোর্টে বিভিন্ন ধরনের’ মামলা পরিচালনা করেন। জজ কোর্টে ৫ ও হাইকোর্টে ১৭ বছর কাটান। তিনি আপিল বিভাগে কখনো মামলা পরিচালনা করেছেন বলে দাবিও করেননি। তাঁর একটি ‘ল’ ফার্ম আছে। তাঁর ভাষায়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আয়কর, রিট ইত্যাদি মামলা করার অভিজ্ঞতা আছে।
১২) মো. হাবিবুল গনি: তিনি ‘পাঠ্যসূচি বহির্ভূত’ হিসেবে অর্ধডজন বিষয় উল্লেখ করেন তার উপস্থাপিত বৃত্তান্তটিতে। এমনকি এতে তিনি ১৫বার দেশে-বিদেশে রক্তদানের তথ্যও দেন কিন্তু তিনি তাঁর শিক্ষাজীবনের পরীক্ষাসমূহের ফলাফল গোপন রাখেন। তবে জানা যায়, এইচএসসি ও বিএ পরীক্ষায় তিনি তৃতীয় বিভাগ পান। আইনে তাঁরও একমাত্র ডিগ্রি এলএলবি। এতেও তৃতীয় শ্রেণী পান। তিনি দেওয়ানি, ফৌজদারি, রিট, অ্যাডমিরালটি ও কোম্পানি বিষয়ে অভিজ্ঞ দাবি করেন কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট মামলার তথ্য দেননি।
১৩) গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর: তিনিও তাঁর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেননি। আইনে তাঁর একমাত্র ডিগ্রি এলএলবি, তৃতীয় শ্রেণী পান। স্নাতকেও তাঁর তৃতীয় বিভাগ। তিনি অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে ’৮৪ সালে সেলিম-দেলোয়ারের সঙ্গে ট্রাকচাপার ঘটনায় আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন। এতে তাঁর পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে একথাও উল্লেখ করেন। আপিল বিভাগের আইনজীবী হন ২০০৯ সালে। তিনি উল্লেখ করেন, তাঁর অংশগ্রহণ করা বেশ কিছু মোকদ্দমা বিভিন্ন ‘ল’ জার্নালে ছাপা হয়েছে।
১৪) শেখ হাসান আরিফ: তিনি ২০০৫ সালে বার অ্যাট ল হওয়ার তথ্য দেন কিন্তু তিনি অন্য কোনো পরীক্ষার ফলাফল বা পাসের বছর প্রকাশ করেননি, এমনকি মামলা পরিচালনা সংক্রান্ত কোনো তথ্যও দেননি। এমনকি আপিল বিভাগের আইনজীবীও তিনি নন। তিনি এইচএসসি, বিকম ও এলএলবিতে তৃতীয় বিভাগ পান বলে জানা যায়। তথ্য মতে, তিনি ’৯৫ সালে এক দরখাস্তে আবেদন করে বলেন, ‘আমি বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কৃতকার্য হতে পারিনি। আমাকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিন'। তিনি ২০০৫ সালে তিনি লিঙ্কনস ইন থেকে বার অ্যাট ল ডিগ্রি অর্জন করেন বলে উল্লেখ করেন। এ ছাড়া লন্ডনের উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি অনার্স ডিগ্রির কথাও উল্লেখ করেন কিন্তু এতে ফলাফল বা পাসের বছর বলা নেই।
১৫) জে বি এম হাসান: তিনি জীবনবৃত্তান্ত ১০০ শব্দের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। কোনো তৃতীয় বিভাগ নেই। এলএলবি অনার্স ও এলএলএমে তিনি উচ্চতর দ্বিতীয় শ্রেণী পান। মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা সংক্রান্ত কোনো তথ্য তিনি দেননি। বর্তমান সরকারের আমলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হন। ১৫ জনের মধ্যে তিনি কনিষ্ঠতম।
১৬) মোঃ খসরুজ্জামান: এছাড়াও শপথ পাঠ না করা অপর দুই অতিরিক্ত বিচারকদ্বয়ের অন্যতম মোঃ খসরুজ্জামান, তিনি এসএসসিতে প্রথম, পরের তিনটি পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ পান। হাইকোর্ট বিভাগে প্রায় ১৪ বছর দেওয়ানি, ফৌজদারি ও রিট বিষয়ে মামলা পরিচালনায় অভিজ্ঞ বলে দাবি করেন বটে কিন্তু তিনি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি। তিনি ডিএজি হিসেবে আপিল বিভাগে মামলা করেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি এ পদে নিয়োগ পান বর্তমান সরকারের আমলে। তাঁর বর্তমান স্থায়ী ঠিকানা খুলনার দৌলতপুর। কিন্তু একসময় যে তা গোপালগঞ্জের বিজয়পাশায় ছিল, তা তিনি উল্লেখ করেন।
১৭) মো. রুহুল কুদ্দুস: তিনি ডিএলআর, বিএলডি ও এমএলআরে প্রকাশিত ১৩টি মামলায় যুক্ত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছেন। তবে তাঁর শিক্ষাজীবনের কোনো পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেননি। জানা যায়, ’৮১ সালে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে ভর্তি হন। স্নাতক সম্মানে অধ্যয়ন করেন ৫ বছর। ’৮৬ সালে পরীক্ষা হয়, এতে তিনি অকৃতকার্য হন। সে কারণে তাঁকে বিএ পাসের একটি অনুকম্পা ডিগ্রি দেওয়া হয়। আইনে তাঁর একমাত্র ডিগ্রি এলএলবি। এতে তিনি তৃতীয় শ্রেণী পান।

0 মন্তব্যসমূহ
Do good not be good.
- সাফকথা